Posted in

নদী-মাতৃক নেত্রকোনায় ঐতিহ্যবাহী কাডা কমে যাচ্ছে!

নেত্রকোনা থেকে মো. অহিদুর রহমান

নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের বুক চিরে বয়ে চলেছে অসংখ্য নদ-নদী। কৃষি, মৎস্য, সংস্কৃতি ও সভ্যতার জন্য নদী মানুষের পরম বন্ধু। যে এলাকা দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়েছে সেই এলাকার মানুষের মাছের, সেচের, গোসলের পানির এবং যাতায়াতের জন্য নদ-নদীগুলো ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। নদীতে থাকতো হরেক রকম মাছ। আর এই মাছগুলোকে ধরার জন্য গ্রামের মানুষজন নদীতে গাছের ডাল, গাছের গুড়া এবং বাঁশ পুতে কচুরিপানা দিয়ে এক ধরনের বিশেষ বন্ধনী তৈরি করত যাতে মাছ এই এলাকায় আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে জাল দিয়ে ঘিরে তারা যেন মাছ ধরতে পারে। মাছ ধরার জন্য বিশেষ এই বন্ধনীকে গ্রাম বাংলায় কাঠা বা কাডা বলা হয়ে থাকে। জলাশয়ের যেখানে সাধারণত কোন ঝোপঝাড় থাকে সেখানেই বেশি পরিমাণে মাছ অবস্থান করে। সেই ধারণা বোধ থেকেই নদীতে মাছদের জন্য কৃত্রিমভাবে ঝোপ-ঝাড় তৈরি করে দেওয়া হয় যাতে মাছ সেখানে আশ্রয় নেয়।
dsc04212
নেত্রকোনা জেলার মগড়া, সাইডুলি, পাটকুড়া, বিষনাই, ধনু, উব্দাখালী নদীতে একসময় শত শত কাডা বা কাঠা দেখা যেত। কাডাতে পাওয়া যেত দেশীয় বোয়াল, আইড়, গণিয়া, পাবদা, শোল, গজার, গুলশা, টেংরা, বাতাসী, চিতল, গাংমাগুরসহ নানা প্রজাতির মাছ। পৌষ মাসের প্রথম থেকেই জেলেরা কাডাতে জাল দিয়ে ঘেরাও দেওয়া শুরু করতেন। বেড় বা ঘেরাও দেওয়া শেষ হলে মাছ ধরা শুরু হত। প্রায় এক সপ্তাহ লাগতো একটি কাডার মাছ তোলা সম্পন্ন করতে। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুণ, চৈত্র ও বৈশাখ মাস পর্যন্ত জেলেদের একটি বড় অংশ এ কাজের সাথে যুক্ত থাকতেন। এই সময় জেলে পরিবারের আয় নির্ভর করত কাডা ভাঙা বা কাডা থেকে মাছ সংগ্রহ করে দেওয়ার মাধ্যমে।

কাডা থেকে মাছ তোলার সময় গ্রামে এক ধরনের উৎসবমূখর ভাব থাকতো। গ্রামের মানুষজন কাডা থেকে তরতাজা বড় বড় বোয়াল, আইড়, গণিয়া, পাবদা, শোল, মাছ কিনে বাড়ি নিয়ে যেত। তবে বর্তমানে গ্রাম বাংলার নদীগুলোতে ওই উৎসবমূখর পরিবেশ খুব কম চোখে পরে। এই অঞ্চলের নদীগুলো দিন দিন তার নাব্যতা হারাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে কাডা দেওয়ার যে সময় অর্থ্যাৎ পৌষ মাঘ মাসেই নদী শুকিয়ে যাচ্ছে নদীতে পানি না থাকায় জেলেরা নদীতে কাডা দিতে পারছে না। সেসময় নদীতে হয় ধান চাষ হচ্ছে অথবা মরা নদীর বুকে মাছের পরিবর্তে গরু, ছাগল চরে বেরাচ্ছে। আবার যেসব নদীতে পানি ও মাছ দুটোই আছে কিন্তু প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় সেই নদীগুলেতেও কাডা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.