Posted in

খাদ্য সংকট মোকাবেলায় অচাষকৃত শাকসবজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

রাজশাহী থেকে সুলতানা খাতুন

আমাদের বাড়ির আশেপাশে পতিত জায়গায় প্রাকৃতিকভাবে যে সকল শাকসবজি জন্মে তাকে অচাষকৃত শাকসবজি বলে থাকি। যে সকল শাকসবজি আমাদের আশেপাশে সচরাচর পাওয়া যায় সেগুলো হল-সানছি, গিমা, শুনশুনি, বথুয়া, নোনতা, ডুমুর, হেলেনচা, গাইখুড়া, কলমি, কচু, কালকাশিন্দাসহ আরও অনেক প্রজাতি শাক পাওয়া যায়। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এসব উদ্ভিদে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টির উৎস রয়েছে। এসকল খাদ্য খাবার ফলে আমাদের গ্রাম অঞ্চলের মানুষের পুষ্টির চাহিদা অনেকটা পূরণ হয়ে থাকে।

তবে কিছু কিছু উদ্ভিদ আমাদের মধ্যে থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। আবার কিছু উদ্ভিদ বিলুপ্তপ্রায় যেমন গিমা শাক। এ শাকটি আমাদের আশেপাশে খুব একটা দেখা যায় না এখন। অনেকে মনে করেন জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে অচাষকৃত উদ্ভিদগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে আগাছা মনে করে উপড়ে ফেলছেন। আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বন্যার সময় পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

করোনাকালিন সময়ে অচাষকৃত শাকসবজি ব্যবহার গ্রাম অঞ্চলে অনেকটাই বেড়েছে। বাড়ির আশেপাশে থেকেই পুষ্টি গুণ সম্পূর্ণ বিষমুক্ত টাটকা অচাষকৃত শাক তুলে রান্না করে খেতে পারছেন। বিলনেপাল পাড়া নারী সংগঠনের তেমনি একজন নারী সুন্দরী বেগম। তিনি বলেন, সপ্তাহে দুই একদিন অচাষকৃত শাক রান্না করে খাই। তাতে আমার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা অনেকটায় পূরণ হয়ে যায় ও বাজার খরচও সাশ্রয়ী হয়। যারা এসব উদ্ভিদের পুষ্টি ও ঔষুধি গুণাবলী জানেন তারা এসব উদ্ভিদকে সংরক্ষণ ও বাঁচানোর উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। আমার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় অচাষকৃত উদ্ভিদ এর পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

 উল্লেখ্য,বিলনেপালপাড়ায় গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর বারসিক ও বিলনেপাল পাড়া নারী সংগঠনের উদ্যেগে অচাষকৃত শাক সবজির রান্নার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সে অনুষ্ঠানে ২৫ জন নারী অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া ও বিভিন্ন সময়ে সভা, উঠান বৈঠক, অচাষকৃত শাকসবজি পাড়ামেলা ও বিভিন্নভাবে এলাকার মানুষদের সচেতন করা হয়। ফলে কিছুটা হলেও মানুষের মধ্যে অচাষকৃত উদ্ভিদের ব্যবহার বেড়েছে। মানুষ বুঝতে পেরেছেন পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অচাষকৃত উদ্ভিদ কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.