সাম্প্রতিক পোস্ট

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা তৈরি করবে মানিকগঞ্জের যুব সমাজ

::মানিকগঞ্জ থেকে মো. নজরুল ইসলাম
DSC04017নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা তৈরি করার দায়িত্ব নিয়েছে মানিকগঞ্জ জেলার ৬টি উপজেলার তরুণরা। সাধারণ মানুষকে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানাবেন এ তরুণরা। মানিকগঞ্জে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সচেতনতা তৈরির এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁরা। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মো. সোহেল রানা, ঘিওরের আমিনুল ইসলাম আলাল, শিবালয়ের আলমগীর হোসেন, সিঙ্গাইরের মো. আলামিন মিয়া, হরিরামপুরের সোলাইমান হোসেন, দৌলতপুরে-লাভলী মীর প্রত্যেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত ও সচেতন করে তোলার দায়িত্ব নেবেন বলে জানান।

সভায় সোহেল রানারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই তাঁরা প্রত্যেকে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ রোপণ করেছেন নিজ বাড়িতে, রাস্তার পাশে এবং স্কুলের মাঠে এবং অন্যকেও উৎসাহিত করেছেন। সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা বাল্যবিবাহ, যৌতুক, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার জন্য প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতা তৈরির কাজ করেছেন। এছাড়া স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রাস্তাঘাট, ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে সহায়তা করেছেন, বিনামুল্যে রক্তদান ও পাঠদান করেছেন। এক্ষেত্রে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত ও সচেতন করে তোলার কাজটি হবে তাঁদের প্রাত্যহিক কাজেরই একটি অংশ। তাঁরা DSC04006বলেন. “আমরা সবাই আমাদের স্ব স্ব এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত ও সচেতন করে তোলার কাজ করবো। এ সম্পর্কে যত রকমের তথ্য ও সেবা রয়েছে সেগুলো তাঁদের কাছে পৌঁছানোর কাজ করবো। এক্ষেত্রে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে জ্ঞান এবং তথ্য আমরা সবাই সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পাওয়ার প্রত্যাশা করি।”

সভায় যুব স্বেচ্ছাসেবক টিমের জেলা আহবায়ক মো. সোহেল রানার সভাপতিত্ত্বে আলোচনায় অংশ নেন বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল রায়, বারসিক’র প্রবীণ অধিকার বিষয়ক জেলা সমন্বয়কারি মো: জাহাঙ্গীর আলম, গবেষক বাহাউদ্দিন বাহার প্রমুখ। আলোচনায় বক্তারা পড়াশোনার পাশাপাশি তরুণদের নানান সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং পরিবেশ সুরক্ষা সম্পর্কিত কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, “সমাজের প্রতি তরুণদের একটি দায়বদ্ধতা আছে। একটি উন্নত ও স্থায়িত্বশীল সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তরুণদের সেই উদ্যম, সক্ষমতা, তারুণ্য ও শক্তি রয়েছে। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।” বক্তারা বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির মজুদ ফুরিয়ে আসছে। ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে। সেটি মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য এখনই সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে, সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।” তারা আরও বলেন, “জীবশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে গেছে। তাই শুধু ফেসবুকে নয়; বাস্তবেই আমাদের সংঘবদ্ধ হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি করার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার অন্যতম একটি পদক্ষেপ হতে পারে। এই জ্বালানির ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে জনগণকে তথ্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণরাই এগিয়ে আসতে পারে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: