Posted in

একজন উদ্যোগী নারী দিপালী রানী

আসাদুল ইসলাম, আশাশুনি, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর বাঁধের পাশেই বসবাস দিপালী রানী ও তার পরিবারের। নদীতে মাছ আর কৃষি কাজ করেই ভালোই চলতো দিপালীদের সংসার। কিন্তু ২০০৯ সালে আইলার পর থেকে একের পর এক বাঁধ ভেঙে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় দিপালীরা। সর্বশেষ ২০২০ সালে আম্পান তাদের জীবনযাপনকে দূর্বিসহ করে তুলেছে। ফসলের জমিসহ বাড়িঘর সব নষ্ট করে দিয়েছে আম্পান। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘটে যাওয়া দুর্যোগগুলোর সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েই চলছেন দিপালীরা। প্রতিনিয়ত ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম করছেন তাঁরা।


দিপালী রানীর ৪ জনের সংসার। ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়েটি ৭ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। মাত্র ৫ শতাংশ জায়গায় তাদের বসবাস। স্বামী কমল চন্দ্র সরদার অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করেন। আইলা-আম্পানে যখন সব কেঁড়ে নিয়েছে দিপালীদের তখন পরিবারের হাল ধরতে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও বিভিন্ন মৎসঘেরে কাজ করেছেন তিনি। তবে নোনা পানিতে কাজ করা শরীরে পেরে না উঠায় সেটিও করা সম্ভব হয়নি। একসময় হতাশায় পড়ে যান দিপালী। বাড়ির অল্প জায়গায় পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি লাগিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অল্প কিছু বিক্রি করে চলতে থাকে। কিন্তু স্বামীর একার আয়ে সংসার চলা দায়।


এমন সময় ২০২১ সালের শেষে বারসিক ও নেটজ বাংলাদেশের সহযোগিতায় পরিবেশ প্রকল্পের অংশগ্রহণকারী হিসেবে যুক্ত হন এবং সেখান থেকে ১৩ হাজার ৫শ’ টাকার সহযোগিতা নেন। নিজ বাড়িতেই মুুদি দোকান দেন এবং হাঁস-মুরগি পালন শুরু করে। সাথে ছাগাল পালন। কিন্তু কুকুরে কামড়ে ছাগাল মারা গেলেও মুদি দোকান ও হাঁস-মুরগি পালনে সফল হন দিপালী রানী। মুদি দোকানের লভ্যাংশ দিয়ে বাড়িতে থাকা ডোবাতে সাত হাজার টাকা খরচ করে দেশীয় শোল মাছের ৭ হাজার পোনা ছেড়েছেন। এছাড়া বর্তমানে ১৫টির মত হাঁস রয়েছে। দোকানের আয় দিয়ে সঞ্চয়ের পাশাপাশি সংসারেও সহযোগিতা করছেন।


শুধু মুদি দোকান ও হাঁস-মুরগি পালন নয়; নিজ বাড়ির পরিত্যাক্ত জায়গাটিতে গড়ে তুলেছেন সবজি বাগানে। পেঁপে, লাউ, কুমড়া, পুইশাক, সীম, চাল কুমড়া, ঢেড়শ, ওল, কচুসহ অসংখ্য সবজি চাষ করেছেন। দিপালী জানান, এবছর প্রায় ৫ হাজার টাকার কাঁচা ও পাকা পেঁপে বিক্রি করেছেন। এছাড়া লাউ ও কুমড়া বিক্রি করেও কিছু টাকা আয় করেছেন। নিজেদের সবজির চাহিদা এখন নিজ বাড়ি থেকেই মিটছে বলে জানান তিনি।


দিপালী আরো জানান, পরিবেশ প্রকল্প থেকে পাওয়া সম্পদ তার ভাগ্য বদলিয়েছে। এখান থেকে পাওয়া কৃষি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ তিনি কাজে লাগাচ্ছেন। এছাড়া তাদের সিএসও গ্রুপে সঞ্চয় করে সেখানে দেড় হাজার টাকা এবং দুর্যোগ ব্যাংকেও কিছু টাকা জমিয়েছেন। এখন তার সংসারে অভাব দূর হয়েছে। স্বামীর পাশাপাশি নিজেও সংসার দেখছেন। অন্যের কাজ না করে এখন নিজ বাড়িকেই নিজের কর্মক্ষেত্র করেছেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.