Posted in

আমরা বীজ সংরক্ষণ করতে চাই

সাতক্ষীরা, শ্যামনগর থেকে চম্পা মল্লিক

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে লবণাক্ততা ও বীজ সংরক্ষণ বিষয়ে আলোচনা সভা আনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। এই সভাতে মথুরাপুর গ্রামের ১৫ জন জনগোষ্ঠীসহ বারসিক কর্মকর্তা চম্পা মল্লিক উপস্থিত ছিলেন।

সভাতে অংশগ্রহণকারীরা লবণাক্ততা ও বীজ সংরক্ষণ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা যে সকল ফসল চাষ করতাম তার বীজ আগে আমরা সবাই প্রায় বাড়িতেই রাখতাম। কিন্তু এখন আমাদের বীজটা সংগ্রহ করতে হয়, বাজার ও কৃষি অফিস থেকে, কারণ এখন সবাই বীজ রাখেন না। তবে কেউ কেউ কয়েক ধরনের বীজ নিজেদের ঘরে সংরক্ষণ করেন।’

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কল্পনা রানী বলেন, ‘আগে আমরা অনেক ধরনের বীজ রাখতাম। যেমন-সবজি বীজের ভিতরে পুঁইশাক, পালং শাক, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙে, তরুল, ঢেঁড়স, বরবটি, কচুমুখি, ওল, হলদি, চাষী আলু, মিষ্টি আলু এবং ধানের মধ্যে যেসব বীজ রাখতাম তা হল-বড়ান ধান, খেজুরছড়ি, দারশাইল, গেতী, কালোজিরা, হুড়কুন, চিনিকানী, বয়ারবোট, ঘুনসী, লাল পাটনাই, সাহেব পাটনাই। আর এখন তেমন কেউ বীজ রাখেনা বললেই চলে।’ তিনি আরও বলেন, যদিও দু একজন বীজ রাখে তাও সব প্রকারের না। এক একজনের কাছে এক এক রকম। সব মিলিয়েই এখন যেসব সবজি বীজ রাখে তা হল-লাল শাক, পালং শাক, ঢেঁড়স, পুইশাক, লাউ, তরুল, বরবটি, ঝিঙে, চালকুমড়া, বেগুন, শোসা, কুঁসি। আর ধানের বীজ বলতে-২৮ ধান, ৩০ ধান,ও বি-আর-১০।’

সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, এখন বীজ সংরক্ষণ খুব কম করে মানুষ। কারণ তারা যে বীজ রাখেন তা আগের মত ফোটে না, ফসল কম হয় আবার কখনো গাছ হয় কিন্তু ফল হয়না। তাছাড়া এখন কুয়াশা খুব বেশি পড়ে এবং মাটিতে আগের তুলনায় লবণ ও খুব বেড়ে গেছে ফলে, ফল ভালো ও পুষ্ট হয় না আর বীজ ও রাখা যায় না। কিন্তু আগে তাদের ফসল খুব ভালো ও পুষ্ট হতো। তখন ধান গাদিতে তোলার আগে বীজের জন্য, ভালো বিড়ে বেছে নিয়ে রোদে শুকিয়ে মাটির তৈরি মেটে, মাটির কলস, অথবা বাঁশের ডোলে ভরে মাটি দিয়ে মুখ আঁটকে রাখতেন অনেকে।

অন্যদিকে সবজি বীজের জন্যও খুব ভালোগুলো বাছাই করে রোদে শুকিয়ে কাঁচের বোতলে ভরে রাখতেন তারা। কিন্তু বর্তমানে তারা ধান বীজ রাখেন প্লাষ্টিকের ড্রামে ও সবজি বীজ রাখেন পলিথিন ও প্লাষ্টিকের বোতলে। এসব পাত্রগুলো লবণে কোন ক্ষতি করে না। তবে এই বীজ থেকে চারা ঠিকমত গজায় না।

অংশগ্রহণকারীরা জানান, আগে নারীরা সবজি বীজের দিকে খেয়াল রাখতেন এবং পুরুষেরা ধান বীজের খেয়াল করতেন। এখনও তাই। তবে একে অন্যকে সাহায্য করতেন। তবে তারা বলেন, ‘বীজ সংরক্ষণের খরচটা আগের থেকে এখন বেড়েছে। কারণ এখন বীজ রাখার জন্য পাত্র কেনা লাগে এবং পোকামাকড়ের হাত থেকে বীজ রক্ষা করতে ঔষধপত্র ও কিনতে হয়।’

এছাড়া ও তারা বলেন, এই বীজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাদের অনেক সমস্যার সন্মুখীণ হতে হয়। যেমন, সংরক্ষিত বীজে পোকা লাগে, পিঁপড়া লাগে, আবার কখনো কখনো ওল ও কচু সাদা হয়ে যায়। তখন এই সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য তারা ফিনিস পাউডার ব্যবহার করে। কিন্তু এটি তাদের সব সমস্যার সমাধান করে না। আর এসব দেখে অনেকের মধ্যে থেকে বীজ সংরক্ষণের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তবে তারা মনে করেন, সঠিকভাবে বীজ সংরক্ষণের জন্য যদি কোন প্রশিক্ষণ বা পরামর্শ পান তাহলে তাদের বীজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আর কোন সমস্যা হতো না।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.