Posted in

বালির আগ্রাসন থেকে রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ

কলমাকান্দা, নেত্রকোনা থেকে আলপনা নাফাক
পাহাড়ি ঢল ও বালির আগ্রাসন থেকে কৃষি জমি বাঁচানোর জন্য চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামের জনগোষ্ঠি এখন বাঁধ নির্মাণ করছেন সকলে একত্রিত হয়ে। সেই কাজে সহযোগিতা করছে বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক।


নেত্রকোনা জেলার চন্দ্রডিঙ্গা গ্রাম। বালি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে চন্দ্রডিঙ্গা একটি। গ্রামের জনগোষ্ঠীদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয় প্রতিবছর। ভারতের অবকাঠানো উন্নয়নের জন্য পাহাড় কাটার ফলে মানবসৃষ্ট বালি দুর্যোগটি স্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে এই এলাকায়। গ্রামের সীমান্ত আদিবাসি কৃষকেরা দিন দিন ভূমিহারা হচ্ছেন। প্রতিবছরই বালিতে ঢেকে যাচ্ছে কৃষি জমি। পাহাড়ি ঢলে পাহাড় ধ্বসে বালি, নূরিপাথর পানির সাথে চলে আসে কৃষকের জমিতে। ফুলবাড়ি, বেতগড়া, সন্যাসীপাড়া, কদমতলী, সন্যাসীপাড়া গ্রামের কৃষকের জমি রক্ষার জন্য গ্রামের কৃষকেরা বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় ১৬২০ গজ দীর্ঘ একটি বাঁধ নির্মাণ করেন। বাঁধের ফলে এলাকার প্রায় ৪০০ একর জমি বালির আগ্রাসন থেকে রক্ষা পাবে বলে তারা মনে করেন। জীবন বাঁচার তাগিদে কৃষকেরা এই বাঁধকেই ভরসা মনে করছেন। যদি রক্ষা পায় নিজের একটুকরো জমি।
এলাকার অনেক কৃষকের কপালে আসন্ন খাদ্যসংকটের আশঙ্কায় চিন্তার ভাঁজ। পাহাড়ি ঢল, পাহাড় ধ্বস, ভাঙন ও বাঁধ ভেঙে চন্দ্রডিঙ্গা কমপক্ষে এক হাজার হেক্টর আবাদি জমি ঢেকে গেছে বালিতে। গত কয়েক বছরে এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলিয়ে সীমান্তাঞ্চলের কৃষকরা অভাব মোচন করলেও এ বছর আমন চাষ করতে না পেরে খাদ্যসংকটের শঙ্কায় পড়েছেন।


পৃত্তিশ রংখেং, পরিমল হাজং , যন্ত্র হাজং, মৃধা হাজং, সলোমান রিচিল, অর্জুন হাজংসহ প্রায় শতাধিক কৃষকের জমি বালির কারণে আবাদ না হওয়ায় কৃষক ও দিনমজুর পরিবারগুলোতে আসন্ন খাদ্যসংকটের দুচিন্তায় ভর করেছে।
জলবায়ু সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পানির পানির সমস্যা, বন্যপ্রাণির আক্রমণ সাথে নিয়েই রংছাতি, লেংগুরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মানুষ তাদের জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছে। আদিবাসি কৃষকেরা দুর্যোগের পরও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করেন। এই মাটি এই ভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ারও সুযোগ নেই। এভাবেই ঠিকে আছে যুগ যুব ধরে কলমাকান্দার সীমান্ত অঞ্চলের আদিবাসিসহ সকল পেশাবৈচিত্র্যর মানুষ।


উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বদলে যাচ্ছে নেত্রকোনা জেলার সীমান্ত এলাকার কৃষি ও কৃষকের জীবন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খাদ্যনিরাপত্তা, হারিয়ে যাচ্ছে জমি, ভূমিহীন হচ্ছে অনেক আদিবাসি, উদ্বাস্তু হচেছ সীমান্তর মানুষ। গ্রাম ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় নিচ্ছে শহরে। যাদের ফসলী জমি বালিতে ভরাট হয়ে গেছে সেই জমিগুলো পতিত পড়ে আছে আজ থেকে তিন বছর ধরে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.