Posted in

হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে চলে ওদের সংসার

চাটমোহর, পাবনা থেকে ইকবাল কবীর রনজু

খাইলে পস্তাইবেন না খাইলেও পস্তাইবেন। হরেক রঙের হাওয়াই মিঠাই দেখলে খাওয়ার সাধ জাগে অনেকেরই। কিন্তু খাওয়ার জন্য মুখে দেবার পর হাওয়ার মতোই অদৃশ্য হয়ে যায় হাওয়াই মিঠাই। আবার না খাইলে মনে হবে না জানি কতই সুন্দর এ হাওয়াই মিঠাই। কেউ কেউ এটাকে দিল্লীর নারু বা দিল্লাল লাড্ডুও বলে থাকেন।

haoai mitai pic-1

সম্প্রতি কথা হয় হাওয়ায় মিঠাই মতান্তরে দিল্লীর নারু বা দিল্লাল লাড্ডু বিক্রেতা আব্দুল বারী (৫৯) এর সাথে। বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দ গ্রামে। চাটমোহর রেল বাজার এলাকায় একটি ঘর ভাড়া করে বিভিন্ন এলাকায় হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করেন তিনি। দশ বারো দিন পর পর বাড়িতে যান। আব্দুল বারী বলেন, “সাড়ে ৮ কাঠা বাড়ি ছাড়া অন্য কোন জমা জমি নাই। দৈনিক অন্তত তিনশ টাকা সংসার খরচ আছে। হাওয়াই মিঠাই বানানোর উপকরণ কিনতে হয়। সব খরচ বাদে দৈনিক শ’ তিনেক টাকা থাকে। দুই এনজিও থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ লিছি। সপ্তায় এক হাজার ছয়শ টাকা কিস্তি দেই। ভাত কাপুর ওষুধ পত্র সব লাগে। সময় সময় ঠেক্যা যাই। ধার দেনা করা লাগে। হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের বড় করেছি। বিয়ে দিছি। সংসার চালাচ্ছি আর কি করবো কন। এই কোন মতে দিন চল্যা যাচ্ছে।”

বয়স কত বলতে পারেন না পরলেও হিড়িকির সময় দশ এগারো বছরের ছিলেন বলে জানান চাটমোহরের হরিপুর ইউনিয়নের টলটলী পাড়ার হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতা সাহেদ আলী। আদি নিবাস সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানার জামতৈল এলাকায়। এখন চাটমোহরেই বসবাস তার। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন হাওয়াই মিঠাই তৈরি ও বিক্রির কাজ। কিভাবে হাওয়াই মিঠাই তৈরি করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দুই সলতা বিশিষ্ট বড় আকারের বাতি জ¦ালাই। ষ্টীলের মগ আকৃতির মেশিনের ভিতর চিনি এবং রং দিয়ে বাতির উপরে রেখে মেশিনের হাতল ঘুরালে নিদৃষ্ট আকৃতির আহাওয়াই মিঠাই বেড়িয়ে আসে। পরে সেগুলো প্যাকেট করি। সকালে হাওয়াই মিঠাই তৈরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরি। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে চারটা পর্যন্ত হাটার উপর থাকতে হয়।”

haoai mitai pic-2

তিনি আরও বলেন, দিনে একশ থেকে একশ দশ বিশ প্যাকেট বিক্রি করতে পারি। প্রতি প্যাকেট পাঁচ টাকা। পাঁচ ছয়শ টাকা বিক্রি হয়। দুই কেজি চিনি ও কয়েক টাকার রঙে একশ প্যাকেট হাওয়াই মিঠাই হয়। শও তিনেক টাকা লাভ থাকে প্রতিদিন। পোলাপান কিন্যা খায়। কোন কোন সময় বড় মানুষ ও সখ কর‌্যা কিন্যা খায়। কমলা লাল ও সাদা রঙের হাওয়াই মিঠাই বানাই আমি। এক বেলা রুটি আর এক বেলা ভাত খাই। জিনিষ পাতির দাম বেশি। যা কামাই করি সব ফুরায়া যায়। এই কোন মতে দিন পাত চলে যায় আর কি।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.