Posted in

বীজ ব্যাংকের সরিষা বীজে হাঁসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

সাতক্ষীরা থেকে আসাদুল ইসলাম

তুজুলপুর বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতাল থেকে সরিষার বীজ নিয়ে বাম্পার ফলনের আশা করছে সাতক্ষীরার তুজুলপুরের কৃষকরা। নিজেদের সংরক্ষণ করা বীজে বাম্পার ফলন দেখে খুশির হাঁসি ফুটেছে তাঁদের মুখে। এখন তাদের ইচ্ছা দেশীয় বীজ সংরক্ষণ করে নিজেদের বীজে নিজেরাই ফসল ফলাবেন। গত মৌসুমে তুজুলপুর কৃষক ক্লাবের ১৮ জন সদস্যের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় দেশীয় জাতের বারি-৭ এবং বারি-১৪ জাতের সরিষা বীজ। প্রায় ৩৫ কেজি বীজ সংগ্রহ করে বীজ ব্যাংকে রাখা হয়। আর সেই বীজ এই মৌসুমের প্রথমেই তুলে দেওয়া হয় কৃষক ক্লাবের ৪১ জন কৃষকের হাতে। আর সেই বীজেই নিজেদের মুখে হাঁসি তাদের। আর এই মৌসুমে দ্বিগুণ সংগ্রহ করে তা আগামী মৌসুমে অন্য কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

asad-2
আমিরুল ইসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষি পেশার সাথে যুক্ত। কিন্তু তার এই দীর্ঘ কৃষি জীবনে নিজেদের সংরক্ষণ করা সরিষা বীজে এত ফলন আগে কখনো দেখেননি। তিনি তুজুলপুর বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতাল থেকে দুই কেজি সরিষা বীজ নিয়ে প্রায় এক বিঘা জমিতে চাষ করেন। যার ফলন দেখে মনে করছেন ৭ থেকে ৮ মণ সরিষা উৎপাদন হবে। এর আগে বিভিন্ন কোম্পানির বীজ কিনে ফসল চাষ করতেন। কিন্তু এত ফলন দেখেননি। এখন নিজেদের বীজে চাষ করছেন তাও আবার ফলন বেশি। যা তার কাছে খুবই আনন্দের। আমিরুলের মত আব্দুর রহমানও তার কয়েক বিঘা জমিতে বীজ ব্যাংক থেকে সরিষার বীজ নিয়ে চাষ করেছেন। তারও আশা কোম্পানির বীজের থেকে নিজেদের এই বীজে ফলন বেশি হবে।

শুধু আমিরুল ইসলাম বা আব্দুর রহমান নয় তুজুলপুর কৃষক ক্লাবের সদস্য আবু বক্কর, সিদ্দিক সরদার, আয়ুব আলী, রফিকুল, জাহাঙ্গীর কবির, শাহাজান, শাহিনা সহ প্রায় ৪১ জন কৃষক-কৃষাণী তুজুলপুর বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতাল থেকে সরিষার বীজ নিয়ে চাষ করেছেন। বাম্পার ফলন দেখে তাদের সবার মুখে এখন খুশির হাঁসি ফুটেছে।
আমিরুল ইসলাম জানান, তারা আশা করেননি নিজেদের বীজে এত ফলন হবে। বাজার থেকে কোম্পানির বীজ কিনে নয়-এখন থেকে নিজেদের এই বীজেই তারা আগামীতেও চাষ করবেন। Asad-3তিনি আরো জানান, এক কেজি বীজ কিনতে দেড়শত থেকে দুইশত টাকা লাগতো। কিন্তু গত মৌসুমের বীজ ব্যাংকের সংগ্রহের বীজ পেয়ে আর বীজ কেনা করা লাগেনি। শুধু তাই নয়, কোম্পানির বীজ দিয়ে যা ফসল তিনি পেতেন তাছাড়া এখানে প্রায় এক মণ বেশি সরিষা পাবেন বলে আশা করেন। এছাড়া কোম্পানি বীজের মধ্যে নষ্ট বীজ থাকার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু নিজেদের সংগ্রহে বীজে সে সম্ভাবনা খুব কম থাকে। তার উৎপাদিত বীজ থেকে তুজুলপুর বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতালের জন্য ৮/১০ কেজি বীজ দিবেন। যেন অন্যরাও এই বীজ নিয়ে চাষ করতে পারে।

তুজুলপুর গ্রামের কৃষক মাহমুদ বলেন, “কৃষক ক্লাবের বীজ ব্যাংকের বীজে ভালো ফলন হয়েছে। যা আমার কেনা বীজের থেকে ভালো। সরিষা উৎপাদনের জন্য আমাদের বিঘা প্রতি খরচ হয় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা এবং তা বিক্রি হয় ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। কিস্তু দেশী বীজে খরচ প্রায় অর্ধেকে কমে আসে। তাই উৎপাদন বেশি হলে লাভও বেশি হয়। ইচ্ছা আছে আগামীতে বীজ ব্যাংকের বীজ চাষ করার।”

Asad-4
তুজুলপুর কৃষক ক্লাবের সভাপতি ইয়ারব হোসেন বলেন, “বারসিক’র পরামর্শে এবং নিজেদের চেষ্টায় তুজুলপুর বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতালে বীজ সংরক্ষণ করা হয়। আমরা এবার ৪১ জনকে সরিষা বীজ দেয়া হয়েছিল। তারা সেটা চাষ করে খুব ভালো ফলন পেয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “কোম্পানির বীজে নয় আমরা নিজেদের বীজে চাষ করতে চাই। শুধু সরিষা বীজ নয় অন্য ফসলের বীজও এভাবে কৃষকদের বিতরণ করা হচ্ছে। যাতে নিজেদের বীজে চাষাবাদ হয় এবং সেই বীজ সকলের কাছে সজীব এবং সংগ্রহে থাকে।” বীজ ব্যাংক থেকে যারা বীজ নিচ্ছে তারা উৎপাদন করে আবার সেখানে সংরক্ষণের জন্য ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে বীজ বিনিময় করে কৃষকরা দেশীয় বীজ সংরক্ষণ করতে পারবেন। এতে তারা বেশি সংরক্ষণ করে অন্যদের মাঝেও দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.