সাম্প্রতিক পোস্ট

শিলা বৃষ্টিতে অক্ষত সুরাইক্যা ধান

::মধ্যনগর থেকে মাকসুদা বেগম::

নদীর এ কূল গড়ে ও কূল ভাঙে এইতো নদীর খেলা

সকালবেলা আমির- রে ভাই ফকির সন্ধ্যাবেলা

 এ গানের স্বরলিপির করুণ মর্ম গাঁথায় হাওরবাসীর জীবনালেখ্য। জলবায়ুর অনিয়মিত আচরণ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া বার বার হাওরবাসীদের স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে প্রতিষ্ঠিত-গরিব কৃষক এখন দেউলিয়া। তাদের অবস্থা এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায়-এর মতো! গত এপ্রিল মাসে প্রলয়ঙ্করী কালবৈশাখী ঝড় যেমন কেড়ে নিয়েছে প্রাণ তেমনিভাবে কৃষককূলের স্বপ্নকে তছনছ করে দিয়েছে। কৃষকের অধিকাংশ জমির ধান নষ্ট হয়েছে, তলিয়ে গেছে। চারদিকে কেবল হাহাকার আর হাহাকার।

তবে এই হাহাকারের মাঝেও কিছু কৃষক তাদের আবাদকৃত ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের আবাদকৃত এলাকা উপযোগী ধানগুলোর মধ্যে সুরাইক্যা, সুবাস, বেগুণবিচি ও বাঁশফুল ধানগুলো নামমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই কেউ সম্পূর্ণ ধান কেউবা আংশিক ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। সম্প্রতি মধ্যনগরে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে কৃষকরা কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের সম্পূর্ণ অক্ষত এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ধানগুলো কেটে ঘরে তুলেছেন। মধ্যনগরের বিপি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে হামলাদীঘা হাওরের কৃষকরা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা, উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের উপস্থিতিতে তাদের চাষকৃত ধান ঘরে তুলেছেন। উপস্থিত কৃষিকর্মকর্তাসহ অন্যান্য এলাকার কৃষকরা হামলাদীঘা কৃষকদের সাফল্যে নেপথ্যে কারণ জানতে চাইলে হাওলাদীঘা কৃষকরা জানান যে, তারা প্রতিবছর এলাকা উপযোগী ধান নির্বাচনের জন্য বারসিক’র সহায়তায় জাত গবেষণা করে আসছে। হামলাদীঘা কৃষকের সাফল্যের বিষয়টি হাতে কলমে অভিজ্ঞতা করার জন্য উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার ধর্মপাশা প্রতিনিধি জাত গবেষণা প্লচে নেমে শিলায় বিধ্বস্ত গাছ পরীক্ষা করেন। তারা দেখতে পান যে, একমাত্র সুরাইক্যা, সুবাস, লাখাই, বেগুণবিচি এবং বাঁশফুল ধানজাতগুলো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। কৃষকরা জানান, সুরাকইক্যা ধানের বোটা শক্ত তাই শিলাবৃষ্টিতে ঝরে পড়ে না। এ ধানজাতটি খরাসহনশীল এবং স্বল্প সময়ে ঘরে তোলা যায় যা হাওরের এলাকার বেশ উপযোগী। এ ধানের গাছের উচ্চতা বেশি বলে অকাল বন্যায় ধান কাটার সময় পাওয়া যায়। তাছাড়া ধানটি পানির নিচে ১৫দিন পর্যন্ত থাকলেও এর কোন ক্ষতি হয় না বলে হাওর এলাকায় দিনে দিনে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে কৃষক আবুল কালাম জানান, গত বছরের গবেষণা প্লট থেকে এলাকার জন্য নির্বাচিত একটি ধানের দেড় কেজি বীজ নিয়ে আবাদ করে তিনি ২৫ মণ ধান উৎপাদন করতে সমর্থ হয়েছেন। এ বছর (২০১৫) তিনি ১০ কাঠা জমিতে এ ধান আবাদ করেন। কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলা বৃষ্টিতে যদিওবা এ ধান বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তথাপি তিনি হতাশ নন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শোয়েব আহমেদ মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে এবং হামলাদীঘা কৃষকদের গবেষণা প্লট পর্যবেক্ষণের পর একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “হাওর অঞ্চলের কৃষকদের বাঁচাতে কৃষকদের সাথে সরকারের একযোগে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষককে সহযোগিতা করার জন্য সরকারসহ অন্যান্যদের এগিয়ে আসতে হবে।” উপজেলা উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা মো. কবির হোসেন এবং দৈনিক প্রথম আলোর ধর্মপাশা প্রতিনিধি সালেহ আমেদ সুরাইক্যা ধানের জনক সুরাক মিয়াকে ধন্যবাদ জানান হাওরের এলাকার জন্য উপযোগী এ ধান উদ্ভাবন করার জন্য।

happy wheels 2
%d bloggers like this: