সাম্প্রতিক পোস্ট

আজাবা শাক কলমী

সাতক্ষীরা, শ্যামনগর থেকে বাবলু জোয়ারদার

কলমী শাক। কেউ বলে আজাবা, কেউ বলে বুনো, কেউবা বলে জলকলমী, আবার কেউ বলে কুড়ানো শাক। গ্রামীই মানুষের কাছে এ শাক নানা নামে পরিচিত। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওডায় এই শাকের পরিচিতিও ভিন্ন ভিন্ন। পরিবারের নিকট থেকে এ শাক সম্পর্কে জেনেছে, চিনেছে স্থানীয়রা। তবে এলাকাভেদে এর পরিচিতি বেশ ভিন্ন। কোন কোন এ্লাকায় এই শাক আপন জ্বালা, কোথাও আবার জংলী শাক নামেী পরিচিত। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এ সমস্ত শাক, উদ্ভিদ ও লতা-পাতা গ্রামীই মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পদ্ধতিতে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আজাবা এই শাকটির নাম কলমী শাক। গ্রামে কলমী শাক এখনও মোটামুটি পাওয়া যায়। জলাশয় (বিল, পুকুর, ডোবা, খাল, বেড়) প্রভৃতি জায়গায় হয়, তবে চাষ করতে হয় না।

কলমি শাকের রয়েছে আশ্চর্য ওষধি গুণ। উপকূলীয় এলাকায় গর্ভবতী মায়েদের বেশির ভাগ সময় খেতে দেওয়া হয়। কারণ স্থানীয় মানুষের মতে, ‘এই শাকে প্রচুর ভিটামিন আছে। গর্ভবতী মায়েদের শরীরে, হাতে ও পায়ে রস আসে সেই সময় কলমী শাক বেশি করে রসুন দিয়ে ভেজে তিন সপ্তাহ খেলে পানি কমে যাবে। রাতকানা রোগের জন্য ভালো কাজ করে। কারও ফোঁড়া হলে তিনদিন এই শাকের পাতা ও একটু আদা দিয়ে বেঁটে ফোঁড়ার চারপাশে প্রলেপ দিলে ফোঁড়ার মুখ ফেটে যাবে। রাতকানা রোগেএই শাক কয়েক সপ্তাহ প্রতিদিন একবেলা ভাজি রান্না করে খেলে রাতকানা রোগ ভালো হয়। বাচ্চারা যদি মায়ের দুধ কম পায় সেক্ষেত্রে কলমী শাক ছোট মাছ দিয়ে রান্না করে খেলে মায়ের দুধ বাড়বে। কোষ্ঠকাঠিন্য বা আমাশয় হলে কলমী শাক তুলে বেঁটে রস বের করে আঁখের গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে সকালেও বিকালে এক সপ্তাহ খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। হাত-পা, শরীর জ্বালা করলে কলমী শাকের পাতার রস ও দুধ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যায়। আবার কেউ এই শাক মাছ দিয়ে রান্না ও ভর্তা করে খায়।’

প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো আজাবা অন্যান্য উদ্ভিদের ন্যায় বর্তমানে এই শাক ও হারানোর পথে। প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিমাণ কমে যাওয়া, লবণ পানির ব্যবহার ও আধুনিক কৃষির প্রভাবে দিনে দিনে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এই কলমি শাক

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাই এই আজাবা শাকের উৎস সংরক্ষণ ও ব্যবহার বাড়াতে হবে। তাহলে রক্ষা পাবে আমাদের প্রাণবৈচিত্র্য। লবণাক্ততার মধ্যেও উপকূলীয় এলাকায় এখনো টিকে আছে এই শাক, যা উপকূলীয় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় ভুমিকা রাখছে। উপকূলীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে এই শাকের উৎস, গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তরুণ প্রজন্মসহ সকলের মাঝে তুলে ধরতে হবে ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: