Posted in

বুনো ফুল বন কার্পাস

সাতক্ষীরা থেকে সোনিয়া আফরোজ

‘ঝুমকো জবা বনের দুল, উঠলো ফুটে বনের ফুল’ ঠিক তেমনি একটি ফুল বন কার্পাস। দেখতে ঠিক ঝুমকোর মতো। দেখে মনে হয় যেন গাছটিতে সারি সারি ঝুমকো ঝুলছে। যা দেখে চোখ দাঁড়িয়ে যায় সবার। ফুলের মাঝখানটা রক্ত বেগুনী রঙ দিয়ে আঁকা। যা দেখে অভিভূত হয় সকলে। বন কার্পাস ফুলের সৌন্দর্য্য সবাইকে মুগ্ধ করে খুব সহজেই।

Bon Carpas 1

অথচ বন কার্পাস অবহেলায় ও অযত্নে বেড়ে ওঠে এবং সব পরিবেশেই টিকে থাকতে পারে। এটি সাধারণত পরিত্যক্ত জায়গা বা ঝোঁপঝাড়ে বেশি দেখা যায়। গছে যখন ফুল ফোটে তখন ঐ জায়গার সৌন্দর্য্য আরো বেড়ে যায়। গ্রামের মানুষ এই ফুলকে ঝুমকো ফুল, কলকে ফুল, বন কার্পাস ইত্যাদি নামে চেনে। ফুলটি সচরাচর নিম্নমূখী হয়ে ফুটে থাকে যা দেখতে অনেকটা ঝুমকোর মতো মনে হয়।

বন কার্পাস ফুলে পাঁচটি পাঁপড়ি আছে। এর পাঁপড়ি হলুদ রঙের হয়ে থাকে। কিন্তু ফুলের কেন্দ্র গাড় বেগুনী বর্ণের হয়। এই ফুলের গর্ভাশয়ের আকৃতি অনেকটাই জবা ফুলের মতো। বন কার্পাস বর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী বীরুৎ বা গুল্ম প্রকৃতির উদ্ভিদ। এটি বড় হলে অনেকটা ঝোপের মতো মনে হয়। এর উচ্চতা ১.০-২.৫ মিটার।

Bon Carpas 2

বন কার্পাসের কাণ্ড বেলনাকার এবং গোড়ার দিকটা কাষ্ঠল প্রকৃতির হয়। কাণ্ড এবং পাতা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নরম লোম দ্বারা আবৃত থাকে। নিচের পাতা করতাল খণ্ডিত এবং উপরের পাতাগুলো ছোট ও গোলাকৃতির বা হৃদপিণ্ডাকৃতির হয়ে থাকে। প্রতিটি পাতা বৃন্তযুক্ত। এর বীজ তামাটে কালো বর্ণের এবং প্রতি প্রকোষ্ঠে ২-৫টি বীজ থাকে। বীজের মাধ্যমেই উদ্ভিদটির বংশবিস্তার হয়ে থাকে।

বন কার্পাস ঝোঁপঝাড়ে জন্মে বলে এটি সম্পর্কে অনেকেই পরিচিত নন, বিশেষ করে শহরের মানুষ। তবে গ্রামের বয়স্ক মানুষ উদ্ভিদটি সম্পর্কে জানেন ও চেনেন।

সাতক্ষীরা জেলায় এটি ঝুমকো ফুল বলে অধিক পরিচিত। সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামে রাস্তার ধারে ও বাগানে প্রচুর পরিমাণে বন কার্পাস ফুল ফুটেছে। যা দেখে অনেকই আনন্দিত হয়। সবাই জানতে চায় এর পরিচয়।

এ ব্যাপারে ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমরা একে ঝুমকো ফুল বলে জানি। কারণ ফুলটি নিম্নমূখী হয়ে ঝুলে থাকে তাই এর নাম দিয়েছি ঝুমকো ফুল। যে মেয়েদের পিরিয়ড ঠিকমতো হয় না তারা যদি এই গাছের শিকড় বেঁটে চাল ভাজার সাথে গুড়ো করে খায় তবে বেশ উপকৃত হবে।”

Bon Carpas 3

একই গ্রামের বাসিন্দা আফরোজা খাতুন বলেন, “আমি এটিকে কলকে ফুল বলে জানি। ছোটবেলায় আমি এই ফুল দিয়ে খেলা করতাম। মহিলারা মাথার উঁকুন থেকে রক্ষা পেতে বন কার্পাস গাছের মূল ব্যবহার করেন।”

উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ এর তথ্য মতে, ‘বন কার্পাসের বৈজ্ঞানিক নাম Fioria vitifolia (L)। এর ইংরেজি নাম Vine-leaved Hibiscus। এটি সচরাচর পরিত্যক্ত জায়গা, সমভূমি, অরণ্য বা ঝোঁপঝাড়ে বেশি পাওয়া যায়।

Bon Carpas 4

বন কার্পাস সারাবছরই পাওয়া গেলেও এটি ফুল ধারণ করে মার্চ-জানুয়ারি মাসে এবং ফুল থেকেই এর ফলের সৃষ্টি হয়। ফলের মধ্যে থাকে বীজ যা শুকিয়ে ঝরে পড়লে তা থেকে নতুন চারা জন্মায়। বন কার্পাস উদ্ভিদের বাঁকল থেকে এক প্রকার রৈপ্যসদৃশ তন্তু পাওয়া যায়। উদ্ভিদটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ আরও অনেক দেশে বিস্তৃত।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.