সাম্প্রতিক পোস্ট

জেন্ডার বৈষম্য নিরসনে নারীকে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে

সিংগাইর, মানিকগঞ্জ থেকে শারমিন আক্তার
জেন্ডার বৈষম্য ও নারী নির্যাতন বর্তমানে বহুল আলোচিত একটি বিষয়। তাছাড়া সরকারি বেসরকারিভাবে রয়েছে জেন্ডার সমতা ও জেন্ডার উন্নয়ন, নারীর প্রতি সহিংসতারোধ করার যথেষ্ট ভাবনা ও উদ্যোগ। তবে সুধীজনের ভাবনা চিন্তা যাই হোক না কেন, জেন্ডার উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে একজন গ্রামীণ নারী আদুরিতা আক্তার মনে করেন ‘জেন্ডার বৈষম্যের সুতিকাগার হলো একটি পরিবার’ যা চলমান সমাজ ব্যবস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।


সম্প্রতি সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের নবগ্রাম কৃষক কৃষাণি সংগঠন এবং সেবরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় জেন্ডার ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ। উক্ত প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিলো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেন্ডার ও উন্নয়ন বিষয়ে সংবেদনশীল দৃষ্টিভংগি বিকাশে সহায়তা করা।


সভাপতি নবু সরদারের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সহায়কের ভূমিকা পালন করেন বারসিক’র কর্মসূচি কর্মকর্তা শিমুল বিশ্বাস ও মাঠ সহায়ক শারমিন আক্তার। আলোচনার শুরুতে জেন্ডার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণাগত অবস্থা জানা বোঝার চেষ্টা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সাথে দ্বিমুখী আলোচনার মধ্য দিয়ে উঠে আসে যে, জন্মগতভাবে ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে প্রকৃতিগত পার্থক্য ছাড়া আর কোনো পার্থক্য না থাকলেও, পরবর্তীতে সামাজিক কারণে নারী ও পুরুষের মধ্যে কাজ, পোশাক, চলাফেরা, আচার-আচরণে পার্থক্য দেখা যায়, যা সমাজসৃষ্ট। ইচ্ছা করলে পরিবর্তন করা যায়। আলোচনার ভিত্তিতে জেন্ডার শব্দটিকে এভাবে বোঝা হয় যে, জেন্ডার হলো নারী ও পুরুষের সামাজিক পরিচিতি, যা সমাজ কর্তৃক সৃষ্ট এবং নিয়ন্ত্রিত এবং এটা পরিবর্তনযোগ্য।


জেন্ডাার বিষয়ক আলোচনার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীগণ মনে করেন, জেন্ডার বৈষম্য ও নারীর প্রতিসহিংসতা দূর করতে হলে নারীর দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। আর সেটা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। অর্থাৎ সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মেয়ে এবং ছেলে সন্তানকে মানুষ করতে হবে। আদর যতœ, খাবার, স্বাস্থ্য, লেখাপড়া ও মানসিক বিকাশসহ সকল ক্ষেত্রে মেয়ে ও ছেলে সন্তানের প্রতি সমভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। একটি মেয়ে না হয় পরিবার ও সমাজের বোঝা। আলোচনার মধ্য দিয়ে এটাও উঠে আসে যে, সুযোগ পেলে একটি মেয়ে সন্তানও হতে পারে শিক্ষিত ও দক্ষ, নিতে পারে পরিবারের দায়িত্ব, হতে পারে পরিবার ও রাষ্ট্রের সম্পদ।


পরিশেষে অংশগ্রহণকারীগন মন্তব্য করেন যে, একজন নারীকে সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ যেমন দিতে হবে, তেমনি রোধ করতে হবে বাল্যবিয়ে নামের সামাজিক ব্যাধিকে, আর সেক্ষেত্রে পারিবারিক উদ্যোগ ও মানসিকতাই যথেষ্ট।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: