Posted in

সঞ্চয়ের উদ্যোগ আরও গতিশীল ও সম্প্রসারিত হোক

সাতক্ষীরা, শ্যামনগর থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল

‘আমরা জয়নগর গ্রামের নারীরা আগ্রহী ও উদ্যোগী হয়ে ২০১৮ সালে জয়নগর কৃষি নারী সংগঠন তৈরি করি। সংগঠন তৈরির পর থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম করে চলেছি। আমরা সংগঠনের মাধ্যমে স্থানীয় বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, সুপেয় পানি ব্যবস্থাপনা, সংগঠন ব্যবস্থাপনা, ভার্মি কম্পোস্ট, পরিবেশবান্ধব চুলা তৈরি, প্রাণী সম্পদ পালন ও পরিচর্যা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ-ব্যবহার ও সম্প্রসারণে বিভিন্ন আলোচনা সভা করেছি। এছাড়া আমরা অচাষকৃত উদ্ভিদবৈচিত্র্য ব্যবহার ও সংরক্ষণে পাড়া মেলা, রান্না প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী মেলা আয়োজন করেছি। এ এসব কাজে আমরা বারসিক’র সহায়তা পেয়েছি। আমরা সংগঠনের মাধ্যমে সঞ্চয় কার্যক্রম চালু রেখেছি ১৮ জন সদস্যের মাধ্যমে। সেখানে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মতো হয়েছে! আমরা কোন সময়ে এক জায়গায় ২০০-৫০০ টাকা সঞ্চয় করতে পারতাম না। আজ আমাদের হাঁস-মুরগি ও তার ডিম বিক্রি করা, দুধ বিক্রি করা, দু-পাঁচ টাকা করে জমানো টাকা এক জায়গায় করতে পেরেছি। আমাদের এ ক্ষুদ্র ক্ষ্রদ্র সঞ্চয় থেকে আমরা বড় স্বপ্ন দেখছি।’


উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের কৃষি নারী সংগঠনের সদস্যরা। গতকাল বারসিক’র সহায়তায় জয়নগর কৃষি নারী সংগঠনের উদ্যোগে কৃষাণী অর্চনা রানীর বাড়িতে সংগঠন ব্যববস্থাপনা বিষয়ে আলোচনায় সংগঠনের সদস্যা উপরোক্ত কথাগুলো তুলে ধরেন। আলোচনা সভায় জয়নগর ও গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক-কৃষাণী ও বারসিক কর্মকতাসহ ১৭ জন অংশগ্রহণ করেন।


আলোচনায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রোজিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের এই এগিয়ে যাওয়াতে বারসিক’র বড় ভূমিকা ছিলো। তারা আমাদের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলো বলে আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি। আমাদের এখানে অধিকাংশই পরিবার দরিদ্র। আমাদের পরিবারের আয়ের জন্য পুরুষদের বাইরে ভাটায় ও ধান কাটার কাজে যেতে হয়। প্রায় পরিবারের জায়গাজমি বলতে শুধু বসতভিটা সেখানে খুব বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে গবাদি পশু হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন বেশি হয়। এ গবাদী পশু পালন করে ক্ষুদ্রভাবে সঞ্চয় শুরু করেছি সংগঠনের মাধ্যমে। প্রতিমাসে সংগঠনে আমরা ৫০ টাকা করে সঞ্চয় জমা দিই।’


সংগঠনের সভানেত্রী অর্চনা রানী বলেন, ‘সংগঠনের সঞ্চয় থাকায় সুবিধার পাশাপাশি আমাদের কিছু সমস্যাও তৈরি হয়েছে। তবে সমস্যার চেয়ে আমাদের উপকার বেশি হয়েছে। সংগঠনের সঞ্চয় হওয়াতে আমরা কম সুদে এখান থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারছি। অল্প অল্প করে সঞ্চয় জমা করছি। এ সঞ্চয় ৫ বছর পূর্ণ হলে লভ্যাংশসহ যেটা পাবো তা আমাদের কাছে অনেক। এটাকা দিয়ে আমরা পরিবারের কোন সম্পদ ক্রয় করতে পারবো। আমাদের ছোট স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারবো।’
অংশগ্রহণকারী প্রভাস মন্ডল, হাবিবুর রহমান ও আতাউররা জানান, তাদের পাশাপাশি পরিবারের নারীরা সঞ্চয় কার্যক্রম করছেন। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন। পুরুষরা শুধু আয় করেন এবং তা সংসারের খরচ হয়ে যায়। সেখানে নারীরা ভবিষ্যতের চিন্তা করে কিছু সঞ্চয় করার চেষ্টা করছেন। তাদের এ উদ্যোগ আরো গতিশীল ও সম্প্রসারণ হোক।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.