সাম্প্রতিক পোস্ট

আগামীর স্বপ্ন, স্বপ্নের আগামী

ঢাকা থেকে সুদিপ্তা কর্মকার
বস্তির লাগোয়া ঘরগুলোর মাঝখানে হাঁটাচলা করার জন্য অল্প একটু জায়গা, এরই মধ্যে পাটি পেতে বসেছে শিশুরা আঁকতে তাদের স্বপ্নের ছবি। যদিও এখানকার শিশুদের ছবি আঁকার জন্য কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, কিন্তু তারপরও শুধুমাত্র তাদের ইচ্ছে এবং স্বপ্নই তারা সাদা কাগজে তুলে ধরে। বস্তির এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের যেখানে জন্মই হয় নানা অভাবের মধ্যে সেখানে শৈশব বলতে কিছুই নেই তাদের। বারসিক এই কোমলমতি শিশুদের কিছুক্ষণ এর জন্য হলেও তাদের শৈশব ফিরিয়ে আনার জন্য, তাদের ইচ্ছেকে জাগিয়ে তোলার জন্য পাইওনিয়ার হাউজিং/সোনামিয়ার টেক বস্তিতে ছোট ছোট পরিসরে পর্যায়ক্রমিকভাবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি পাইওনিয়ার হাউজিং/সোনামিয়ার টেক বস্তিতে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রতিযোগিতায় মোট ১৮জন শিশু প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ১৪ জন মেয়ে এবং ৪ জন ছেলে।

Bosti

বস্তির ছোট্ট একটি টিনের ঘর যেখানে একটি খাট বসালেই ঘরের সীমানা শেষ, তার মধ্যে বাবা, মা, ভাই, বোনসহ চার পাঁচজনের বসবাস। সেখানে না আছে পড়াশোনার পরিবেশ, না আছে নিজের ইচ্ছেমত কিছু করার জায়গা, ছবি আঁকা তো দূরের কথা! ছোটবেলা থেকেই তাদের কাঁধে এসে পড়ে দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব নিজেদের, সেই দায়িত্ব ছোট ভাইবোনদের এবং বাবা ও মায়ের অনুপস্থিতিতে সংসার দেখাশোনা করার দায়িত্ব। এত প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও এই ঘরগুলোর বেশিরভাগ বাচ্চা স্কুলে যায় এবং পড়াশোনা করার চেষ্টা করে আর চেষ্টা করে স্বপ্ন দেখতে। তাদের স্বপ্ন একটি সুন্দর পরিবেশের, যেখানে তারা কোন বৈষম্য বা বঞ্চনার শিকার হবে না, আর এই স্বপ্ন তাদের ছবির মধ্যেও ফুটে উঠে।

লিমা তার ছবিতে একেঁছে একটি পার্ক নাম তার ’শিশুমেলা’। যেখানে অনেক বাচ্চাদের সাথে লিমা খেলছে মনের আনন্দে। আর রনি একেঁছে এক মাকে যিনি তার কোলে পরমমতায় রেখেছেন তার শিশুকে। রেশমা একেঁছে সবুজ গ্রাম এর ছবি, নদীর পারে তার বাড়ি অনেক গাছপালা আর নদীর উপর দিয়ে নৌকা চলে যাচ্ছে সুদূরে। ছায়াঘেড়া এমনই এক গ্রামে এক সময় তার বাবা মা থাকতো। আজ নদী ভাঙনের কারণে কিছুই নেই সেখানে। নিঃস্ব হয়ে রেশমারা চলে এসেছে ঢাকার এই অস্বাস্থ্যকর বস্তিতে। কিন্তু তার মনজুড়ে রয়েছে সেই গ্রাম। ঠিক তেমনি রিক্তা, শাবনুর আর শরিফ ও এঁেকছে সবুজ গ্রামের ছবি।

bosti1

এভাবেই সবাই তাদের ইচ্ছেগুলোর ছবি একেঁছে। যে ইচ্ছেগুলো আজও তাদের পূরণ হয়নি, কিন্তু তাদের স্বপ্ন দেখা মন বিশ্বাস করে তাদের এই স্বপ্নগুলো একদিন সত্যি হবে, তাদের অবস্থানের একদিন পরিবর্তন হবে। আমরাও চাই এই ছোট্ট শিশুদের স্বপ্নগুলো যেন সত্যি হয়। শিশুরা যেন আর বৈষম্যের শিকার না হয় এবং তারা যেন তাদের ন্যূনতম চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে। সর্বোপরি তারা যেন স্বপ্ন দেখতে পারে। কারণ স্বপ্ন দেখতে পারলেই তা ভবিষ্যতে তা পূরণ করার চেষ্টা থাকে। আর এভাবেই সোনার বাংলাদেশ তৈরি হবে।

সরকার এবং সমাজের সকল দায়িত্বশীল মানুষের কাছে বস্তির এই শিশুদের দাবি, তারা যেন এই শিশুদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে আসেন। ভবিষ্যতে যেন তারাও পড়াশুনা করে নিজেদের অবস্থানের পরিবর্তন করতে পারে। বিশেষ করে সরকার যেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রতিযোগিতায় বস্তির মানুষের পাশাপাশি বারসিক’র পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলম, ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল এবং সুদিপ্তা কর্মকার উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে সকল প্রতিযোগীর মাঝে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: