Posted in

যুবকদের তৈরি করা সাঁকো যাতায়াতে সুবিধা দিয়েছে

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে সত্যরঞ্জন সাহা:
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর পদ্মা তীরবর্তী ও নিচু এলাকা। বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে পদ্মা নদী কানায় কানায় ভরে যায়। এ সময়ে পানি প্লাবিত হয়ে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে মাঠ, ঘাট তলিয়ে পানিতে সয়লাব হয়। বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করে এবং কৃষকের মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। রাস্তাঘাট ভাঙনের কারণে বর্ষা মৌসুমে মানুষ যাতায়াত ও কৃষি পণ্য পরিবহন করতে সমস্যা হয়। এ সমস্যা সমাধানে হরিরামপুরের যুবকরা এগিয়ে আসেন। তাদের সমন্বিত উদ্যোগে ভাঙা রাস্তায় এবং খালে মানুষের চলাচলে সাঁকু তৈরি করা হয়।
এই প্রসঙ্গে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপুল হালদার বলেন, ‘আমরা হরিরামপুরবাসী বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়। পানিতে রাস্তাঘাট ভাঙে ও জনসাধারণের চলাচলের ব্যাপক অসুবিধা হয়। উপজেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য মানুষ জন হেটে ও নৌকা দিয়ে চলাচল করেন। এটা দেখে আমরা ভাঙা রাস্তায় সাঁকু তৈরির জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাঁশ সংগ্রহ করি। স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে বাঁশের সাঁকু তৈরি করি। ফলে মানুষের চলাচল সহজ হয়।’
বয়ড়া ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে উজানের পানি ও বর্ষার পানিতে হরিরামপুরের মাঠঘাট ভরে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। রাস্তায় প্রয়োজনীয় কালভার্ট না থাকায় বর্ষার পানি রাস্তার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে রাস্তা ভেঙে যায়। এতে করে বাহন চলাচল বন্ধ হয়ে মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। ভাঙা রাস্তায় তাৎক্ষণিকভাবে সাঁকু তৈরি করেন এলাকার যুবকরা। এতে করে কিছুটা হলেও যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক টিমের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বাড়ি পদ্মা নদীর সাথে। এবছর পানি বেশি হওয়ায় হরিরামপুরের চরাঞ্চলসহ উপজেলার অধিকাংশ বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করে। অনেক বাড়িঘর পানিতে ডুবে যায়। আমাদের বাড়িঘর, মাঠঘাট তলিয়ে যায় এবং মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকার যুবকগণ তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন এ সমস্যার সাময়িক সমাধান করার জন্য। তারা কলা গাছ দিয়ে ভেলা তৈরি করে পারাপারে সহযোগিতা করে। এছাড়া তারা সাঁকুও তৈরি করে।’
পদ্মা নদীর গভীরতা কমে নদীর মাঝে মধ্যে চর পড়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানিতে টইটম্বুর হয়ে যায়। পানি বৃদ্ধি পেয়ে এলাকায় প্রবেশ করে মাঠ ঘাট তলীয়ে যায়। ফসলেরর ব্যাপক ক্ষতি হয়। বন্যা মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবক টিম ও যুবকগণ উদ্যোগ গ্রহন করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.