আমরা জাতিগত বৈষম্য চাই না

রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার
একজন প্রবীণ কর্মকার সম্প্রদায়ের নারীর হাতের প্ল্যাকার্ডে লিখা “হামরি অরকাদ চার নকুলেক” এর বাংলা অর্থ আমাদের সবাইকে সমানভাবে দেখ। আর একজন মাহালি সম্প্রদায়ের প্রবীণের হাতে প্ল্যাকার্ডে লিখা “আবু জাতিক্ষয় বেগার বাং তাহে আবুন” এর বাংলা অর্থ হলো আমরা জাতিগত বৈষম্য চাই না। আবর কেউ কেউ লিখে বলেছেন আমরা সকলে মিলে এক সাথে। কেউবা লিখে হাতে ধরে উপস্থাপন করছেন আমরা বৈষম্য চাই না। এসব লিখা প্লাকার্ড নিয়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মাহালপিাড়া গ্রামে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


২১ মার্চ আন্তর্জাতিক জাতিগত বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবস উপলক্ষে সাঁওতাল,মাহালী ও কর্মকার সম্প্রদায়ের সংগঠনের সমন্বয়ে গ্রামের মাহালীপাড়া,মিশনপাড়া ও কর্মকার পাড়া ও থানতলা গ্রামের জনগোষ্ঠি মিলে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ রির্সোস সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এ অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক হিসেবে অনুষ্ঠানটি পালনে সহায়তা করে।


উন্নয়নের ছোয়া থেকে ক্ষুদ্রজাতিসত্তার মানুষেরা বঞ্চিত হচ্ছে বারবার। এই বর্ণবাদ বিলোপ করে মানবতার মাধ্যমে সকলকে একসাথে নিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গড়তেই এই ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে মাহালী সম্প্রদায়ের মনিকা টুডু বলেন, “চলার পথে আমরা প্রতিনিয়তই বুঝতে পারি অনেকে আমাদের অন্য চোখ দেখে, তখন আমাদের কষ্ট হয় নিন্তু কিছু বলি না। এমন ঘটনা আমাদের সাথে প্রতিনিয়ত ঘটে। আমরা চাই সকলে মিলে এক সাথে এগিয়ে যেতে। যেখানে কোন বৈষম্য থাকবে না।’ সুজলা মার্ডি বলেন, “কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে আমাদের আলাদা খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এটা আসলে মেনে নেওয়া কষ্টের। আমরা সবাই একসাথে চলতে চাই।’


বারসিক’র কর্মসূচি কর্মকর্তা অমৃত সরকার বলেন, “জাতিগত বৈষম্য বিলোপ না হলে সমাজের সকল পর্যায়ে উন্নয়নের আলো পৌছাবে না। সমাজকে এগিয়ে নিতে মানবতার মাধ্যমে সকলকে বিবেচনা করতে হবে। কাজ করতে হবে সবাইকে ্কযোগে এক সাথে।’


অনুষ্ঠান শেষে তানোর মন্ডুমালা রোডের মাহালীপাড়া পেট্রোলপাম্প সংলগ্ন একটি দেয়ালে মানবতার দেয়াল উদ্বোধন করে অনুষ্ঠানের শেষ হয়। এই মানবতার দেয়ালে যে কেউ প্রয়োজন নেই এমন কাপড় রেখে যেতে পারেন এবং যাদের প্রয়োজন এমন কাপড় এখান থেকে নিয়ে যেতে পারেন।

happy wheels 2

Comments