Posted in

কামারদের কেউ মূল্যায়ন করে না

নেত্রকোনা থেকে রুখসানা রুমী

প্রত্যেকটি গ্রামে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের বসবাস রয়েছে। ফচিকা গ্রামও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে অন্যান্য গ্রামের তুলনায় এ গ্রামে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি কামার সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। গ্রামে প্রায় ৩০টি পরিবার এখনও তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তাদের পেশার মধ্য দিয়ে। তবে এই পেশায় যা আয় রোজগার হয় তা দিয়ে জীবনযাপন করা কষ্টকর। যে কারণে পেশার স্থানান্তর ঘটছে। একতা ভেঙ্গে আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা ভাবনা যোগ হয়েছে প্রতিযোগিতার বাজারে। এই প্রতিযোগিতার বাজারে কেউ ভালো আছে কেউবা দুঃসহ জীবন যাপন করছেন।

20181011_114927-1-1

পেশার সাথে জড়িয়ে থাকা স্ংস্কৃতিও হারিয়ে যাচ্ছে কামারদের। কামার সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা এখনও লেখাপড়া করে ভালোভাবে জীবনযাপন করবে তা স্বপ্ন দেখে না। তাদের ছেলেমেয়েরা চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে শুধু হিসাব নিকাশ শেখার জন্য। তারপরই লেগে যায় পৈত্রিক পেশায়। সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ বা অধিকার আদায়েও তারা নিরুৎসাহী।

তবে এসব নেতিবাচকতার মধ্যেও একজন নারী স্বপ্ন দেখেছে নতুন কিছু করার। সেটা নিজের জন্য ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য। এই নারীর নাম অঞ্জনা রানী। তিনি নিজেদের অধিকার, জানা-বুঝা, ঐকতা গড়ে তোলা, নিজেদের মধ্যে বিভেদ দূর করার জন্য গ্রামের কামার পেশার নারীদের নিয়ে তিনি গড়ে তুলেন নারী সংগঠন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিবছর সকলের সহযোগিতায় নিজেদের গ্রামের মন্দিরে দূর্গাপূজা করে আসছেন। এ বছর নারী সংগঠনের সদস্যরা সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি স্াংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের সংগঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। যেখানে অর্থনৈতিকভাবে গ্রামের সকলের যুক্ততা রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারী সংগঠনের সদস্যরা তাদের সংগঠনের পরিচিতি তুলে ধরেন, তাদের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানাচ্ছেন এবং সকলের মধ্যে সংস্কৃতি চর্চার উৎসাহ, সম্প্রীতি, ঐক্যতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করার আহবান জানান।

20181017_201929 (1)

এই প্রসঙ্গে নারী সংগঠনের সদস্য কৃষাণী কল্পনা রানী বলেন, “আমরা সমাজের অবহেলিত মানুষ। কামারদের কেউ মূল্যায়ন করে না। আমাদের মধ্যে একতা কম। কোন অনুষ্ঠানে সবাই একসাথে অংশগ্রহণ করার নজির কম। তাই আমাদের ত্রই সংগঠন থাকায় সবাই মিলে একসাথে এই বছর দূর্গাপূজা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পেয়েছি। এতে করে আমরা সবাই আনন্দিত।

অনুষ্ঠান শেষে অঞ্জনা রাণী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেন এই ধরনের অনুষ্ঠান প্রত্যেক বছর করতে পারি। অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আমাদের মধ্যে একতা তৈরি হবে এবং প্রত্যেক পেশার মানুষের সাথে তথ্য বিনিময় ও আদান প্রদান হবে।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.