সাম্প্রতিক পোস্ট

মহামারি করোনায় খাদ্য নিরাপত্তায় মুলেদা আক্তার

নেত্রকোনা থেকে রোখসানা রুমি

একজন নারী কৃষক মূলেদা আক্তার। গ্রামীণ বীজ কুটিরের মাধ্যমে করোনার পরিস্থিতে থেমে থাকেনি। তিনি স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ, জরুরি খাদ্য সহায়তা ও বীজ বিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন। নারীরাই বছর ব্যাপী বাড়ির আঙ্গিনায় বৈচিত্র্যময় সবজি চাষ করে থাকেন। সবজির জমি প্রস্তুতি, বীজ রোপন, বীজ সংরক্ষণ, বীজ বিনিময়, জৈব ব্যবস্থাপনা, ফসলের যতœ ইত্যাদি কাজগুলোতে নারীরাই বেশী দক্ষতার সাথে করে থাকেন। তাদেরই একজন নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মনাং গ্রামের কুসুমকলি কৃষানী সংগনের সদস্য মুলেদা আক্তার ।

স্বামী এক ছেলে, চার মেয়ে ও শাশুড়ি মিলে ৭ জনের সংসার। মূলেদা আক্তারের মূল সম্বল বলতে বাড়ি ভিটাসহ মাত্র ৪০ শতাংশ জমি। বৈচিত্র্যময় বীজ সংগ্রহ করেন এবং নিজে চাষ করেন। তার সংগৃহীত এসব বীজ তিনি করোনাকালিন সময়ে গ্রামের অন্যান্য কৃষক-কৃষানীদের মাধ্যে বিনিময় ও বিক্রি করেন। করোনাকালিন সময়ে বাজারে যেতে পারেনা, বীজ পাওয়া যায়না। মলেদা আক্তারের স্থানীয় জাতের বৈচিত্র্যময় সবজি চাষ, বীজ উৎপাদন, বীজ সংরক্ষণ, বীজ বিনিময় এবং পরিবেশ সম্মত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পদ্ধতি নিজ গ্রামের ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষের সাথে সহভাগিতার ফলে সবজী চাষ করতে পারছেন।

আর মুলেদা নিজের হাতের বীজ সকলের পছন্দ। মূলেদার সহযোগিতায় ও পরামর্শে গ্রামের কৃষকদের বীজের জন্য পরস্পরের উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বীজের জন্য তাদের বাজারের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। তার গ্রামে এ সময়ে ৩৭জন কৃষানীকে ঝিঙ্গা, করল্লা, মিষ্টি লাউ, শশা, ডাটা, মরিচ, আদা, চিচিঙ্গা এবং কুমড়ার বীজ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তার সংগঠন বারোমাসি মরিচের ১০০ চারা ও ৫০ টি পেপের চারা গ্রামের নারীদের মাঝে বিতরণ করেছেন। কুসুমকলি কৃষানী সংগঠন থেকে করোনা মোকাবেলায় মদনপুর চেয়ারম্যানের সহায়তায় ও ডাক্তার খোকন এর সহয়তা গ্রামের ৫০জন প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও তৃতীয় লিঙ্গের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, সবজি, বীজ দিয়ে সহয়তা করেছেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: