সাম্প্রতিক পোস্ট

সৌন্দর্য্যে ভরা নাগলিঙ্গম

সৌন্দর্য্যে ভরা নাগলিঙ্গম

সাতক্ষীরা থেকে এস. এম নাহিদ হাসান

সাপের ফনার মত দেখতে ফুলটির নাম নাগলিঙ্গম। এটি তীব্র সুগন্ধযুক্ত ফুল গাছ। দীর্ঘ চিরসবুজ এই গাছকে বৃৃক্ষ রাজ্যের আভিজাত্যের প্রতীক বলা হয়। সাধারণত আমাদের দেশে খুব কমই চোখে পড়ে এই নাগলিঙ্গম ফুল গাছটি।

আমাদের সাতক্ষীরাতে নাগলিঙ্গমকে অনেকে নাগ ফুল গাছ বলে থাকেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ক্যাম্পাসে একটি নাগলিঙ্গম ফুল গাছ রয়েছে। এ নাগলিঙ্গম ফুলের আবার কয়েক প্রজাতি রয়েছে। নাগেশ্বর, নাগকেশর ও নাগলিঙ্গম এ তিনটি ভিন্ন প্রজাতির গাছ।

IMG_5610

সুমিষ্টি গন্ধযুক্ত নাগলিঙ্গম ফুলটি দেখতে এতো সুন্দর যেকোন মানুষ প্রথম দেখলেই এর প্রেমে পড়ে যাবেন। বলের মত ফল ধারণকারী এই নাগলিঙ্গম গাছটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এ গাছের কান্ড সরল, উন্নত এবং উপরের দিকে শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত থাকে। গাছের বাকল বাদামি ধূসর, অমসৃণ, রুক্ষ হয়। পাতা গুচ্ছাকৃতির এবং ৮ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। পাতা প্রায় ৫৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গাছের পাতার রং গাঢ় সবুজ হয়, কিন্তু খুব উজ্জ্বল। গ্রীষ্মকালে এদের পত্র মোচন হয়। এ গাছ বহু শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট এবং বড় বড় ডালে ফুলের মঞ্জুরি ধরে।

IMG_5616

কখনো কখনো সারা গাছের কান্ড থেকেই ফুল বের হতে দেখা যায়। ফুলগুলো কমলা,উজ্জ্বল লাল গোলাপি রঙের, ঊর্ধ্বমুখী হয়, ছয়টি পাপড়িযুক্ত এবং তিন মিটার দীর্ঘ মঞ্জুরিতে ফুটে থাকে। একটি বৃক্ষে প্রায় এক হাজারটি ফুল ধরতে পারে। এ ফুলে দৈর্ঘ্য ছয় সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। নাগলিঙ্গমের পাপড়ি গোলাকৃতি, বাঁকানো, মাংসল এবং ভেতর ও বাইরে যথাক্রমে গাঢ় গোলাপী ও হলুদ। গাছে ফুল ধরার পর বেলের মতো গোল গোল ফল ধরে।

নাগলিঙ্গম হাতির খুবই প্রিয় খাবার। এজন্য এর অন্য নাম হাতির জোলাপ গাছ। বর্তমানে নাগলিঙ্গম গাছটি পৃথিবীর অনেক জায়গায় চাষ করা হয়।

IMG_5612

মুক্তকোষ উইকিপিডিয়াতে বলা হয়েছে, নাগলিঙ্গম গাছের ইংরেজি নাম ‘cannonball tree’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis, যা Lecythidaceaeপরিবারভুক্ত। এর আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জগন্নাথ সরকার বলেন, “সনাতন ধর্মের নাগ পঞ্চমী পূজার জন্য এই নাগলিঙ্গম ফুল ব্যবহার করা হয়।”

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: