Posted in

শরৎ প্রকৃতিকে সাজিয়েছে মোহনীয় সাজে

চাটমোহর, পাবনা থেকে ইকবাল কবীর রনজু

ভাদ্র ও আশি^ন এ দুই মাস নিয়ে শরৎকাল। ঋতু বৈচিত্রের লীলা খেলায় এখন শরৎ কাল চলছে। প্রত্যেকটি ঋতুরই কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ট থাকে। স্নিগ্ধতা ও কোমলতায় ভরা শরৎ ঋতুও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই তো শরতে আজ রুপসী বাংলার প্রকৃতি নব রূপে সেজেছে সৌন্দর্যে। নদ নদী খাল বিলসহ জলাশয়ের পারের শুভ্র কাশ ফুল, সাদা মেঘ, কখনো বা নীল আকাশে উড়ন্ত পাখির ঝাঁক, সজীবতায় ভরপুর বৃক্ষরাজি, শিউলী শেফালীর মন পাগল করা সুগন্ধী বাতাস, হালকা শিশিরে সিক্ত দূর্বা ঘাসসহ সবুজ ধানক্ষেত ছুয়ে আসা উদাসী বাতাস সকলকে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

sorot-1

যান্ত্রিকতার ছোয়ায় পাল তোলা নৌকা আজ স্মৃতি হলেও নদ নদী খাল বিল হয়ে প্রতিদিন মাল বোঝাই নৌকা চলছে গন্তব্যে। নৌকার ইঞ্জিনের শব্দে মাঝি মাল্লার ভাটিয়ালী গান শোনা না গেলেও মাছের নেশায় নদী নালা খাল বিল হাওর বাওরের স্বচ্ছ জল রাশিতে শকুনের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় মাছরাঙাসহ অন্যান্য মাছ খেকো পাখিকে। কখনো কখনো ছোঁ মেরে মাছ ধরে তারা নিয়ে যায় নিরাপদ স্থানে। চোখে পরে মেঘ রোদ ছায়ায় জেলে ভাইদের মাছ ধরতে। ¯িœগ্ধ শরতের রূপ লাবণ্য, নির্মল আকাশ, খন্ড খন্ড ভাসমান সাদা মেঘের ভেলা প্রভাব ফেলে আমাদের মনো জগতে। শুভ্রতার ঋতু শরতকে উপভোগ করার জন্য শহুরে আনন্দ পিপাসু মানুষের একাংশ ছুটে যান প্রকৃতির সান্নিধ্যে। মেঘ মুক্ত রাতে যেন ঠিকরে পরে জোসনার অপরূপ সৌন্দর্য।

sorot-4

আমাদের কবিতা গান গল্প সাহিত্যে শরৎ এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ প্রাচীন মধ্য ও আধুনিক যুগের কবি সাহিত্যিকেরা শরতের রূপে মুগ্ধ হয়েছেন। তাইতো তাদের লেখায় মেলে শরতের বন্দনা। “শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলী/ছড়িয়ে গেল ছাড়িয়ে মোহন অঙ্গুলী/শরৎ তোমার শিশির ধোয়া কুন্তলে/ বনের পথে লুটিয়ে পরা অঞ্চলে/ আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি”। কবি গুরুর এমন কথাগুলো অথবা জাতীয় কবির “এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলী বিছানো পথে/ এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ কিরণ রথে/ দলি শাপলা শালুক শত দল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল/ নীল লাল ঝড়ায়ে ঢল ঢল এসো অরণ্য পর্বতে” এমন কথা মালা শরতের অপূর্বতার প্রকাশ।

sorot-6

ঋতু পরিক্রমায় প্রতিবছর ঋতুর রাণী শরৎ আসে। শরৎ যায়। শরতে প্রকৃতির অপরূপ সাজ মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। মানুষের মন কে প্রফুল্ল করে যায়। শরৎ মানুষের মনকে ভাব ও আবেগে করে আপ্লুত। গ্রাম বাংলার শরতের প্রাণবন্ত রূপ, কাঁশফুল, শাপলা শতদল মায়াবী মনোরম পরিচ্ছন্ন পরিবেশ কামিনী, হাসনাহেনা, ছাতিম, জারুল ও মল্লিকার অসাধারণ রূপ গন্ধ মোহিত করে মানুষকে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.