সাম্প্রতিক পোস্ট

মো. ময়ান উদ্দিনের তিন জাতের মরিচ

মো. ময়ান উদ্দিনের তিন জাতের মরিচ

ঘিওর, মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার

তিন জাতের মরিচের চাষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। গত তিন বছর যাবৎ ৩টি মরিচের জাত বাছাই করার মাধ্যমে কৃষকেরা এই ৩টি ধরনের মরিচ নিজ জমিতে আবাদ করতে পেরেছেন।

এলাকায় মরিচের জাত বৃদ্ধিকরণের জন্য কাজ করছেন ঘিওর উপজেলার গাংডুবী গ্রামের মো.ময়ান উদ্দিন। এ বছর তাঁর ৩০ শতাংশ জমিতে মরিচের চাষ করে এর মধ্যে ১২ শতাংশ জমিতে বিন্দু কালো, ১০ শতাংশ জমিতে বিন্দু সাদা এবং ৮ শতাংশ জমিতে জিরা মরিচ চাষ করেন । বিন্দু সাদা মরিচের জাত প্রায় সকল কৃষকের কাছে আছে কিন্তু বিন্দু কালো মরিচ ও জিরা মরিচ কৃষকের নিকট নেই।

20180523_174922
স্থানীয় কেল্লাই বাজারে মরিচের আরৎদার লুৎফর রহমান কৃষক ময়ান উদ্দিন জানান, জিরা মরিচ ও কালো মরিচের চাহিদা বেশি। ঢাকা কাওরান বাজারে ঝাঁল মরিচের চাহিদা বেশি। ঘিওর উপজেলা ও শিবালয় উপজেলার বেশি মরিচের চাষ হয়। মরিচের উৎপাদন বেড়ে গেলেও বিন্দু কালো ও জিরা মরিচের দাম বেশি থাকে। এ বছর কৃষকরা প্রতি কেজি বিন্দু সাদা মরিচ ১৩-১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। বিন্দু কালো ও জিরা মরিচ বিক্রি হয় ১৫-২০ টাকায়।

মরিচের জাত বৃদ্ধি করার জন্য কৃষক ময়ান উদ্দিন কাজ করে চলছেন। মরিচের জাতের বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি প্রতিবছর বীজ রাখেন। ফলে তিনি এ বছর ৩টি জাতের মরিচ চাষ করতে পেরেছেন। তাঁর এই তিনটি জাতের মরিচ নিয়ে তিনি চায়ের দোকানে এবং তাদের গড়ে উঠা সংগঠনের কৃষকদের সাথে আলোচনা করেন। অন্য কৃষকরা এই ৩টি মরিচ আবাদের আগ্রহ দেখান।

20180523_175016
এই প্রসঙ্গে কৃষক ময়ান উদ্দিন বলেন, “আমার মরিচ ক্ষেতের চারিদিকে আমি ছোট সজ বুনে দিয়েছি। এতে করে মরিচ ক্ষেতে পোকামাকড় কম লাগে। ছোট সজের গন্ধে পোকা আসেনা। এটা আমার কৃষি কাজের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা।” তিনি দেখেছেন মরিচের চারিদিকে ছোট সজ রোপণ করায় ছোট সজের গন্ধে এবার তার ক্ষেতে পোকা কম লেগেছে।

মরিচ সকল তরকারিতে প্রয়োজন হয়। বাঙালিদের কথায় আছে, পান্তা ভাতে কাচা মরিচ ও পিঁয়াজ হলে কৃষকেরা এক থাল খাবার খেতে পারে। মরিচে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। কৃষকের হাতে যখন টাকা কম থাকে তখন মরিচ বিক্রির টাকা সংসারের অনেক কাজে আসে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: