সাম্প্রতিক পোস্ট

ভাঙ্গুড়ায় পাটচাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক

মো. মনিরুজ্জামান ফারুক, ভাঙ্গুড়া(পাবনা) থেকে

পাট একটি বর্ষাকালীন ফসল। এদেশের পাট একসময় বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হতো বলে একে সোনালি আঁশ বলা হয় । জানা যায়, চৈত্র-বৈশাখ মাসে জমিতে পাট বীজ বোনা হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে পাট ক্ষেতের পরিচর্যা সম্পন্ন করা হয়। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বর্ষায় খাল-বিল, ডোবা-নালাতে পানি প্রবেশ করলে পাট কেটে পানিতে জাগ দেয়া হয়।

মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরণের পাট দেখতে পাওয়া যায়: Corchorus capsularis (সাদা পাট) ও Corchorus olitorius (তোষা পাট)। এটি Tiliaceae পরিবারের অর্ন্তগত একটি উদ্ভিদ। মনে করা হয় সংস্কৃত শব্দ পট্ট থেকে পাট শব্দের উদ্ভব হয়েছে। পাটের ইংরেজি নাম জুট (Jute)। সম্ভবতঃ উড়ে (উড়িষ্যা, ভারত) ভাষা থেকে এসেছে।

সোনালি আঁশ পাট চাষে দিন, দিন আগ্রহ হারাচ্ছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৃষকরা। অথচ একসময় এখানে প্রচুর পরিমাণে পাট চাষ করা হতো। পাট চাষীদের সুবিধার্থে এখানে পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলের পাটক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাট ন্যায্য মূল্যে এ পাটক্রয় কেন্দ্রে বিক্রি করতেন। এছাড়া এ অঞ্চলের পাট ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এলাকার উৎপাদিত পাট খুলনা, নারায়গঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জুটমিলে বিক্রয় হতো।

Photo Bhangoora Pabna 16-07-18

কিন্তু কালের বিবর্তনে পাট উৎপাদন কমে যাওয়ায় ও আদমজী জুট মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে পাট চাষ কমে গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেক। উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলী পাড়া গ্রামের পাটচাষী বাহের আলী ও আলমগীর জানান, গত বছর তারা তাদের বেশির ভাগ উচু জমিতে পাট চাষ করেছিল। কিন্তু যে খরচ হয় তার তুলনায় পাটের দাম অনেক কম। সে কারণে এবছর তাঁরা পাট চাষ থেকে সরে এসে অন্য ফসলের প্রতি ঝুঁকছেন।

উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের সেকান্দার আলী ও আলহাজ ইসলাম জানান, এ বছর তাঁরা অল্পপরিসরে পাটের চাষ করেছেন। কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, পাটের উৎপাদন খরচের চেয়ে দাম কম। তাছাড়া এখানে গো-খাদ্যের চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে তারা গো-খাদ্য চাষে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম জানান, এ অঞ্চলে গো-খাদ্যের চাহিদা বেশি হওয়ায় ও পাটের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়াতে কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: