Posted in

সৌন্দর্য বর্ধনে রঙ্গন ফুল

সাতক্ষীরা থেকে নুরুল হুদা

রঙ্গন। বাগানের অতি পরিচিত একটি ফুলের নাম। এটি একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। ঘন সবুজ রঙ্গন গাছে লাল, গোলাপী, হলুদ, কমলা ও সাদা রংয়ের ফুল দেখা যায়। শহর বা গ্রামে প্রায় সবার কাছেই এই ফুল পরিচিত। শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে রঙ্গন সহজেই বাগান প্রেমিকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

রঙ্গন এর আরেক নাম রুক্সিনী। এর ইংরেজি নাম Jungle geranium, Flame of the woods, Jungle flame। এর বৈজ্ঞানিক নাম Ixora coccinea। রঙ্গন তিন থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। ফুল আকারে ছোট, নলাকৃতি। গাছের আকৃতি ঝোপালো, শাখা-প্রশাখা ছড়ানো, পাতা সবুজ। বাগানের শোভা বর্ধনে রঙ্গন ফুল ও গাছের ভূমিকা অতুলনীয়।

20180426_180912

সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুতে ফোটে। তবে বর্ষায় এ ফুল বেশি ফোটে, অন্যান্য ঋতুতে সে তুলনায় কম ফোটে। প্রায় প্রতি শাখার অগ্রভাগে থোকা থোকা ফুল ফোটে, থোকায় থাকে অসংখ্য মঞ্জুরি।

ফুলের সৌন্দর্য সহজেই সকলের নজর কাড়ে। রঙ্গন গাছে সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে থোকা থোকা ফুল ফোটে। কিন্তু কোন কোন জাতের রঙ্গন বসন্তেও ফোটে। এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হল এর স্থায়িত্ব। অন্যান্য ফুলের তুলনায় এ ফুল দীর্ঘস্থায়ী।

রঙ্গন খুব কষ্টসহিষ্ণু গাছ। এ গাছের পরিচর্যা কম করা লাগে। পানি ও তুলনামুলক অনেক কম লাগে। যারা ছাদ বাগান করেন তারা ছাদে দুই একটা রঙ্গন গাছের টব রাখতে পারেন। এতে ছাদের সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পায়। এর চাষ পদ্ধতিও সহজ। ফুল ফোটা শেষ হয়ে গেলে রঙ্গন গাছ ছেটে দেওয়া ভালো।

20180426_180940

আমাদের দেশে উৎপাদিত রঙ্গনের বেশিরভাগই লাল। তবে হলুদ রঙ্গন ও দেখা যায়। সাদা রঙের রঙ্গন ফুলে রয়েছে মৃদু সুগন্ধ। সাদা রঙ্গন সিঙ্গাপুরে প্রথম চাষ হয়। রঙ্গন গাছে ফুল ফোটার আগে অসংখ্য ঊর্ধ্বমুখী মঞ্জুরি দেখতে পাওয়া যায়। মঞ্জুরি ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হয়ে তারকা খচিত থোকা ফুলে পরিণত হয়।

ফুটন্ত রঙ্গন ফুলের সৌন্দর্য অনেক দিন স্থায়ী থাকে। লাল রঙের মঞ্জুরির মধ্যে হঠাৎ কিছু কিছু সোনালি বা ঘিয়ে রঙের মঞ্জুরির মিশ্রণ লক্ষ্যণীয়। প্রতি মঞ্জুরিতে পাপড়ি চারটি, মাঝে ক্ষুদ্র আকৃতির অবস্থিত। গাছের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত।

IMG_20180426_181234

রঙ্গনের ফল থেকে চারা জন্মানো যায়। আবার পরিণত গাছের ডাল নিচ থেকে কেটে মাটিতে রোপণ করে নিয়মিত পানি দিয়ে পরিচর্যা করলে কয়েকদিন পরই মূল গজায়। জোড়া কলম করেও রঙ্গনের বংশবিস্তার করা যায়। বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পার্ক এবং বাড়ির ছাদ ও বারান্দার টবে রঙ্গন ফুল গাছ লাগানো যায়। দেখতে সুন্দর বলে রঙ্গন ঠাঁই করে নিয়েছে প্রায় প্রতিটি ফুল বাগানে।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে রঙ্গন ফুলের জনপ্রিয়তা বেশি। চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষে বৌদ্ধরা রঙ্গনের থোকা থোকা ফুল, ডাল, পাতা সংগ্রহ করে ঘরের দরজায় ঝুলিয়ে রাখে। বৌদ্ধদের কাছে রঙ্গন ফুল বিযু ফুল নামে পরিচিত।

IMG_20180426_181923

রঙ্গন গাছের কান্ড ও শাখা প্রশাখা ভালই শক্ত। সব ধরনের মাটিতে রঙ্গন ফুল গাছ জন্মে। বাসা বাড়ি, অফিস-আদালত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পার্ক এবং বাড়ির ছাদ ও বারান্দার টবে রঙ্গন ফুল গাছ চোখে পড়ে। বাংলাদেশের সর্বত্রই এই ফুলের দেখা পাওয়া যায়।

কষ্ট সহিষ্ণু ফুল গাছ হিসেবে রঙ্গন খুবই সমাদৃত। প্রতিকূল অবস্থায় টিকে থাকতে পারায় দিনদিন রঙ্গন ফুলের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সৌন্দর্য প্রেমীরা তাদের বাগানে ঠাই দিচ্ছেন রঙ্গন ফুলকে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.