সাম্প্রতিক পোস্ট

কাউখালীতে নারিকেলের ন্যায্য দাম মিলছে না

দেবদাস মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি, উপকূল অঞ্চল
ধান,পান, সুপারি ও নারিকেল চাষে বিখ্যাত দক্ষিণ উপকূলীয় পিরোজপুরের কাউখালী নারিকেল উৎপাদনে ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কালের বিবর্তনে ধান, পান হারিয়ে গেলেও লাভজনক কৃষিপণ্য হিসেবে সুপারি ও নারিকেল এখনও টিকে আছে। কাউখালী উপজেলায় ব্যাপক হারে নারিকেলের পরিকল্পিত চাষ রয়েছে। এখানকার কৃষক আপদকালীন সময়ে নারিকেল বিক্রি করে সংসরের স্বচ্ছলতা ধরে রাখছেন।

পিরোজপুরের কাউখালীতে এ বছর সুপারি, আর ধানের ন্যায় নারিকেলের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর রেকর্ডসংখ্যক ফলন হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় বাজারে নারিকেল ব্যবসা চলছে জমজমাট। চলতি মৌসুমে উপজেলায় কোটি কোটি টাকার নারিকেল বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে এতে মধ্যস্বত্বভোগী মুনাফালোভীরা বেশ লাভবান হলেও নায্যমূল্য পাচ্ছেন না চাষীরা। এজন্য স্থানীয়ভাবে নারিকেলভিত্তিক মিল কারখানা গড়ে না উঠা ও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

devdasউপজেলার নারিকেলের প্রধান মোকাম হচ্ছে উপজেলার দক্ষিণ বাজার, চিড়াপাড়া নদীর ভাসমান বাজার, উওর বাজার।
এ খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় পিরোজপুরে তেলসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার জন্য দেশের শিল্প উদ্যোক্তা ও সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে স্থানীয় নারিকেল-সুপারি চাষিরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১০৫ হেক্টর জমিতে নারিকেলের বাগান রয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখেরও অধিক নারিকেল বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যার মূল্য চার কোটি টাকা। এসব নারিকেল যাচ্ছে ভৈরব, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায়।

সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার নারিকেল চাষী শহীদুল ইসলাম জানান, তার প্রায় ২ শতাধিক নারিকেল গাছ রয়েছে। নারিকেল চাষে তেমন খরচ নেই। প্রথমে গাছ লাগিয়ে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা করতে হয়। গাছ লাগানোর পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে গাছের মাথা পরিস্কার করতে হয়। একেকটি নারিকেল গাছ ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ২০০-৩০০টি পর্যন্ত নারিকেল পাওয়া যায়। এ মৌসুমে তিনি একশ’ নারিকেল ১৪শ’ থেকে ১৭শ’ টাকা দরে ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার নারিকেল বিক্রি করেছেন।

অপর নারিকেল চাষী হারুন জানান, বাগেরহাটসহ যেসব জেলায় নারিকেল ভিত্তিক কারখানা রয়েছে সেখানে হাজার পিস নারিকেল ২৫-৩০ হাজার টাকা হলেও ওই পরিমাণ নারিকেল কাউখালী বাজারে পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে ১৩-১৮ হাজার টাকা। এতে করে তারা ন্যায্যমূল্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় পিরোজপুর  জেলায় তৈলসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে তোলা প্রয়োজন মনে করেন এখানকার কৃষকরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার জানান, উপজেলায় বছরজুড়ে নারিকেলের কেনাবেচা হলেও জমজমাট ব্যবসা হয় বর্ষা মৌসুমে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় নারিকেল ফসল লাভজনক হয়েছে। তবে নারিকেলসমৃদ্ধ এ উপজেলায় নারিকেলভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে এলাকার বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

happy wheels 2
%d bloggers like this: