Posted in

বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রীড়া চর্চা গড়ে তুলতে পারে তরুণদের সংহতি

বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে শহিদুল ইসলাম

দিনে দিনে ভয়ানক হয়ে উঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে চলমান সময়ের উন্নয়নের বিভিন্ন দিকগুলো। ভার্চুয়াল জগত যেমন আমাদের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে। তেমনি সঠিক ব্যবহারের অভাব আর অতিরিক্ত আসক্তির কারণে আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা, আত্মউন্নয়ন, দৈহিক ও মানসিক উন্নয়নসহ আন্তঃসম্পর্কের দিকগুলোকেও চ্যালেঞ্জ করছে। এর প্রধান ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে নবীনরা, তরুণরা।

IMG_2659 (2)

এক সমীক্ষায় দেখা যায় বিগত ১০ বছরের আগের তুলনায় তরুণরা বর্তমান সময়ে আরো বেশি একাকিত্ব ভুগছে। বন্ধু বলতে সেগুলোর বেশির ভাগই ভার্চুয়াল বন্ধু। যার সাথে কখনো দেখা হয় না বা দেখা হলেও কম। আবার দেখা যাচ্ছে তরুণদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়গুলো বা মাধ্যমগুলো আছে সেগুলো আর আগের মতো ক্রিয়া না হবার কারণে সখ্যতা কমে গেছে। যার ফলে তরুণদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক, যৌথভাবে সমাজ উন্নয়নসহ তারুণ্যের সংহতি কমে গেছে। এক সময় খেলার মাঠের মধ্যেও শিশু কিশোর, নবীন ও তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হতো। কিন্তু দিনে দিনে ভার্চুয়াল খেলার জগতে তরুণরা বেশি আসক্ত হবার কারণে তাদের দৈহিক, মানসিক এবং আন্তঃসম্পর্কের দিকগুলো নাজুক হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অসচেতনতার কারণে শিশু কিশোররাও এই খেলায় অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিখ্যাত প্রথম সারির ফরেনসিক সাইবার মনোবিজ্ঞানী ডাঃ মেরী এইকেন তাঁর প্রকাশিত ‘সাইবার ইফেক্ট’ বইয়ে বলেছেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত আচরণকে পরিবর্তন করছে।’ একই সাথে তিনি আরো বলেছেন এটি শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের বিশেষ করে নবীনদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এর ফলে এটি অপরাধ ও অসামাজিক আচরণকে সহায়তা করছে, যা ক্ষেত্র বিশেষে ভয়ানক আকার ধারণ করছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনে দিনে দৈহিক কসরতের খেলাধুলাগুলো কমে যাচ্ছে। এর স্থানে জায়গা করে নিয়েছে ভার্চুয়াল বা প্রযুক্তিনির্ভর খেলাধুলা। সময় কেড়ে নিচ্ছে র্ভাচুয়াল জগত বা প্রযুক্তিনির্ভও খেলাধুলা। এর ফলে ঘরে বসেই একাকিত্বভাবে মোবাইলে, ল্যাপটপে বা কমিউপাটারে ভার্চুয়াল খেলায় বেশি সময় দিচ্ছে। যার ফলে মাঠে ঘাটে এবং যৌথভাবে প্রত্যক্ষ খেলাধুলা কমেছে। মানুষের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক এবং যৌথ উদ্যোগগুলোও কমে যাচ্ছে। শারীরিকভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

BARCIK

কিন্তু এতো কিছুর পরেও সচেতন তরুণ থেমে নেই। সচেতন তরুণ তাদের সমৃদ্ধিময় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং শাররিক কসরত নির্ভর লোকজ ক্রীড়াগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। এরই উপলক্ষে সম্প্রতি রাজশাহীর তরুণরা “প্রীতি ক্রীড়ার মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠবে তরুণদের সংহতি” বিষয়কে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী রাজশাহী মহানগরীর দশটি তরুণ সংগঠনের অংশগ্রহণে বেসসরকারী উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি রক্ষা কেন্দ্র’র যৌথ আয়োজনে প্রীতি ক্রীড়া উৎসব আয়োজন করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ খেলার মাঠে উক্ত ক্রীড়া অনুষ্ঠানে রাজশাহীর শতাধিক তরুণ তরুণী, শিশু ও প্রবীণ অংশগ্রহণ করেন। সকাল ৯ টায় জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা হয়। উক্ত প্রীতি ক্রীড়া উৎসবে বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া দৈহিক কসরতে খেলা হাডুডু (কাবাডি), বিস্কিট দৌড়, ফুটবল, হাড়িভাঙ্গা, মোরগ লড়াই, নবীণ ও প্রবীণদের দৌড়, নারীদের বল নিক্ষেপ, যৌগিক দৌড়, গোস্ত চুরি, কানামাছি, গোল্লাছুট, বউচি ইত্যাদি খেলাগুলো প্রতিযোগিতামূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ফুটবল ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন হয় বারসিক দল, রানার্সআপ হয় রোটার‌্যাক্ট নর্থবেঙ্গল ক্লাব রাজশাহী। দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হন হিমেল, নারীদের বল নিক্ষেপে প্রথম হন জারিন জরি, কাবাডি খেলায় প্রথম হন রবিনের দল, বিস্কিট দৌড়ে প্রথম হয় শিশু শুভ ইসলাম।

IMG_2698

খেলা শেষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি ভরা তারুণ্যের রাজশহী গড়বো শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী, বিইসিডিপিসি সভাপতি জাওয়াদ আহমেদ রাফি, ইয়্যাস এর সভাপতি শামীউল আলিম শাওনসহ বারসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও তরুণ সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ। আলোচনায় তরুণরা বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সংহতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শ্রদ্ধাপূর্ণ বৈচিত্র্যময় সমাজ। এই খেলার মধ্যে দিয়ে আমাদের যেমন নিজস্ব ঐতিহ্যগুলো সম্পর্কে জানলাম তেমনি আগামীতে নিয়মিত খেলা ধুলার মধ্যে দিয়ে নিজেকে আমরা আরো সুন্দর ও সুখীময় করে তুলতে পারবো।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.