সাম্প্রতিক পোস্ট

প্রাণ-প্রকৃতিকে জানতে হবে

নেত্রকোনা থেকে রুখসানা রুমী

নেত্রকোনা অঞ্চলে দিন দিন কমে আসছে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র, তৈরি হচ্ছে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। সভ্যতার উন্নয়নের নামে মানব জাতির প্রকৃতি 0000বিধ্বংসী কাজ, প্রকৃতির প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণের কারণে প্রকৃতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মানুষের কাছ থেকে। যার ফলে প্রকৃতি মাঝে মাঝেই বিরূপ আচরণ করছে আর প্রকৃতিতে নেমে আসছে মারাত্মক বিপর্যয়। একইভাবে আমরা দেখি দিনদিন কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ, দখল হয়ে যাচ্ছে জলমহাল, ভরাট হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে নদী, নালা, খাল, বিল, মাছের অভয়াশ্রম ও প্রজনন কেন্দ্র, বিলুপ্ত ও বিপন্ন হচ্ছে মাছের প্রজাতি, হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের ঐতিহ্যবাহী পেশা, মানুষ হয়ে পড়ছে দরিদ্র। নদী, খাল, বিল, হাওর, জলাভূমি বিলুুপ্তির ফলে কমছে প্রাকৃতিক মাছের বৈচিত্র্য, মানুষ সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে চাষকৃত মাছের উপর, প্রাকৃতিক মাছের উপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

কিন্তু আমরা জানি নেত্রকোনার নদ-নদীতে ছিলো বৈচিত্র্যময় নানা প্রকৃতির মাছ, ছোট বেলায় মা-বাবা, দাদা-দাদী ও নানা-নানীর মুখে শুনেছি এসব বৈচিত্র্যময় মাছের মজার মজার গল্প। এর মধ্যে ছিল মাছ ধরার গল্প, উইজ্যার গল্প, কাডা (মাদা) দিয়ে নদীতে মাছ ধরার কাহিনী কিন্তু নেত্রকোনার পাহাড়ি নদী, হাওর, বিল, খাল, জলাশয়ে এখন আর আগের মতো মাছ দেখা যায় না। নদী-নালা, খাল-বিল, হাইল-হাওর ও জলাশয়ে স্থানীয় জাতের মাছ আশংকাজনক হারে কমে গেছে। মাছের বংশ ধ্বংস হওয়ার মতো পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ ও উন্নয়নের নামে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, নদী ও হাওরে বাঁধ দিয়ে মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার ফলে মাছের বৈচিত্র্য এখন বিলুপ্তির পথে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বলতে পারে না বৈচিত্র্যময় স্থানীয় জাতের গাছের নাম, স্থানীয় জাতের মাছের নাম, নদীর নাম, ধানের ও পাখির নাম।
000
প্রাণবৈচিত্র্য সম্পর্কে এবং প্রকৃতির সাথে পরিচিতি তৈরির লক্ষ্যে গত ২৩ মে নেত্রকোনা জেলায় মদনপুর ইউনিয়নের সাজিউড়া মফিলা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘গাছ চিনি, প্রকৃতিকে জানি, প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলি’ শিরোনামে স্কুল পর্যায়ে বক্তৃতামালা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বক্তৃতামালায় অংশগ্রহণ করেন কবিরাজ সবুজ মিয়া ।

বক্তৃতামালায় গাছ চেনার ব্যবস্থা, ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, প্রকৃতি বিষয়ে কুইজ কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বক্তৃতামালা অনুষ্ঠানের ফলে প্রায় চারশত শিক্ষার্থী কবিরাজের বাড়ি গিয়ে ৪০ জাতের ঔষধি গাছ (গাছ/লতাগুল্ম) সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১০টি স্থানীয় জাতের ধানের নাম এবং ১৫টি অচাষকৃত উদ্ভিদের নাম, ব্যবহার পদ্ধতি ও নেত্রকোনা অঞ্চলের নদ-নদী সম্পর্কে জেনেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফয়েত আহম্মেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের চারপাশের প্রকৃতিকে জানুক, জেনে প্রকৃতি চর্চায়, প্রকৃতি রক্ষায় উদ্যোগী হয়ে উঠুক।” স্থানীয় জাতের গাছ, ঔষধি গাছ, আচাষকৃত উদ্ভিদ সর্ম্পকে শিক্ষার্থীদের জানার পরিধি প্রসারিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: