সাম্প্রতিক পোস্ট

আমরা গড়তে চাই সবুজ পৃথিবী

নেত্রকোনা থেকে হেপী রায়
“সব গাছ কাইট্টা ফালাইছে, অহন আমি অষুধ বানামু কি দিয়া?” বহু বছর আগে আমাদের প্রচার মাধ্যমের জনপ্রিয় একটি বিজ্ঞাপন ছিল এটি। একজন কবিরাজ জঙ্গলের ধারে ঔষধের গাছ খুঁজে না পেয়ে আক্ষেপের সুরে এই কথাগুলো বলেছিলেন। গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতে এবং গাছের গুরুত্ব বোঝাতে এই বিজ্ঞাপনটি প্রচার করা হতো কিন্তু তাতেও মানুষ সচেতন হয়েছিল বলে বর্তমান সময়ে তা বোঝা যায় না। তাই যদি হতো তবে আমাদের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকতোনা। মানুষ নিজের প্রয়োজনে, আরাম আয়েশি জীবনযাপন করতে গিয়ে গাছ কেটে জঙ্গল উজাড় করে ফেলেছে। আমাদের পরিবেশ দিন দিন উষ্ণতর হচ্ছে। এই পরিবর্তিত অবস্থার সাথে টিকে থাকতে হলে আমাদের খাপ খাইয়ে চলার কৌশলগুলো রপ্ত করতে হবে।

IMG_20180805_123157
‘একটি গাছ কাটলে দুটি লাগাতে হবে’ এই নীতি কেউ অনুসরণ করেনি। তাই অতীতের ভুলগুলো শুধরে নিতে এগিয়ে এসেছে নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা। গতকাল লক্ষ্মীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এবং বিদ্যালয়ের ফটক থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত রাস্তার পাশে হরিতকি এবং বহেড়ার চারা রোপণ করেছে। স্থানীয় যুব সংগঠন ‘বন্ধু মহল’ এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে সহায়তা করেছে বারসিক ।

IMG_20180805_125617
বৃক্ষরোপণ বিষয়ে লক্ষ্মীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্কুল কেবিনেট এর প্রধান অসীম কুমার বলে, “আমরা নতুন প্রজন্ম, তাই স্বপ্ন দেখি সোনালি ভবিষ্যতের। আমরা গড়তে চাই সবুজ পৃথিবী। যেখানে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলে থাকবেনা কোনো বিষাক্ত কার্বন। এখন বর্ষাকাল। গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। বিদ্যালয় আমাদের প্রাণ। আমরা সারাদিন এখানেই কাটাই।” সে আরও বলেন, “আমরা পাঁচ বছর যাবৎ এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছি। এখানকার প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ সবই আমাদের আপন। আগামীতে এস.এস.সি পরীক্ষা দিব। তারপর কোনো কলেজে ভর্ত্তি হবো। এই বিদ্যালয়ে এখনকার মতো নিয়মিত আর আসবোনা। কিন্তু আমরা না থাকলেও যাতে এই প্রাঙ্গণে আমাদের স্মৃতি থাকে তাই আমরা এখানে আজ গাছের চারা রোপণ করলাম। এই চারা একদিন বড় হবে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্¥ যারা এখানে পড়তে আসবে তারা এই গাছ রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এবং আমাদের মতো তারাও বৃক্ষ রোপণে আগ্রহী হবে।”

IMG_20180805_130317
গাছের চারা রোপণের সময় উপস্থিত ছিলেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এ.টি.এম এখলাছুর রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ৃন্দ। গাছ রোপণে সহায়তা করে দশম শ্রেণি এবং স্কুল কেবিনেট এর শিক্ষার্থীগণ। তারা নিজেরাই গর্ত করা, চারা রোপণ করা, বেড় লাগানো ইত্যাদি কাজ করেছে। চারা রোপণ শেষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে বৃক্ষের উপকারিতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগে সহায়তা করার জন্য তিনি বারসিককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: