Posted in

আনন্দ আর উচ্ছাসে বর্ষবরণ পালিত শ্যামনগরে

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে মননজয় মন্ডলঃ

বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির অন্যতম উৎসব হিসেবে সমাদৃত। আর যে কারণে প্রতিবছরের ন্যায় উৎসব আমেজে নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। আনন্দ আর উচ্ছাসে শেষ হল শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্তরে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। বিগত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত এই মেলায় ছিল শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চত্তরে হাজারো মানুষের পদচারণা। বিশেষ করে বিকাল থেকে ছিল জনমানুষের ভীড়।
বৈশাখী মেলায় প্রাণের জোয়ার (1)
তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান মেলার মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এসএম জগলুল হায়দার। তিন দিনব্যাপী বৈশাখী আয়োজনের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা এবং মনকাড়া ব্যবস্থাপনার আয়োজন ছিল উপজেলা প্রশাসনের। বৈশাখী আয়োজনের সার্বিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম। বৈশাখী উৎসবের অনুষ্ঠান মালার মধ্যে ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা, নাগর দোলা, উপজেলা প্রশাসন বনাম সাংবাদিক রশিটানা, জনসাধারণের পুকুরে হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজ এবং শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের মধ্যে হাডুডু প্রতিযোগিতাসহ অন্যান্য গ্রামীণ খেলাধূলা। এর মধ্যে ছিল কুষ্টিয়া লালন একাডেমীর লালন সংগীত পরিবেশন, খুলনা বেতারের পরিবেশনায় রম্য নাটক আয়না, কুষ্টিয়ার অন্ধ বাউলের সংগীত পরিবেশন, শ্যামনগরের শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা লোকনাট্য ইনস্টিটিটিউটের গণসংগীত পরিবেশনাসহ অন্যান্যদের বৈশাখী গান, নৃত্য পরিবেশনা। যেন উৎসবে আমেজে ভরপুর ছিল উপজেলা পরিষদ চত্তর।

বৈশাখী মেলায় প্রাণের জোয়ার (2)মেলায় ১৫টি স্টলে গ্রামীণ উপকরণ প্রদর্শন করা হয়। যেখানে, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ ও বেতের জিনিস, আরিজুরির কাজ, নানা হস্ত শিল্প, যুব উদ্যোগ, জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা, মুড়ি মুরকির, মৎস্য যাদুঘর ও কুড়িয়ে পাওয়া সবজি ও ঔষধি উদ্ভিদবৈচিত্র্য এর প্রদর্শনী স্টলসহ বিভিন্ন স্টল মানুষের হৃদয় কাড়ে। বারসিক এর ‘এসো পুষ্টির গল্প শুনি’ ব্যানারের স্টলে আদাবরুন/বিলশাক, তেলাকচু, ঘুমশাক, কলমীশাক, গাদামনি শাক, হেলাঞ্চ, মাটিফোড়া শাক, খুদকুড়ো, হাতিশূর, সেঞ্চি শাক, ঘোড়া সেঞ্চি, কাটানটি, গিমে শাক, থানকুনি, কালকচু, কৃষ্ণ তুলসী, রাধা তুলসী, মাধবীলতা, যাঁতিফুল, শিষ আকন্দ, শ্বেত আকন্দ, বাউফুল, কানফুল, মোচা ও কলার থোড়সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক অচাষকৃত উদ্ভিদবৈচিত্র্য এর সমারোহ সকল দর্শনার্থীকে আকর্ষিত করে। বৈশাখী মেলার সর্বশেষ আয়োজন রবিবার শেষ দিনে ছিল সকলের আকর্ষণীয় লটারি ড্র অনুষ্ঠান।

শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করেন সোনার বাংলা শপিং সেন্টার। সব মিলিয়ে শ্যামনগরের বৈশাখী আয়োজন সকল মানুষের মন কেড়েছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.