সাম্প্রতিক পোস্ট

নেতা হওয়া সহজ নয়; নেতাকে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল
বারসিক’র উদ্যোগে গত ৯-১১ মার্চ ২০২০ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তিনদিন ব্যাপী সংগঠন ব্যবস্থাপনা, জননেতৃত্ব এবং উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় নেত্রকোনা জেলার বারসিক সংগঠন ব্যবস্থাপনা,পরীবিক্ষণ ও সহায়ক কমিটি’র ৭ জন এবং সাতক্ষীরার ৮জনসহ শ্যামনগর এলাকার বারসিক’র সকল মিলে ৩১ জন অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার সহায়ক হিসাবে সহায়তা করেন বারসিক শ্যামনগর ও নেত্রকোনার পরিচালক পাভেল পার্থ ও সৈয়দআলী বিশ্বাস এবং সহযোগী সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম।


তিনদিনের কর্মশালাটি বারসিক শ্যামনগর রিসোর্স সেন্টার কার্যালয়, দাতিনাখালী বনজীবী নারী উন্নয়ন সংগঠন, বুড়িগোয়ালিনী আশ্রয়ন প্রকল্প ও ধুমঘাট শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মশালার শুরুতে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা মনিকা পাইক। তার কথার সাথে যুক্ত করে কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং কমিটির কেন তৈরি তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন করেন মূল সহায়কগণ। তারা বলেন, ‘আমরা তিনদিনের এই কর্মশালার মাধ্যমে বারসিক’র কর্মএলাকা নেত্রকোনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের বারসিক ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে কি কি কাজ হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে, কি কি সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং এ সমস্যা মোকাবেলায় কি কি উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, জনগোষ্ঠী ও এই কমিটি কিভাবে শক্তিশালী হতে পারে এখানে বারসিক আর কি করতে পারে তা জানার চেষ্টা করবো। সাথে এলাকার সমস্যা সমাধানে এই কমিটি যাতে জননেতৃত্বে উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে। তারা নিজ নামে সংগঠন চালু এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারে।


এরপর নেত্রকোনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের কমিটি’র সদস্যরা একে একে তাদের নিজ নিজ এলাকায় চলমান এবং বিগত সময়ের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। সাথে কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা তৈরি হচ্ছে? সমস্যা সমাধানে তাদের সবল দিকগুলো কি কি? দুর্বল দিক গুলো কি কি? কি কি সুযোগ আছে? কাজের ঝুঁকিগুলো কি? তাদের কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে বারসিক কি সহায়তা করতে পারে সেসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। পাশাপাশি উভয় অঞ্চলের কমিটি তাদের কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী,সমন্বয়, কার্যক্রম বিস্তার ঘটানো, প্রসাশনের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি হলে কি কি লাভ হতে পারে, তাদের সফলতাগুলো পারস্পারিক আলোচনার মাধমে সহভাগিতা করেন।


কর্মশালার দ্বিতীয় দিন অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের জনসংগঠনের কর্মউদ্যোগ পর্যবেক্ষণ করেন। প্রথমে বুড়িগোয়ালনী ইউনিয়নের দাতিনাখালী গ্রামের বনজীবী নারী সংগঠনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তারা জানার চেষ্টা করেন বনজীবী নারীরা কিভাবে সংগঠিত হয়েছে। সংগঠিত হয়ে তারা কি করছেন, সুন্দরবনের সম্পদ কিভাবে সংগ্রহ করেন এবং এ সম্পদ তারা কি কি কাজে লাগান তা জানার চেষ্টা করেন অংশগ্রহণকারীরা। একইভাবে বুড়িগোয়ালিনী আশ্রয়ন জনগোষ্ঠী বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে এক জায়গায় এসেছেন সেখানে কিভাবে মিলেমিশে আছেন এবং লবণাক্ততার ভেতর দিয়ে তাদের টিকে থাকার সংগ্রামী গল্প শোনা হয়। এরপর ধুমঘাট শাপলা নারী সংগঠনের কার্যক্রম কৃষানী অল্পনা রানীর বদলে যাওয়ার গল্প, তাদের একত্রিত হওয়া, নেতৃত্ব তৈরি ইত্যাদি বিষয় দেখা হয়। আর এই দেখার সাথে দুই অঞ্চলের জনগোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ কাজের ক্ষেত্র বর্নণা করেন। নেত্রকোনা অঞ্চলের কৃষি জীবন, জেলে জীবন, বাঁশবেত নির্ভর জীবন, আদিবাসী জীবন, কুমারদের জীবন এবং সেখানকার প্রকৃতি কেমন, কিভাবে তারা টিকে আছে তা সহভাগিতা করেন।


উভয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীরা জানান, তাঁরা যখন শুরু করেছিলেন তখন অল্প কয়েকজন নিয়েই শুরু করেছেন। এভাবে সংগঠিত হয়ে সংগঠন তৈরি করছেন। এ প্রসঙ্গে নেত্রকোন এলাকার কৃষক নেতা সৈয়দ আহমেদ বাচ্চু বলেন, ‘নেতা হওয়া সহজ নয়। নেতাকে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। আজ আমি যে নেতা তার বিনিময়ে অনেক শ্রম ও সময় দিতে হয়েছে। নেতার কাজ হলো নিজেকে ভালো কাজে বিলিয়ে দেওয়া। আমরা যারা নেতা আমাদের সামনে বিভিন্ন সমস্যা আসতে পারে তাই বলে তো আর হাল ছাড়লে হবে না। আমরা প্রত্যেক মানষ ও জীব সবকিছু প্রকৃতির উপর নির্ভর করে টিকে আছি। যেমন বনজীবীরা বনের উপর আর কৃষকেরা কৃষির উপর। প্রতিনিয়ত লড়াই করে টিকে আছি।’
অন্যদিকে অংশগ্রহণককারীরা বলেন, ‘আজ আমাদের দু’অঞ্চলের মধ্যে একটি মেল বন্ধন তৈরি হলো। নিজেদের মধ্যে জানা বোঝা হলো। পারস্পারিক জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সহভাগিতা হয়েছে। আমরা যারা নেত্রকোনা থেকে এসেছি তারা যেমন কিছু দিতে পেরেছি তেমনি আমরা অনেক কিছু নিয়ে যেতে পেরেছি। আমাদের উভয়ের এলাকা, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ভিন্ন। তারপরও সবাই সবার কাছ থেকে শেখা ও জানার আছে। যে যেটা এই প্রশিক্ষণ থেকে পেয়েছি তা কাজে লাগানো।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: