Posted in

আবদুল লতিফের তথ্য সংগ্রহশালা

দেবদাস মজুমদার,বিশেষ প্রতিনিধি, উপকূলীয় অঞ্চল

মানুষের নানা রকম নেশা থাকে। কিছু ইতবাচক কিছু আবার নেতিবাচক। ইতিবাচ উদ্যোগগুলো সমাজ জীবনকে সমৃদ্ধ করে। তা অনুকরণীয় হয়। আমাদের সমাজ ও জীবন ব্যবস্থা থেকে সামাজিক উদ্যোগমূল কাজ ঠিক আগের মত না থাকলেও টিকে আছে। কোন কোন উদ্যোক্তা মানুষ নিভৃত জনপদে থেকেও সমৃদ্ধ সমাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। আবার যে কোন ক্ষুদ্র উদ্যোগও শুভ উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণীয় হতে পারে। আব্দুল লতিফ খসরু সে রকম একজন উদ্যোক্তা মানুষ।
devdas-pic-3
নেশা তথ্যচিত্র সংগ্রহ করা। এটা করতে পেরে নিজে সুখ পান, আত্মতৃপ্তি পান। তথ্যচিত্র সাজিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি জনপদ, সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির তথ্য বাংক। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কেউন্দিয়া গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে ষাটোর্ধ্ব বয়সী আব্দুল লতিফ খসরু ২০০৪ সালে কাউখালী উপজেলা শহরের উত্তর বন্দরে নিজ ভবনে একটি তথ্য সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করেন। তার স্বপ্ন নতুন প্রজন্ম ও এলাকার মানুষকে অনেক অজানা তথ্য জানানো। প্রতিদিন শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের দর্শনার্থীর ভীড় জমে তাঁর এ সংগ্রহশালায়।
devdas-pic-2-1
সংগ্রহশালায় রয়েছে দেশ বিদেশের বিখ্যাত ছবি, রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, এ জনপদের শিল্প সংস্কৃতি ও সংবাদ সযত্নে সংগ্রহ করে সংরক্ষিত করে রেখেছেন সংগ্রহশালায়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত এসব তথ্যচিত্র এলাকার মানুষের কাজে লাগছে। তার এ সংগ্রহশালা নিয়ে এ পর্যন্ত ৫০টি প্রদর্শনী করেছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ সংগ্রহশালা জেলা ও উপজেলার জনপদের তথ্য সম্পদ হিসেবে কাজে লাগবে এমন ধারণা থেকেই এ সংগ্রহশালা গড়ে তোলেন তিনি।

তিনি জানান, দীর্ঘ একযুগ ধরে তিনি এ কাজটি করছেন। তার সংগ্রহশালায় রয়েছে এ জনপদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আলোকচিত্র, পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত লিটল ম্যাগাজিন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত এ জনপদের সংবাদ ও প্রতিবেদনের কাটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আলোকচিত্র ও পরিসংখ্যানগত তথ্য। জেলা এবং উপজেলার জনপদের কোন তথ্য কারো প্রয়োজন হলে ছুটে যান আদুল লতিফ খসরুর প্রতিষ্ঠিত সংগ্রহশালায়। সেখানে রয়েছে ৫২র ভাষা আন্দোলনের ভাষা সৈনিকদের জীবনীর তথ্যচিত্র, রয়েছে কাউখালী উপজেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের তথ্যচিত্র, রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বহস্তে লেখা চিঠির ফটোকপিও। এছাড়া তার এ সংগ্রহশালায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাদের নামের তালিকাসহ রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় দলিলের তথ্যচিত্র, রয়েছে রানা প্লাজা, বিডিআর বিদ্রোহসহ নিমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের তথ্যচিত্র, সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ দূর্লভ তথ্যচিত্র, রয়েছে রূপসী বাংলার অনেক চিত্র। সংগ্রহশালায় প্রায় পাঁচ শতাধিক তথ্যচিত্র রয়েছে।
devdas-pic-1
এ সংগ্রহশালায় প্রতিদিন শত শত দর্শণার্থী আসেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শণার্থীদের জন্য খোলা থাকে এ সংগ্রহশালা। এ সংগ্রহশালায় দর্শণার্থীদের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে।

তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও অনেক দূর্লভ চিত্র সংগ্রহ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনি বলে তিনি জানান। সরকারের তরফ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও উৎসাহিত হবেন এ উদ্যোক্তা। এ সংগ্রহক এলাকার মানুষের কাছে একজন তথ্য ব্যাংকার হিসেবে পরিচিত। এলাকার শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা মানুষের মিলনক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে এ সংগ্রহশালাটি। আজও অনেক দর্শণার্থী দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দূর্লভ তথ্যচিত্র দেখতে এখানে আসেন। তাই সংগ্রহশালাটি কাউখালীর গর্বের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কাউখালীর বিশিষ্ট সংস্কৃতিকজন সুব্রত রায় বলেন, সত্যিকারের একজন মানুষ হতে হলে অনেক কিছু জানতে হয়। আর এ জানার ব্যবস্থা করেছেন কাউখালীর আবদুল লতিফ খসরু। তার এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.