Posted in

কৃষকদের ঐক্যশক্তির জয়!

মানিকগঞ্জ থেকে শাহীনুর রহমান

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের ফুলঝুুরি ও এগারশ্রী গ্রামের মাঝখান দিয়ে প্রবহামান নুরানী গংঙ্গা নদী। এ নদী পারাপারের মাধ্যমেই সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের ব্রী-কালিয়কৈর নয়াপাড়া এবং এগারশ্রী গ্রামের শতাধিক গ্রামের  পরিবারগুলো তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য কৈতরা, বায়রা, বরুন্ডি, বাংগালা হাটে যাতায়াত করেন। এছাড়া এ গ্রামগুলোর স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এ নদী পারপার করেই শিক্ষার্জন করেন। এ নদীটির ওপর একটি বাঁশোর সাকো রয়েছে, তাও ভাঙা! এতে অনেকসময় কৃষিপণ্যসহ শিক্ষার্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই এ নদী পার হন। স্থানীয়রা ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করলেও কোন ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনেনি!

bridge
এমতাবস্থায় ব্রী-কালিয়াকৈর নয়াপাড়া কৃষক-কৃষাণী সংগঠনের সদস্যগণ পুটাইল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি চিত্তোরঞ্জন সরকার ভেজার কাছে বিষয়টি অবহিত করেন। তাঁরা নুরাণী গঙ্গা নদীর উপর একটি লোহার ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানান। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি চিত্তোরঞ্জন সরকার ভেজা ব্রীজটি নির্মাণ করার আশ্বাস প্রদান করেন এবং ইউনিয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি আলোচনা করবেন বলে জানান। তবে সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে ব্রীজটি নির্মাণ না হওয়ায় সংগঠনের সদস্যগন আবারও ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি চিত্তোরঞ্জন সরকার ভেজার সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার সহযোগিতায় তাঁরা বিষয়টি পুটাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন আব্দুল জলিলকে জানান। কৃষকদের এই দাবিকে যৌক্তিক বলে মনে করে চেয়ারম্যান সরকারের এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় এই ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দেন। তিনি ব্রীজ নির্মাণ কাজের দায়িত্ব কৃষক সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চিত্তোরঞ্জন সরকার ভেজাকে দেন। অবশেষে ২০১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

স্থানীয় সরকারের এ ধরনের সেবা প্রাপ্তির বিষয়ে ব্রী-কালিয়াকৈর নয়াপাড়া কৃষক-কৃষাণী সংগঠনের সভা প্রধান মো. হযরত আলী বলেন, “আমদের সংগঠনের ঐক্যশক্তির কারণেই এই ব্রীজটি আজ নির্মিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ এ ব্রীজটি নির্মিত হওয়ায় আমরা লাভবান হচ্ছি। কেননা স্বল্প খরচে আমাদের কৃষিপণ্যগুলো বাজারে নিতে পারছি। এতে যেমন যাতায়াত খরচ কমবে, সময়ও বাঁচবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্কুল ও কলেজে আসা-যাওয়াটা ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছে।” তিনি জানান, এ ব্রীজটি হওয়ার কারণে পার্শ্ববতী হাট বাজারের অন্যান্য গ্রামের মানুষের সাথে তাদের যোগাযোগ সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া নিয়মিত যোগাযোগ করার কারণে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সাথেও তাদের একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে; যে সম্পর্কের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের অন্যন্য সেবা আদায় করা সম্ভব হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.