Posted in

আমরা কারো বোঝা হতে চাই না

সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল ও চম্পা মল্লিক
বারসিক’র উদ্যোগে গতকল কাশিমাড়ি ইউনিয়নে গোবিনন্দপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সোবহান মোড়লের বাড়িতে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সুরক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মতবিনিময় সভায় জয়নগর গ্রামের বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিসহ শিশু-নারী-প্রবীণ, কৃষক-কৃষাণী, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও বারসিক’র চম্পা রানী মল্লিক ও বিশ^জিৎ মন্ডল অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভায় বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি রেহানা বেগম আনোয়রা, সোহরাব মোড়লরা জানান, ‘আমরা যে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি হয়েছি এখানে তো আমাদের কোন হাত ছিলো না। আমাদের এবং প্রবীণ মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। প্রবীণ মানুষ আর আমরা সমাজে অবহেলিত। আমরা যারা একটু চলতে, শুনতে ও বুঝতে পারি এই অবহেলা বুঝতে পারি।’


তারা আরো জানান, ‘আমরা বিশেষভাবে সক্ষম হলেও অনেক সময় অনেক কিছু করতে পারি। আমরাও কাজ করতে চাই। কারো কাছে হাত পাততে চাই না। কিন্তু কেউ তো আমাদের কোন কাজে নেয় না বা কোন কাজ দেয় না। আমরা যা পারি সেগুলোতে যদি সহায়তা পেতাম তাহলে নিজেদের কাছেও ভালো লাগতো। আমরা কারো বোঝা হতে চাইনা।’


সভায় অংশগ্রহণকারী কৃষাণী রোজিনা বেগম ও তার স্বামী বলেন, ‘আমার একটা ছেলে ৬ বছর বয়স তারও সমস্যা। দিনের ২৪ ঘণ্টা তার সাথে আমাদের সময় দিতে হয়। সে নিজে চলা ফেরা করতে পারে না। কিছু বলতে পারেনা। নিজে খেতে পারে না। সব কিছু আমাদের করতে হয়। দিনে রাতে সমানভাবে তাকে দেখতে হয়। মাঝে মধ্যে সারারাত জেগে থাকতে হয়। যে পিতা মাতার সন্তান এমন হয় তার কষ্ট সেই পিতামাতা ছাড়া আর কেউ বোঝেনা। আমাদের এখানে এমন কয়টি পরিবার আছে যে পরিবারে ২ থেকে ৩ জন করে সদস্য প্রতিবন্ধী। তাদের আয় রোজগার ও নেই। লোকের বাড়ি চেয়ে চেয়ে খেতে হয়। এদের না আছে কোন প্রতিবন্ধী কার্ড। না পায় কোন সহায়তা। আবার যাদের কার্ড আছে তাতে যা পায তাতে চলেনা। তাদের খাবার ও চিকিংসা চালানো খুবই কষ্টকর হযে পড়ে। এর জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে যদি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে প্রতিবন্ধীরা কিছু হলেও চলতে পারবে।’


সভায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা তাদের উন্নয়নের জন্য কিছু দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলো সকল প্রতিবন্ধীদের কার্ড ও ভাতা নিশ্চিৎ করা, ভাতার পরিমাণ বাড়ানো, ফ্রি চিকিৎসা ও ঔষধের ব্যবস্থা, অকার ও হুইল চেয়ার, ঘর সহায়তা এবং যে ব্যক্তি যে কাজে পারদর্শী তাকে উপকরণ দিয়ে সহায়তা করা ইত্যাদি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.