Posted in

সাটুরিয়ায় শীতকালীন সবজিচাষিরা বিপাকে

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ ॥

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় দু’দফা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকেরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সম্প্রতি টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে পানি জমে যাওয়ায় কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে। বৃষ্টির পানি এখনো শীতকালীন সবজি ক্ষেত থেকে না নামায় সবজির চারায় পচন ধরছে। ফলে নতুন করে চারা রোপণ করায় কৃষকদের বাড়তি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

01

সাটুরিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, গত বন্যায় মানিকগঞ্জে কৃষকের কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়। তাই কৃষকেরা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু গত সপ্তাহের ভারী বর্ষণে এখানকার কৃষকদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার ধানকোড়া, ফুকুরহাটি ও বালিয়াটীতে সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়। এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি বাজারেও উঠতে শুরু করে। আর ধনে পাতা দুই সপ্তাহ গেলেই বিক্রির উপযোগী হতো। শিম, লাউ, মূলা, বেগুন, কপি, মরিচ, রসুন, পেঁয়াজের চারা রোপণ করে তা পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু হঠাৎ করে টানা প্রবল বর্ষণে এসব ক্ষেত তলিয়ে যায়।

02 (12)

সাটুরিয়ার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের জান্না গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, “৮৫ শতাংশ জমিতে আগাম বেগুন ও কপির চারা রোপণ করেছিলাম কিন্তু গত সপ্তাহের দুই দিনের বর্ষণের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে অর্ধেক চারা আবার পূনরায় রোপণ করতে হয়েছে।” রাইলা গ্রামের কৃষক লাল মিয়া জানান, ২০ শতাংশ জমিতে লালশাক রোপণ করেছেন, দুই দিনের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে তার প্রায় ছয় হাজার টাকার লালশাক পচে গেছে। একই গ্রামের মুস্তাজ মিয়া বলেন, ৪৫ শতাংশ জমিতে মরিচ ও বেগুনের মিশ্র চাষ করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির পানি টানা সাত দিন থাকায় তা মরে গেছে। ফলে তাকে আবার নতুন করে মাঠ তৈরি করতে হবে।”

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, চলতি বছরে এক হাজার হেক্টর জমিতে সবজি, ১৩০ হেক্টর জমিতে ধনিয়া পাতা এবং ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানকার কৃষকেরা আগাম শীতকালীন সবজি চারা রোপণ করে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছু এলাকার সবজি বাজারে উঠতেও শুরু করে। কিন্তু সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে এখনো অনেক ক্ষেতে পানি জমে আছে। ফলে তাদের আগাম অনেক শীতকালীন সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে সার ও বীজ সরবরাহ করলে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব বলে জানালেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.