সাম্প্রতিক পোস্ট

পানিফল শিংগাড় ও লিখাড় এখন আর দেখাই যায় না!

তানোর, রাজশাহী থেকে অসীম কুমার সরকার 

এক সময়ের গ্রামীণ নদী-বিলে পরিপূর্ণ ছিল গ্রামীণ মানুষের প্রিয় পানি ফল শিংগাড় ও লিখাড়। কিন্তু কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী এই সব পানিফল। সম্প্রতি তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়াহাটে দেখা মিলে এইসব পানিফলের।
এ নিয়ে অনেক প্রবীণ ব্যক্তিরা তাঁদের অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, “দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক সময় পর তানোর গোল্লাপাড়াহাটে এই পানিফল শিংগাড় ও লিখাড়ের দেখা পাওয়া গেল। তবে এই ফল নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীসহ নবীনরা কৌতুহলী হয়ে কিনেছেন এবং কিভাবে খেতে হয় তা বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে তানোর পৌরসভার সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. খালেকুজ্জামান বলেন, “দীর্ঘ একযুগের অধিক সময় পর এই পানিফল শিংগাড় ও লিখাড় গোল্লাপাড়া হাটে দেখে কিনে খেলাম। ভাবতেই পারিনি এতোদিন পর এই পানিফলগুলি খেতো পাবো!”

Exif_JPEG_420
এই ফল যে এলাকা থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে সেটা প্রমাণিত হলো তানোর পৌরসভা স্কুল ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের কথায়। স্কুল পড়–য়া পাপ্পু দাস, তানোর এ কে সরকার ডিগ্রী কলেজের বিএ শেষ বর্ষের ছাত্র শংকর মাহাতো, তানোর টিবিএল কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ইসমাইল হোসেনসহ অনেক শিক্ষার্থী জানান, এই ফল তারা আগে কখনও দেখেনি। তবে খেতে বেশ মজা।

 
এ বিষয়ে তানোর কুঠিপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবী মো. ইব্রাহিম, আর্দশ কৃষক নূর মোহাম্মদসহ বেশ কিছু লোকজন জানান, আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর পূর্বে তানোর বিলকুমারী বিলে এইসব পানিফল শিংগাড় ও লিখাড় পাওয়া যেত, যা তানোর গোল্লাপাড়াহাটসহ আশেপাশের হাটে তা বিক্রি হতো। এই সুস্বাদু পানিফল শিংগাড় খালি মুখে খাওয়ার পাশাপাশি রান্না করেও খাওয়া যেত। কিন্তু পানিফল লিখাড় শুধু খালি মুখে খাওয়া যায়।
এনিয়ে বারসিক গবেষক মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, “আগেকার দিনে নদী-বিল-খাল ছিল প্রাণ প্রকৃতি ও জলজ উদ্ভিদে ভরপুর। যেখানে দেখা যেত শাপলাফুল হতে ভ্যাট, ভ্যাটের খই, পদ্মফুল থেকে পদ্মখাজা, শিংগাড় ও লিখাড়সহ বিভিন্ন জলজ ফুল ও ফল। যা আজ বিলুপ্ত প্রায়।” তিনি জানান, বন, জঙ্গল উজাড় এবং প্রকৃতি বিনাসী কর্মকা-ের কারণে আজ প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো অথচ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এসব ফল হারিয়ে যাচ্ছে।
পানিফল শিংগাড় ও লিখাড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক ফল, উদ্ভিদ ও প্রাণকে রক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এসব ফল খাওয়া ও সংগ্রহের গল্প কেবল ইতিহাসেই পাওয়া যাবে।

happy wheels 2
%d bloggers like this: