সাম্প্রতিক পোস্ট

আমরুল - গোলাপি বর্ণের অপূর্ব ফুল

আমরুল – গোলাপি বর্ণের অপূর্ব ফুল

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) ॥

কত ফুল তুমি পথে ফেলে দাও মালা গাথো অকারণে আমি চেয়েছিনু একটি কুসুম সেই কথা পরে মনে … পথের ফুল, আমার নাম ‘অম্লবতি’ !!

আমরুল; অপূর্ব গোলাপি বর্ণের ফুল যে কোন মানুষকে আকৃষ্ট করে। বাড়ির আনাচে-কানাচে, বিশেষ করে ঠাণ্ডা মাটিতে আমরুল গাছ জন্মাতে দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলে শাক হিসেবে এর কদর বেশ! গ্রামদেশে শিশু-কিশোর-কিশোরীগণ খেলার ছলে এ শাক কাঁচা খায়। হতে পারে এই গাছ আমাদের কাছে অবাঞ্চিত, কিন্তু বাংলাদেশের আনাচে কানাচে সবজাগায় হয় এমন একটা গাছ সম্পর্কে আমাদের সবারই জানা উচিত। আমরুল স্থান বিশেষে চাঙ্গেরি, চতুস্পর্ণি, অম্লবতী,অন্বস্ঠা, ক্ষুদ্রাম্লিকা নামেও পরিচিত। এখনো গ্রামে অনেকে প্রচণ্ড গরমে, যে জমি বা মাটিতে আমরুল শাক জন্মে সেখানে গিয়ে একটু ঠাণ্ডা খোঁজে।

মানিকগঞ্জে আমরুল শাক, চুকা শাক, টক পাতা, চ্যাংদোলাসহ নানা নামে এর পরিচিতি। অযত্নে আর অবহেলায় যত্রতত্র জন্মে থাকে। আয়ুর্বেদসহ সকল ভেষজ চিকিৎসাশাস্ত্রে এ শাকের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। আমরুল ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত উচ্চতা পায়। ২/৩ ইঞ্চি ডগার উপর ফুল ফোটে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফুল ফোটে। যদিও ফুল ছাড়া আমরুলও এমনিতে অনেক সুন্দর হয় এর পাতার কারণে। ৩টি করে পাতা হয়, প্রতিটি পাতা আবার বিশেষভাবে জোড়া লেগে হৃদয় চিহ্নের মত আকার ধারণ করে।

Amrul

বাংলাদেশ প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনোমিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “বিশ্বে প্রায় ২০০ প্রজাতির আমরুল শাক জন্মে। তার মধ্যে বাংলাদেশে হলুদ ফুল আমরুল বেশি জন্মে। তবে গোলাপি আমরুল ফুলও দেখা যায় সচরাচর। আদিনিবাস দক্ষিণ-আমেরিকা। তবে ভারত উপমহাদেশে এ-উদ্ভিদ হাজার সাল আগেও ছিল তার প্রমাণ বেদ ও চরক সংহিতায় পাওয়া যায়। ইংরেজিতে Pink woodsorrel। বৈজ্ঞানিক নাম Oxalis debilis (var. corzmbosa) গুল্মজাতিও এ-উদ্ভিদ Oxalidaceae পরিবারভুক্ত।”

বিশিষ্ট আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক উত্তম পালিত বালেন, “এই গাছের নির্যাস রক্ত শোধনে সহায়তা করে বলে আয়ুর্বেদবিদগণ মনে করেন। সর্দি বসেগেলে, অম্লপিত্ত রোগে, কটিতে ব্যথায় এ শাকের বিশেষ ব্যাবহার আছে। ক্ষুধাবর্ধণ, জ্বর উপশমসহ আরো অনেক জানা অজানা ব্যবহার আছে এ-শাকের। আমরুল শাকে অক্সালিক অ্যাসিড থাকে বেশ পরিমাণ। ফলে এ-গাছের পাতা টক স্বাদযুক্ত। রান্না করলে অম্ল অনেকটাই কমে যায়। গ্রামাঞ্চলে শাক হিসেবে এর কদর বেশ! গ্রামদেশে শিশু-কিশোর-কিশোরীগণ খেলার ছলে এ-শাক কাঁচা খায়।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সৌখিন ফুল চাষী নাহিদা জেনী বলেন, “আমরুল ফুল আর গাছ দুইটাই আমার ছোট বেলার একটা খেলার ফুল। খেলার ফাকে এই গাছের টক পাতা টুপটাপ খেয়ে ফেলতাম। দুপুর বেলায় রোদ্রের সময় কড়ই গাছের নিচে বসে থাকার সময় আসে পাশের অযত্নে কিন্তু সুন্দরভাবে গজিয়ে উঠা আমরুলের দিকে তাকিয়ে থাকা এখনো চোখে ভাসে। একটা জিনিস নিশ্চিত ছিল, প্রচন্ড রোদ অথবা যত গরমই হউক না কেন, যেখানে আমরুল গাছ আছে, সেখানে কিছুটা হলেও ঠাণ্ডা পাওয়া যাবে। কেননা এই গাছ একটু ঠান্ডা জায়গাতেই জম্নায়, দেখতে সুন্দর ছোট ছোট হলুদ ফুল হয় এই গাছে। আবার এই গাছের পাতাও অনেক সুন্দর।”

শোভাবর্ধন বা রোগ উপশম যে প্রয়োজনেই হোক, যেকোনো বাগানে এ-গাছের উপস্থিতি অবশ্যই আপনার বাগানকে সমৃদ্ধ করবে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: