সাম্প্রতিক পোস্ট

বিষখালীর সুস্বাদু কোরাল

বিষখালীর সুস্বাদু কোরাল

দেবদাস মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি, উপকূলীয় অঞ্চল

বরগুনার বামনার বিষখালী নদীতে এক জেলের বেহেন্দী জালে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের একটি কোরাল মাছ। গত শনিবার ভোররাতে বিষখালী নদীর রুহিতা মোহনায় আবু জাফর সিকদার (৩৫) নামে এক জেলের বেহেন্দী জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি ওই জেলে বামনা সদরের মাছের বাজারে নিয়ে আসলে কোড়াল মাছটি দেখতে উৎসুক জনতার ভীর জমে। এর আগে বিষখালী নদীতে এমন সাইজের কোরাল মাছ আর জেলেদের জালে ধরা পড়েনি। বিষখালীর নদীর মিঠা পানির যে কোন মাছ এ উপকূলে সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু। আর বিষখালীর ইলিশ মাছ দেশের সেরা স্বাদের মাছ হিসেবে স্বীকৃত। গত শনিবার ভোর রাতে ধরা পড়া ২০ কেজি ওজনের কোরাল মাছটি ২০জন ক্রেতা মিলে প্রতি কেজি এক হাজার টাকা দরে ২০ হাজার টাকায় কিনে নেন।

পাশ্বর্বর্তী বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ি জেলে পল্লীর মাছ শিকারী জেলে আবু জাফর বলেন, “সেই ছোটবেলা থেকে বিষখালী নদীতে মাছ ধরে আসছি। আমার জীবনে এ নদীতে এত বড় কোরাল মাছ আর পাইনি। এ নদীর পানি দারুণ মিঠা বলে যে কোন মাছের স্বাদও দারুণ।”

barguna-pic-1

তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বামনার রুহিতা চরের মোহনায় প্রতিদিনের মতো বেহেন্দী জাল পাতেন। শনিবার ভোররাতে তিনি ওই জাল উত্তোলন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। একা ওই জাল তিনি টেনে তুলতে গিয়ে ভয় পান। পরে সহযোগি আর এক জেলেকে ডেকে এনে দুইজনে মিলে জাল টেনে ২০ কেজির কোরাল মাছটি তীরে আনতে সক্ষম হন। পরে নিজ গ্রামে ক্রেতা না পেয়ে বামনা উপজেলা সদরের মাছের বাজারে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে উৎসুক জনতা মাছের বাজারে ভীড় করেন। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ি ইলয়াস মিয়া নয়শত টাকা কেজি ধরে মাছটি কিনে নেন। পরে ওই ব্যবসায়ি ২০জন ক্রেতার কাছে এক হাজার টাকা কেজি দরে মাছটি বিক্রয় করেন।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, কোরাল মাছ একটি সুস্বাদু মাছ। এ মাছ উপহ্রদ, নদী মোহনা ও স্বাদু পানিতে মেলে। উপকূলীয় অঞ্চলের সমুদ্রের মাছ কোরাল সাধারণত জোয়ার ভাটার নদীতে পানির উপরিভাগে বিচরণ করে। শুধু সুস্বাদুই নয় রূপালী বর্ণের কোরাল বেশ দৃষ্টি নন্দন মাছ। কোরাল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Megalops cyprinoides , ইংরেজি নাম Indo-Pacific tarpon । কোরাল মাছের স্থানীয় নাম অঞ্চলভে ভেটকী ও পাতারি।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন (আইউসিএন) এর ২০০০ সালের গবেষণার লাল তালিকা অনুযায়ী কোরাল মাছের প্রজাতি এখনও বিলুপ্তি কিংবা হুমকির সম্মূখীন নয়। এর কারণ হিসেবে নদী ব্যবস্থাপনা, মৎস্য বিভাগের প্রচেষ্টায় নদী মোহনায় মাছের অভয়আশ্রম তৈরি, উপকূলীয় জনমানুষের সচেতনতা ও কোরাল মাছের বাণিজ্যিক চাষাবাদে এ প্রজাতি এখনও মৎস্য সম্পদ হিসেবে সম্ভাবনাময় মাছ হিসেবে টিকে আছে।

এ বিষয়ে বামনা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান বলেন, “বিষখালী নদীর পানি অত্যন্ত মিঠা। পানিও বেশ স্বচ্ছ। ফলে এ নদীতে যে কোন মাছের স্বাদ আলাদা। জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের কোরাল মাছ ধরা পড়ার বিষয়টি মৎস্য সম্পদের জন্য আশার খবর।” তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিককালে বিষখালী নদীতে রেনু পোনা আহরণ বন্ধ হওয়ায় এ নদীতে মাছের বংশ বিস্তার ঘটছে। মৎস্য বিভাগ মনে নদীতে রেনু আহরণ বন্ধসহ মাছের প্রজনন মৌসুমে মাছধরা বন্ধ রাখতে পারলে বিষখালীর সুস্বাদু মাছে আরও সমৃদ্ধি বাড়বে।”

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: