Posted in

দেশের খাদ্যযোদ্ধারা ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত

নেত্রকোনা থেকে পার্বতী রাণী সিংহ
‘কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া ও কৃষক লাভবান হতে পারেন’ বিষয়ক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে নেত্রকোনায়। বারসিক আয়োজিত এই সভায় নেত্রকোনা জেলার চল্লিশা ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের আইপিএম ক্লাবের সদস্যবৃন্দ, সনুরা, বাঘরা, চল্লিশা, রামকৃষ্ণপুর,দড়িজাগি গ্রামের কৃষক,নেত্রকোনা সম্মিলিত যুব সমাজের সভাপতি পার্থ প্রথিম সরকার, বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো: অহিদুর রহমান ও নেত্রকোনা জেলা কৃষিবিপনন কর্মকর্তা মো: হাবিল মিয়ার উপস্থিত ছিলেন।


সভায় জেলা কৃষিবিপনন কর্মকর্তা মো: হাবিল মিয়া বলেন, ‘কৃষক কষ্ট করে খাদ্য উৎপাদন করেন কিন্তু সেই ফসলের সুফল ও মুনাফা লুটে খায় মধ্যস্বত্বভোগিরা। কৃষক তার ন্যায্যমূল্য পায় না। তবে কৃষক একটু সতর্ক হলেই ফসলের ন্যায্যমূল্য, প্রকৃত মূল্য পেতে পারেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশে কৃষি বিপনন অফিস কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি জানান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের রূপকল্প হচ্ছে উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তা সহায়ক কৃষি বিপণন ও কৃষি ব্যবসা উন্নয়ন। সে সাথে আধুনিক সুবিধা সংবলিত বাজার অবকাঠামো নির্মাণ এবং কৃষিপণ্যের বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের চাহিদা ও জোগান নিরূপণ, মজুদ ও মূল্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও অত্যাবশ্যকীয় কৃষিপণ্যের মূল্য ধারার আগাম প্রক্ষেপন এবং এ বিষয়ক তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রচার করাই হলো এ প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্য। কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, ‘আমরা যে ফসল ফলাই তার জন্য আমাদের এই বিপনন কেন্দ্রে এনে বিক্রির ব্যবস্থা করি। তবে ও কৃষি ব্যবসা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ কৃষক ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ সৃষ্টি ও সুষ্ঠু সরবরাহের প্রয়োজনীয় সহায়তা কৃষি বিপনন অফিসের কাছে সহযোগিতা চাই।’


কৃষিপণ্য উৎপাদন ও ব্যবসায় নিয়োজিত কৃষক, কৃষি ব্যবসায়ী, প্রক্রিয়াজাতকারী, রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ী সমিতিসমূহের সহিত নিবিড় সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ সুষ্ঠু বিপণনের স্বার্থে কৃষিপণ্য উৎপাদন এলাকায় বাজার অবকাঠামো, গুদাম, হিমাগার, কুলচেম্বার ইত্যাদি নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ করা জরুরি। কৃষিপণ্য ও কৃষি উপকরণের মজুদ বা গুদামজাতকরণ, পণ্যের গুণগতমান, মেয়াদ, মোড়কীকরণ ও সঠিক ওজনে ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম উন্নয়নে কৃষি বিপনন অফিসের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে ।


উল্লেখ্য, দেশের কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে দেশের জন্য খাদ্য উৎপাদন করেন। কিন্তু কৃষক প্রকৃত মূল্য পান না। খাদ্য উৎপাদন করতে যখন যান তখন সব উপকরণ চড়াদামে কিনতে হয়। আবার বিক্রি করতে গেলেই পানির দামে বিক্রি করতে হয়। কৃষক তাঁর উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য খাদ্যের প্রক্রিয়াজাত করতে পারেন, যা কৃষকদের লাভবান করবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.