Posted in

একজন আদর্শ কৃষক ছন্দু মিয়া

মো. নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ
‘ফুলের জলসায় নিরব কেন কবি, পবিত্রতা ও সৌর্ন্দয্যের প্রতিক ফুল’-এটি সৃষ্টির আদিকাল থেকেই শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আছে এবং থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বর্তমান সময়ে মানিকগঞ্জে ফুলে ফুলে স্বপ্ন বুনছেন অসংখ্য কৃষক। বিশেষত ফুল চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার শতশত ফুল চাষি। বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি তারা বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানেও সুযোগ করে দিয়েছেন।
কাশিমপুর, ফোর্ডনগর, জয়মন্টপ, ধল্লা, দশআনি, বাস্তা, খাসেরচর, ফোর্ডনগর, বাইমাইল, জামালপুর, চারাভাঙ্গা, কালিয়াকৈরসহ বেশ ক’টি গ্রামের মানুষ ফুলচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ওই সব রঙিন ফুলে গাঁথা রয়েছে তাদের জীবনের প্রতিটি স্বপ্ন। এখানের ফুল দখল করেছে মানিকগঞ্জ শহরসহ শাহবাগের বাজার। সিংগাইরের জমি ফুল চাষের জন্য বেশ উর্বর। অল্প সময়ে আর কম খরচের কারণে সিংগাইরে দিন দিনই বাড়ছে ফুলের চাষ। এরকমই একজন ফুলচাষী এবং ফুল বাগনের মালি সিংগাইর তালেবপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের ছন্দু মিয়া (৫৮)।

আদর্শ কৃষক হিসেবে পরিচিত ছন্দু মিয়া বলেন, ‘আমরা বাপ দাদার আমল থেকে কৃষি কাজ করে আসছি। এই জমিগুলো মূলত ধলেশ্বরী নদী দ্বারা প্রবাহিত হওযায় গ্রামের চারপাশের বেশিবভাগ জমি বালি ও বেলে দোআশ দ্বারা আচ্ছন্ন। যে কারণে এসব জমিতে অন্য ফসল উৎপাদন খুব ভালো ফল পাওয়া যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিংগাইর ফোর্ডনগরের ফুল বাগানো ধলেশ^রী নদী পাড়ের জমি। সেখানে আমার ভাইরা বাড়ি বিধায় তাদের ফুল বাগান দেখে আমি আকৃষ্ট হই এবং ফুল চাষ শুরু করি। এতে লাভও অন্য ফসলের তুলনায় ভালো। ইতিমধ্যে আমার জমির আশেপাশে দিয়ে সাদা গোলাপ, কেরেন গোল্ড, ওয়ান স্টার ও গাদা ফুল বেশ জমে উঠেছে। তাই আমি দেরি না করে শুরু করে দিলাম। এখন আমি ফুল বাগনে কাজ করে বেশ আনন্দিত ও শারীরিকভাবে সুস্থ। ভালো কিছু পেতে হলে কষ্টও সহ্য করতে হয়।’

তিনি জানান, অন্য ফসলের তুলনায় ফুল বাগানে সময়, পরিশ্রম, পানি, সারসহ বেশ বিনিয়োগ করতে হয়। বর্ষায় সামান্য পানিতেই সব তছনছ হয়ে যায়। ঘন কুয়াশায় সরিষা ফুলের মতো ম্যান্দা পোকাও ফুল বাগানে বেশ দেখা যায়। ফুল তুলতে ফুলের কাটার আঘাত আপনাকে সহ্য করতেই হবে। ফুলের চাহিদা সারাবছর একরকম থাকে না। তবে ১৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারিসহ বিশেষ দিনে বাগনে ফুল থাকুক আর না থাকুক ফুলের চাহিদা বেশি থাকায় পাইকারগণ গাছের ডগা পর্যন্ত তুলে নিতে চায়।


তিনি বলেন, ‘আমার এক বিঘা জমিতে অন্য ফসল করে সকল খরচ বাদে বছরে ১০-১২ হাজার টাকা লাভ হইতো। এখন ফুল চাষ করে বছরে কমপক্ষে এক লক্ষ টাকা লাভ হয়। এখন বিভিন্ন ধরনের পোকায় ফুলের বেশ ক্ষতি করছে, বাগনের খরচও আগের চেয়ে বেড়ে যাচ্ছে। তাই আমরা সরকারি কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করছি।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.