সাম্প্রতিক পোস্ট

সুরক্ষিত হোক অতিথি পাখির বিচরণ ক্ষেত্র

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ ॥
রূপ বৈচিত্রের দেশ বাংলাদেশ। ঋতু বদলের পালায় প্রকৃতিতে এখন শীতকাল। শীতের পাখায় ভর দিয়ে অতিথি পাখিরা হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নাতিশীতোষ্ণ আমাদের দেশে আসে। বাংলাদেশ তাদের আস্থার একটি ঠিকানা। প্রতিবছর শীতকাল এলেই জলাশয়, বিল, হাওড়, পুকুর ভরে যায় নানা রংবেরঙের নাম না জানা পাখিতে। আদর করে আমরা সেগুলোকে বলি অতিথি পাখি। মূলত এই অতিথি পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দেশে হাজির হয় নিজেদের জীবন বাঁচাতে। কিন্তু দিন দিন কমে যাচ্ছে এসব পাখির এদেশে আসার সংখ্যা। কারণ হিসেবে অনেকেই দায়ী করছে ঘনবসতি, দূষিত পরিবেশ, শিকারীদের থাবা এবং খাদ্যের অভাবকে।

0 (1)

অতিথি পাখির মেলাখ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের জলাশয় পাখিদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে থাকে শীতের শুরু থেকেই। গাছপালায় ঢাকা সবুজ এ ক্যাম্পাসের বুকে আছে বেশ কয়েকটি জলাশয়। বেশ কয়েকবছর ধরে এ জলাশয়গুলোকেই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছে শীতের অতিথি পাখিরা। তাই অতিথি পাখি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যেন একে অপরের পরিপূরক। প্রতিবছর ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে আসে অসংখ্য অতিথি পাখি। তবে দিন দিন পাখির আগমনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গবেষকরা মনে করছেন, পাখিদের বিরক্ত করায় অতিষ্ঠ হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ছে পরিযায়ী পাখিরা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাখিদের বিরক্ত না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। কিন্তু সেগুলো মানছে না কেউ। লেকের পাশের রাস্তা দিয়ে চলছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য উচ্চশব্দে মাইকিং, শোভাযাত্রার বাদ্য-বাজনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বহিরাগতদের গাড়ি, মোটরসাইকেলের হর্নের বিকট শব্দ। এমনকি লেকের পারে গাড়ি রেখে উচ্চশব্দে গান শুনতেও দেখা যায় দর্শনার্থীদের। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকটি পাখিশূন্য হয়ে পড়ছে।

এদিকে মানিকগঞ্জের নিলুয়ার বিল। বিলটির অবস্থান মানিকগঞ্জের দুই উপজেলা ঘিওর এবং দৌলতপুরের ঠিক মাঝখানে। পাশ দিয়েই চলে গেছে আরিচা-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক। সরজমিন গত শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শান্ত জলের বুকে কচুরিপানার সবুজ গালিচার মাঝে ঝাঁক বেঁধে ডানা মেলছে অতিথি পাখির দল। উড়ে চলা পাখির কিচির-মিচিরে মুখরিত চারিপাশ। মানিকগঞ্জের এই নিলুয়ার বিল প্রতিবছর শীত মৌসুমে হয়ে উঠে যেন পাখির আবাসস্থল। এবারও এ বিলে আবাস বেঁধেছে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখিসহ হাজারো অতিথি পাখি। কিন্তু পরিমাণে গত বছরের প্রায় অর্ধেক। শীতের আবেশে মানিকগঞ্জের পদ্মা ও যমুনা নদীর চরকে ঘিরে অতিথি পাখির কলরবও যেন থমকে গেছে। এবছর তিব্বতীয় মানিকচক, সাইবেরিয়ান ফিদ্দাসহ অনেক অতিথি পাখিই চোখে পড়েনি।

পাখি ও পরিবেশ বিষয়ক এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিগত ৫ বছরের তুলনায় আমাদের দেশে অতিথি পাখির সংখ্যা কমেছে শতকরা ৪০ ভাগ। এর কারণ হিবেবে অনেকেই জানান, মানবসৃষ্ট নানা কারণে কমে যাচ্ছে অতিথিদের সংখ্যা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সদস্য মো. মিজানুর রহমান জানান, অতিথি পাখি কমে যাওয়ার মূল কারণ হল, জনসচেতনতার অভাব এবং শিকারিরাও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবহিত নয়। পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন নেত্রী লক্ষ্মী চ্যাটার্জ্জী বলেন, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার, হত্যা, আটক ও ক্রয়-বিক্রয় দন্ডনীয় অপরাধ। যার শাস্তি ২ বছর কারাদ- এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা। আর আমরা যার যার অবস্থান থেকেই পারি এসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন করার। একটু সচেতনতাই পারে আমাদের দেশটাকে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত করে রাখতে।’

0 (2)

সরজমিন শনিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের জলাশয়ে চোখে পড়লো ‘পাতি সরালি’র সংখ্যাই বেশি। এছাড়া মাঝে মাঝে দেখা মিলে পানকৌড়ি, ধলাবুক ডাহুকের। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলাশয়গুলোতে পাখির সংখ্যা ও প্রজাতি সাধারণত বেড়ে থাকে। মূলত নভেম্বর মাসেই অতিথি পাখিরা বাংলাদেশে আসে। আবার মার্চের শেষ দিকে ফিরে যায় আপন ঠিকানায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের জরিপ বলছে, ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম অতিথি পাখি আসে। এ সময় ৯০ প্রজাতির অতিথি পাখি দেখা যায়। এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৫ প্রজাতিতে। যার মধ্যে ১২৬টি প্রজাতি দেশীয় এবং ৬৯টি অতিথি পাখি। এবার জাবির এ আঙ্গিনায় পাখির সমাগম ঘটেছে খুবই কম। পাখি গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, ‘অতিথি পাখিরা এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ মনে করে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সচেতনতার মাধ্যমে পাখিদের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ বসবাসের উপযোগী হওয়ায় সুদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে পাখিরা দল বেঁধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে পাড়ি জমায়। সাধারণত মানুষের পদচারণা, গাড়ির হর্ন, শোরগোলসহ নানাবিধ কারনে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন তুলি জানান, ক্যাম্পাসের জলাশয় পাখিদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে থাকে শীতের শুরু থেকেই। কিন্তু এবছর পাখির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসছে।

জানা যায়, পৃথিবীতে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে। এসব পাখিদের মধ্যে অনেক প্রজাতিই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় অন্য দেশে চলে যায়। শুধু ইউরোপ আর এশিয়ায় আছে প্রায় ৬০০ প্রজাতির পাখি। কিছু কিছু পাখি তাই প্রতিবছর ২২ হাজার মাইল পথ অনায়াসে পাড়ি দিয়ে চলে যায় দূরদেশে। উত্তর মেরু অঞ্চলের এক জাতীয় সামুদ্রিক শঙ্খচিল প্রতিবছর এই দূরত্ব অতিক্রম করে দক্ষিণ দিকে চলে আসে। আমাদের দেশে অতিথি পাখিরা অতটা পথ পাড়ি না দিলেও তারাও অনেক দূর থেকেই আসে। বরফ শুভ্র হিমালয় এবং হিমালয়ের ওপাশ থেকেই বেশির ভাগ অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এসব পাখিরা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তিব্বতের লাদাখ থেকে র্সেট্রাল এশিয়ান ইন্ডিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে প্রবেশ করে। এ ছাড়া ইউরোপ, দূরপ্রাচ্য (যেমন সাইবেরিয়া) থেকেও এসব পাখি আসে। এসব পাখিদের মধ্যে বাংলাদেশের অতি পরিচিতি অতিথি পাখি নর্দান পিনটেইল। এছাড়া স্বচ্ছ পানির বালি হাঁস, খয়রা চকাচকি, কার্লিউ, বুনো হাঁস, ছোট সারস পাখি, বড় সারস পাখি, হেরন, নিশাচর হেরন, ডুবুরি পাখি, কাদাখোঁচা, গায়ক রেন পাখি, রাজসরালি, পাতিকুট, গ্যাডওয়াল, পিনটেইল, নরদাম সুবেলার, কমন পোচার্ড, বিলুপ্ত প্রায় প্যালাস ফিস ঈগল (বুলুয়া) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও নানা রং আর কণ্ঠ বৈচিত্র্যের পাখিদের মধ্যে রয়েছে ধূসর ও গোলাপি রাজহাঁস, লেঞ্জা, চিতি, সরালি, বালি হাঁস, পাতিহাঁস, বুটিহাঁস, বৈকাল, নীলশীর চখাচখি, গিরিয়া, খঞ্জনা, পাতারি, জলপিপি, পানি মুরগি, নর্থ গিরিয়া প্রভৃতি।

0 (3)

পরিবেশ ও প্রকৃতি উন্নয়ন বিষয়ক বেসরকারী সংস্থা বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, ‘অতিথি পাখিদের বিচরণ নিরাপদ করার জন্য অতিথি পাখি, বক, ঘুঘু বিক্রয় বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাখি শিকার ও বিক্রয় বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার পাশাপাশি পরিকল্পিত বনায়ন, জলাভূমি ও জলাশয়গুলো সংস্কার করে অতিথি পাখিদের জন্য অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই দিন দিন আমাদের দেশে অতিথি পাখিদের ভিড় বৃদ্ধি পাবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে কমে যাচ্ছে অতিথি পাখি
শীতের মৌসুমের শুরু থেকে হিমালয় এবং সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে অতিথি পাখিরা আমাদের দেশের জলধারাতে আসতে শুরু করেছে। ৫/৭ বছর আগেও এখানে নানা প্রজাতির প্রচুর পাখি আসত এখন তা অনেক কমে গিয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিথি পাখির সংখ্যা কমছে। হিমালয়, সাইবেরিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং এবং মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু প্রজাতির পাখির জন্য শীত মৌসুমেও এসব এলাকা বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে।
তবে পাখি বিশেষজ্ঞ আব্দুস হান্নান দিনার বলেন, ‘জলাভূমি কমে যাওয়ায় এবং জলাশয় থেকে অনেক প্রজাতির মিঠা পানির মাছ বিলুপ্ত হওয়ায় অতিথি পাখি আগমনের সংখ্যা কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য বাস্তুসংস্থান এবং পরিবেশের ওপর হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অনেক প্রজাতির মাছ, পোকামাকড়, পাখি কমে যাচ্ছে এবং কিছু প্রাণীর বিলুপ্তি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে অতিথি পাখির আগমনের সংখ্যা কমছে এবং শীত মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই জলাভূমি শুকিয়ে যাওয়ায় অতিথি পাখিদের অবস্থানের সময় কমে যাচ্ছে।’

উপকারী অতিথি পাখি
শীতের অতিথি পাখিগুলো আমাদের দেশে এসে সৌন্দর্য প্রস্ফুটিত করার পাশাপাশি আমাদের যথেষ্ট উপকার সাধন করে। তাই অতিথি পাখিগুলোকে অতিথির মর্যাদা দেওয়া উচিত। প্রকৃতির ক্ষতিকর পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ, ইঁদুর খেয়ে ওরা ফসলের ও জলজ প্রাণির সুরক্ষা সাধন করে। কিছু পাখি প্রাণি ও উদ্ভিদের বংশ বিস্তারে সাহায্য করে। গাছের ডালে আশ্রয় নেওয়া পাখিগুলো গাছের ফাঁকে ফাঁকে থাকা পোকামাড়ক ধরে খায়। ফলে গাছপালা পোকার আক্রমণ হতে রক্ষা পায়। হাওর-বাওড়, বিল-ঝিল ও জলাশয়ে পাখিগুলো সাতার কাটায় পানিতে অক্সিন মেশার সুযোগ পায় এবং পানির ভারসাম্য রক্ষা পায়। পানিতে মাছের ক্ষতিকর পোকা ধরে খায়। এতে মাছের বংশ রক্ষা পায়। তাছাড়া পাখির মলমূত্র, বিষ্ঠা মাটিতে জমা হয়ে মাটিকে ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ করে তুলে। পাখি ও মৎস্যবিদদের মতে যে হাওরে যত বেশি পাখি মুক্ত ভাবে বিচরণ করবে সে হাওরে বা জলাশয়ে মৎস্য সম্পদ বেশি উৎপন্ন হবে। পৃথিবীর ৮০ শতাংশ পাখিই পোকা-খাওয়া পাখি। এই পাখিরাই পোকা-মাকড় খেয়ে আমাদের মূল্যবান বন-জঙ্গলের বৃক্ষসম্পদগুলোকে বাঁচিয়ে রাখে। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে আমরা এতো ব্যাপক পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করছি যে, আমাদের চারপাশ থেকে এখন পোকামাকড় বিলুপ্ত হয়ে আজ নানা প্রজাতির পাখিরাও বিলুপ্ত হতে চলেছে।

0 (4)

প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক বলেন, ‘এটা শুধু আমাদের দেশেরই সমস্যা নয়, সারা পৃথিবীর সমস্যা। সম্প্রতি ‘বিজ্ঞান’ নামক একটি জর্নালের মে সংখ্যার প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ বছরে পৃথিবী থেকে ৮০ শতাংশ পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ শেষ হয়ে গেছে। তো ৮০ শতাংশ পোকা শেষ হয়ে গেলে পাখি কী খেয়ে বেঁচে থাকবে? মানুষ এবং পরিবেশের জন্য কীটনাশক অত্যন্ত বিষাক্ত। পতিত জমিকে প্রাকৃতিক অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখা। কিছু ঘাস, কিছু লতাগুল্ম যে স্থানে রয়েছে সেখানেও তো পাখি থাকে। সেই পতিত জমিটুকুও তো নেই।’

সুরক্ষিত হোক অতিথি পাখির বিচরণ ক্ষেত্র
সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের সাথে অতিথি পাখিদের হৃদয়ের সম্পর্ক অনেক গভীর ও প্রাচীন। আমাদের অসচেতনতার অভাবে সামান্য স্বার্থের কারণে বা শখের কারণে আমরা শীতের পরিযায়ী পাখিদের শিকার করে মেরে ফেলছি। এতে করে আমরাই আমাদের এই সুন্দর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছি। পাখিরা নিজ আবাস ভূমি ছেড়ে চলে আসে। সেই পাখিগুলোর বেশিরভাগই আবার তাদের নিজ ভূমিতে শীত শেষে ফিরে যেতে পারে না এক শ্রেণির অর্থ লোভী পাখি শিকারিদের অত্যাচারে। এটা আমাদের জন্য খুবই মর্মদায়ক। মানুষের সৃষ্ট কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ নিজেদের স্বার্থের কারণে নির্বিচারে বন-জঙ্গল, পাহাড়, টিলা কেটে সাবাড় করে পশু পাখির আবাসস্থল ধ্বংস করে দিচ্ছে। তার প্রতিক্রিয়ার ফল প্রকৃতির ওপর পড়ছে। তাই মানব সমাজ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রকৃতি তার ক্ষতির প্রতিশোধ নিতে কাউকে রেহাই দিবে না। যেহেতু প্রকৃতির বড় একটি উপাদান পাখি সমাজ। তাই আমাদের দেশীয় পাখি কিংবা অতিথি পাখি বা পরিযায়ী পাখিই বলি না কেন তাদের রক্ষা করতে হবে। তাদের বিচরণ ক্ষেত্র সুরক্ষা করতে হবে। মুক্ত আকাশে উড়া খালে, বিলে, হাওর বাওড়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে তার ব্যবস্থা অবশ্যই আমাদের করতে হবে।

পাখি প্রকৃতির অলংকার। এ অলংকার ধ্বংস করা মানে পরিবেশ ধ্বংস করা। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য পাখির বিচরণ ক্ষেত্র মুক্তভাবে রক্ষা করতে হবে। আমাদের দেশ ক্রমে ক্রমে অতিথি পাখির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠছে। শুধু আইন দিয়েই পাখি শিকার বন্ধ করা যাবে না। যদি না সর্বস্তরের মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করে গড়ে তুলা না যায়। আমাদের চিত্তানন্দের উপাদান এই পাখিরা কিন্তু জীবন ও জীবিকার আশায় হাজার-অযুত পথ পাড়ি দিয়ে দিনের পরে রাত উড়ে উড়ে আসে আমাদের দেশে, আর এত পথ পাড়ি দিয়েও শেষ রক্ষা হয়না, আমাদের একটু বেআইনি ক্ষুদ্র আনন্দের শিকার হয়ে ওদের প্রাণ দিতে হয়! পাখি শিকার বন্ধ করে আমরা কি এই অতিথিদের প্রতি আরো একটু সদয় আর আরো একটু ভালোবাসার পরিচয় দিতে পারিনা ?

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: