Posted in

পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলার ব্যবহার বেড়েছে গ্রামাঞ্চলে

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে গাজী আল ইমরান ও চম্পা মল্লিক

জ্বালানি সাশ্রয়ী ও ধোঁয়ামুক্ত চুলার ব্যবহার বেড়েছে গ্রাম অঞ্চলগুলোতে। উদ্ভিদ নিধন ও পরিবেশ দূষণ কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়, ধোঁয়ামুক্ত এবং অল্প সময়ে স্বল্প খরচে রান্নার চুলার উপকার সম্পর্কে সচেতন অধিকাংশ মানুষ। এ চুলার বহুবিধ সুবিধা সম্বলিত থাকায় এটাকে আদর্শ চুলাও বলা হচ্ছে। এ চুলায় রান্নার কাজে সব ধরনের জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। রান্নায় কালো ধোঁয়া ও কালি কম হয়। কাঠখড়ি, গোবর খড়ি, বাঁশের খড়িসহ সকল প্রকার জ্বালানি পোড়ানো যায়। এছাড়াও এই চুলাটিতে ফেলে দেওয়া কাঠকয়লাও পোড়ানো যায়। কালো ধোঁয়া ও কোন প্রকার কালি ছাড়াই পরিবেশ বান্ধব উপায়ে কাঠ-কয়লা পুড়িয়ে রান্না করা যায় এবং কাঠ কয়লা সহজলভ্য হওয়ায়।

গ্রামের নারীরা জানান, তাদের অজ্ঞতার কারণে নিজেদের সমাস্যা নিজেরাই ডেকে এনেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ধোঁয়মুক্ত ও জ্বালানি সাশ্রয়ী রান্নাঘর ব্যবহারে একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয়ী হয়েছে ঠিক তেমনি শারীরিকভাবে ব্যপক উপকার পাচ্ছেন। কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে তারা এই চুলা ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছেন। এই চুলা ব্যবহারকারী আরো অনেকের অভিমত, এই চুলায় অল্প জ্বালানিতে বেশি রান্না সম্ভব এবং ধোঁয়া ও অনেক কম হয়।

m (2)
চুলা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, সাধারণ চুলার চেয়ে এ চুলায় ৩০-৪০ ভাগ জ্বালানি খরচ কম হয়। বিভিন্ন দিক দিয়ে সুবিধার কারণে উন্নত চুলার ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। শুধু তাই নয় একদিকে উন্নত চুলায় কম খরচে রান্না করা যেমন সম্ভব তেমনি অন্যদিকে একই সাথে পরিবেশ ও রাধুনির স্বাস্থ্য ভালো রাখাও সম্ভব। আর এই কারণে বর্তমানে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ উন্নত চুলা ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে।

ধুমঘাট গ্রামের জ্বালানি সাশ্রয়ী ও ধোঁয়মুক্ত চুলা ব্যবহারকারী ফাতেমা খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “এই চুলাতে রান্না করতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি এই চুলাতে রান্না করতে জালানির পরিমাণ অনেকাংশে কম লাগে। এছাড়া , ধোঁয়ার কারণে আগে শারীরিকভাবে অনেক ব্যাধি থাকলেও বর্তমানে অনেকাংশে ভালো অনুভব করছি।”

গৃহাভ্যন্তরে খোলা আগুনে রান্নার কথা আসলে স্বাস্থ্যের উপর এর ক্ষতিকারক প্রভাব একদিনে দুই প্যাকেট সিগারেট ধূমপান করার সমান হতে পারে। এবং এটি তাদের জন্য যারা গৃহাভ্যন্তরে রান্নার জন্য কাঠ এবং অন্যান্য জৈব জ্বালানি ব্যবহার করে থাকেন। অনেকাংশে দেখা যাচ্ছে, গৃহাভ্যন্তরে রান্নার ধোঁয়ার সংস্পর্শে থেকে সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হতে পারে, যেমন ফুসফুসের ক্যান্সার, স্ট্রোক, এবং হৃদরোগ।

এক্ষেত্রে স্পষ্টতই বলা যায় যে, আমাদের গৃহস্থালির বায়ু দূষণ কমানোর বিষয়ে আমাদের মনোযোগ দেয়া দরকার। এ জন্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি, উদ্ভিদ নিধন ও পরিবেশ দূষণ কমাতে অবশ্যই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে বিষয়টি যুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করা হয়।

 

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.