Posted in

নারী স্বাস্থ্যে জয়শ্রীর ভূমিকা

উপকূল থেকে বাবলু জোয়ারদার

শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের মানিকখালী গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে জয়শ্রী মন্ডল (১৬)। ছোটবেলা থেকে জয়শ্রী মন্ডলের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ ছিল পাশাপাশি নতুন কিছুও জানা বা বোঝার আগ্রহ ছিল। মায়ের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় সরকারি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত কিশোর কিশোরী প্রকল্পের অধীনে জেন্ডার, আবৃতি ও সংগীত শিক্ষায় সদস্য হিসেবে ভর্তি হয়। এখান থেকে শুরু হয় তার জীবনের পথচলা। বর্তমানে জয়শ্রী মন্ডল ভেটখালী এ করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী।

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জীবন-জীবিকা পরিচালনার জন্য আশেপাশের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীরা সবথেকে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন শুধুমাত্র নারীদের স্বাস্থ্য ও জীবন ব্যবস্থার উপরই প্রভাব তৈরি করে না, পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীদের জীবন জীবিকার উপর প্রভাব তৈরি ছাড়াও তারা বিভিন্ন ধরণের সেবা যেমন আবহাওয়ার পূর্বাভাস, প্রশিক্ষণ এবং দুর্যোগের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকার সুযোগ থেকেও নারীরা বঞ্চিত হয়।

উপকূল অঞ্চল দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্যোগ লেগেই থাকে। স্থানীয়ভাবে তার সাথে যোগাযোগের ফলে দুর্যোগ ব্যস্থাপনায় যুবশক্তি শীর্ষক কাজের মাধ্যমে নিরাপদ প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক সচেতনতা সভা ও যুব নারীদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে নারীদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সমস্যা বিষয়ে সম্যক ধারণা লাভ করেন এবং নিজে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। ন্যাপকিন স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় স্কুলের সহপাঠি ও বাড়ির আশে পাশের প্রতিবেশীদের সাথে নিরাপদ প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা করেন।

এই বিষয়ে জয়শ্রী মন্ডল বলেন, ‘নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে স্কুলের পাঠ্যবই থেকে অল্প অল্প জানা ছিল। নিরাপদ প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক সচেতনতা সভায় অংশগ্রহন করে এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে বা বোঝার পর অন্যদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের উপকূলীয় এলাকায় লবণ পানির সাথে বসবাস করতে হয় যে কারণে আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এই কর্মসূচি আরো বেশি বাস্তবায়ন করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগে অসচেতন ছিলাম কারণ আমরা বাড়ির বাদ দেওয়া কাপড় ব্যবহার করতাম। এটা স্বাস্থ্যসম্মত ছিলনা। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে আমাদের উপকার হচ্ছে সাথে স্বাস্থ্যও ভালো থাকছে। এই রকম প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুব নারীদের সচেতন করতে পারলে যুব নারীদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। সেই সাথে যুব নারীদের দক্ষতা, সক্ষমতা, ঐক্যতা বাড়বে। আমি নিজ উদ্যোগে ও বারসিক’র সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.