সাম্প্রতিক পোস্ট

ঘিওরে যুবকদের উদ্যোগে সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঘিওর, মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার
গ্রামীণ এই খেলাধুলাকে প্রচলন করানোসহ এ খেলাধুলায় যাতে শিশু-কিশোররা আগ্রহ দেখায় সেই লক্ষ্যে ‘নদী পথ সচল করি, নদীর প্রাণ রক্ষা করি’-এই ¯েøাগানকে সামনে রেখে বারসকি’র সহযোগিতায় এবং আলোর পথ’ সংগঠনের সদস্যদের উদ্যোগে সম্প্রতি ঘিওর উপজেলার নালী গ্রামীণ খেলা সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় ছোট কন্যা শিশু, ছোট কিশোর, মাঝারি কিশোর ও যুবকদের চারটি দল করে সাঁতার প্রতিযোগিতার অংশ নেয়। কান্তাবতি নদীতে সকাল ১০টার সময় সাঁতারের প্রতিযোগিতা শুরু হয় । সাঁতার খেলা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন ওই এলাকার যুবক মো. আকাশ, মো. হাসান, মিয়া মো. রতন, মানবেন্দ্র সরকার, রাজিব, আলিফ এবং আবির।


প্রতিযোগিতার আগে বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় সাঁতার প্রতিযোগিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সাঁতার না জানার জন্য অনেক শিশু কিশোর অকালে জলে ডুবে মৃত্যুবরণ করছে, সেখানে গ্রামের শিশুরা ছোট বেলা থেকে সাঁতার শিখতে নিজেদের মধ্যে উৎসাহিত তৈরি করতে এমন আয়োজন করা হয়।’ সংগীত শিল্পী বাদল দেওয়ান বলেন, ‘এমন আয়োজনে শিশুরা সাঁতার শিখতে উৎসাহিত হবে। কেউ যাতে পানিতে ডুবে মারা না যায় তাই সকলকে সাঁতার শিখতে হবে। নদীকে নিজের প্রয়োজনে টিকিয়ে রাখতে হবে। নদী থাকলে কৃষকসহ সকল প্রাণ ও প্রকৃতির উপকারে আসবে।’


উল্লেখ্য, সভ্যতার ক্রমবিকাশ আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলা। ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা নির্মল আনন্দের জীবন্ত উৎস, বিনোদনের খোরাক। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা মধ্যে বেশির ভাগই আজ বিলুপ্তির পথে। তারপরও গ্রামীণ জনপদে এখনও বয়েছে কিছু খেলাধুলা। একসময় গ্রামীণ সমাজের শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে অবসর সময় কাটাত। বিকাল হলেই খোলা মাঠে দল বেঁধে খেলতে যেত। কিশোর মানেই দৌড়ঝাঁপ, কোলাহল আর দূরন্তপনা। দূরন্তপনা ছাড়া যেন শৈশব কল্পনাই করা যায় না। অথচ প্রযুক্তির এ যুগে কিশোরদের মধ্যে বিশেষ করে শহরের কিশোরদের মধ্যে দূরন্তপনা যেন আর নেই বললেই চলে। ঘরে বসে মোবাইলে গেইম খেলতেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। গ্রামীণ খেলাধুলা আমাদের প্রাচীন ক্রীড়া সংস্কৃতি। একসময় গ্রামীণ খেলাধুলা আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করতো। বর্তমানে গ্রামীণ খেলা বিলুপ্তি হতে হতে আজ তার অস্তিত্ব খুজেঁ পাওয়াই কঠিন। দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রামগঞ্জে একসময় প্রায় শতাধিক গ্রামীণ খেলাধুলা প্রচলন ছিল। তার মধ্যে হা-ডু-ডু, কাবাডি, সাঁতার, নৌকা বাইচ, লাটিম, ঘুড়ি উড়ানো, সাতগুটি, ষোলগুটি, মোরগ লড়াই, দড়ি লাফ, চোর পুলিশ, ফুটবল, লাঠি খেলা, দাঁড়িয়াবাধা, কানামাছি, নড়িগুটি। গ্রামগঞ্জে উৎসবের সময় এখনো এসব খেলা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: