Posted in

জলাবদ্ধতা নিরসনে চাই খাল খনন

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে গাজী আল ইমরান

 
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কৃষি প্রাণবৈচিত্র্যনির্ভর জীবনযাত্রা সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে উপজেলার আদি  যমুনা খাল পুনঃখনন ও দখল মুক্তকরণসহ উপজেলার সরকারি খাল দখল মুক্তকরণ, পুনঃখনন এবং পানি অপসারণের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খালের ইজারা বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিডিও ইয়ুথ টিম।

এসময় তাদের দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে উপজেলা মৎস্য জীবি সমিতি, উপজেলা নাগরিক কমিটি এবং উপজেলা ভূমি কমিটির সদস্য বৃন্দ । গতকাল উপজেলাপরিষদ চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক দোলন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আক্তার হোসেনের নিকট লিখিত আবেদন জানান তারা। তাদের লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘নদী শুকিয়ে গেলে বা দূষিত হলে সভ্যতা বাঁচে না। নদী শুকিয়ে যাওয়া কেবল জলবায়ু বদল নয়, কৃষি, জীবন জীবিকা, স্বাস্থ্য ও প্রাণবৈচিত্র্যের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।’ তারা আরও বলেন, ‘আদিকাল থেকে যমুনা নদীর উপর নির্ভরশীল ছিল এ অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, প্রতিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য, জীবন জীবিকা, সভ্যতা ও সংস্কৃতি। যুগ যুগ ধরে যমুনা নদী সংযোগ এলাকায় কৃষক, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি, কবিরাজ, মৌয়াল, বাওয়ালসহ বাঙালি ও আদিবাসী গ্রামীণ জনগণ এক স্থানিক প্রতিবেশ নির্ভর জ্ঞান চর্চার মধ্য দিয়ে রক্ষা করে চলেছিল শস্য ফসলের জাত, কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্য ভান্ডার, গৃহস্থলী উপকরণসহ নানান গ্রামীণ পথ ও প্রযুক্তি। কিন্তু কালক্রমে জলবায়ু পরিবর্তন, ৬০ এর দশকের উপকূলীয় বাঁধ তৈরি, নদী দখল ও দূষণ, নদী সংযোগ খালগুলো ভরাট, অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষের কারণে ঐতিহাসিক যমুনা নদী ও নদীনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রা বর্তমানে ভয়াবহভাবে বিপন্ন। সুতরাং জলাবদ্ধতা নিরসন  ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছুটা হলেও  আদি যমুনাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

এসময় আবেদন কারীরা অতিদ্রুত বিপন্ন যমুনা নদী পূনঃখনন,উপজেলার সকল খাল থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, নদী সংযোগ খালসমূহ পূনঃখনন ও লবণ পানি মুক্ত করা, যমুনা খননসহ উপজেলার সকল বদ্ধ খাল মুক্ত করে স্থানীয় মাছের অভয়াশ্রমসহ অতীতের কৃষিপ্রাণ বৈচিত্র্য নির্ভর জীবনযাত্রা এবং জলাবদ্ধতা মুক্ত এলাকা তৈরির অনুরোধ জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা ভূমি কমিটির সদস্য মাষ্টার নজরুল ইসলাম,উপজেলা নাগরিক সুরক্ষা কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সাংবাদিক এসকে সিরাজ,উপজেলা ভূমি কমিটির সদস্য সাংবাদিক আবু সাইদ,গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার ও রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি গাজী আল ইমরান, সিডিও ইয়ুথ টিমের সদস্য সচিব আনিছুর রহমান,সদস্য হাফিজুর রহমান,আনিসুর রহমান মিলন,সামিউল ইসলাম মিলন সহ সিডিও ইয়ুথ টিমের সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.