সাম্প্রতিক পোস্ট

বলেশ্বর চরে বিপন্ন কুমির ছানা

দেবদাস মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি, উপকূলীয় অঞ্চল

সুন্দরবন উপকূলীয় বলেশ্বরের জোয়ারের তোড়ে ভেসে আসা একটি কুমির ছানা নদী তীরের চরে আটকা পড়েছিল। নদীর ভাটিতে চর শুকিয়ে গেলে কুমিরের ছানাটি নেমে যেতে না পারায় বিপাকে পড়ে। নদীতে মাছ ধরারত জেলেরা কুমির ছানাটিকে চরের মধ্যে ছটফট করতে দেখে ছানাটিকে আটক করে। পরে গ্রামবাসী খবর পেয়ে কুমির ছানাটিকে দেখতে সেখানে ভীড় করে। স্থানীয়রা সুন্দরবনের স্থানীয় টাইগার টিমকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপন্ন কুমির ছানাকে উদ্ধার করে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদ তীরবর্তী সাপলেজা ইউনিয়নের ক্ষেতাছিড়া চর থেকে শনিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এভাবেই বিপন্ন কুমির ছানাটি প্রাণে বেঁচে যায়।
devdas-pic-pic-kumir-
বন বিভাগ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার ফুট লম্বা কুমির ছানাটি দলছুট হয়ে সুন্দরবনের খাল থেকে জোয়ারের তোড়ে ভেসে এসে শনিবার বিকালে মঠবাড়িযার বলেশ্বর নদীর ক্ষেতাছিড়া চরে আটকা পড়ে। এরপর কুমির ছানাটি বৈরী আবহাওয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে চরের ভেতর ছটফট করছিল। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বলেশ্বর নদে মাছ ধরারত কয়েকজন জেলে বিষয়টি দেখতে পায়। জেলেরা কুমির ছানাটিকে প্রথমে বিশালকৃতির কোন গুই সাপ মনে করে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এরপর এটি কুমিরের ছানা বুঝতে পেরে কুমির ছানাটিকে আটক করে রাখে। পরে জেলেরা স্থানীয় টাইগার টিমকে খবর দেয়। সন্ধ্যায় টাইগার টিমের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে কুমির ছানাটিকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ বন বিভাগের স্টেশন অফিসার মো. মাসুদুর রহমান গতকাল রবিবার মঠবাড়িয়ার ক্ষেতাছিড়া গেলে টাইগার টীমের সদস্যরা উদ্ধারকৃত দলছুট কুমির ছানাটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।

পাথরঘাটা টাইগার টিমের সদস্য মো. আবদুল মান্নান মিয়া জানান, নদীর জোয়ারের পানি ও বৃষ্টির প্রভাবে পানির প্লাবণের তোড়ে সুন্দরবনের আবাসস্থল থেকে দলছুট হয়ে কুমির ছানাটি বলেশ্বর নদীর উপকূলবর্তী চরে আটকা পড়েছিল। নদীর জলে ভেসে এসে ক্ষেতাছিড়া চর থেকে কুমির ছানাটি খাদ্যের খোজে কিনারের দিকে আসতে থ্কালে একটি কাক ছানাটির পিছু নেয়। বিষয়টি স্থানীয়রা দেখে ফেলে কুমির ছানাটিকে আটক করে। পরে টাইগার টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কুমির ছানাটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।
devdas-pic-2-1
মঠবাড়িয়া উপজেলার ক্ষেতাছিড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো. আফজাল হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নদীর জোয়ারের জলের তোড়ে সুন্দরবন থেকে কুমির ছানাটি ভেসে এসে চরে আটকা পড়ে। খাদ্য সংকটে পড়ে ছানাটি লোকালয়ের দিকে আশ্রয় খুঁজছিল।”

এ ব্যাপারে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. কামাল উদ্দিন আহম্মেদ কুমির ছানা উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জোয়ারের তোড়ে দলছুট হয়ে কুমির ছানাটি নদী তীরের চরে আটকা পড়েছিল। রবিবার (২১ আপস্ট) সকালে বন বিভাগ কুমির ছানাটিকে উদ্ধার করে সুন্দরবনের দুধমুখী এলাকার প্রবহমান খালে কুমির ছানাটিকে অবমুক্ত করে দেওয়া হয়।

happy wheels 2
%d bloggers like this: