Posted in

আষাঢ়ে কদম ফুলের হাসি

মানিকগঞ্জ থেকে আব্দুর রাজ্জাক

‘এমন দিনে তারে বলা যায়/এমন ঘনঘোর বরিষায়’। বাংলা কবিতায় মতো এভাবেই বৃষ্টিস্নাত সজীবতার রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে বর্ষা। রূপময় ঋতু বর্ষার মেঘবতী দিনে কদম ছাড়া আষাঢ় যেন কল্পনাই করা যায় না। কদম না ফুটলে যেন বৃষ্টি ঝরে না! গাছে কদম ফুটেছে রিমঝিম বৃষ্টিতে এসেছে আষাঢ়।

কিন্তু দিন দিন প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা বর্ষার স্মারক কদম ফুল। মানিকগঞ্জের গ্রাম কিংবা শহরের সর্বত্রই বর্ষার আগমনীতে নিজেদের মেলে ধরতো আপন মহিমায় কদম ফুল। কিন্তু কদম গাছ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। কদমকে নিয়ে এতো কবিতা-গল্প আর ভালোবাসার পঙ্কিমালা; আষাঢ়ের বার্তবাহক সেই প্রিয় ফুলের গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। কদম এখন যেন একটি দুর্লভ ফুলের নাম।

001

কদম ফুলকে বলা হয়ে থাকে বর্ষার বিশ্বস্ত দূত। কাঠফাঁটা রোদে মানুষের হাঁসফাঁস করা গরমে অঝোর ধারায় বৃষ্টি-বর্ষণের জন্য প্রতীক্ষা বাসা বাঁধছে। বর্ষা মানেই গুচ্ছ গুচ্ছ কদমফুলের উপস্থিতি। বর্ষা মানে কদমফুলের মতই তুলতুলে নরম বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দের ধ্বনি।

উদ্ভিদ বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য মারফত জানা যায়, কদম নামটি এসেছে সংস্কৃত নাম কদম্ব থেকে। কদম্ব মানে হলো যা বিরহীকে দুঃখী করে। বৃত্তপুষ্প, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভী, মেঘাগমপ্রিয়, মঞ্জুকেশিনী, কর্ণপূরক, পুলকি এসবও কদম ফুলের নাম। প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে কদম ফুলের আধিপত্য। মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্যেও কদম ফুলের সৌরভমাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাথা রয়েছে। গীতাতেও রয়েছে কদম ফুলের সরব উপস্থিতি।

কদম ফুল শুধু বর্ষায় প্রকৃতির হাসি নয়, এর রয়েছে নানা উপকারিতা। কদম গাছের ছাল জ্বরের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কদম গাছের কাঠ দিয়ে দিয়াশলাই তৈরি করা হয়ে থাকে। বর্ষায় প্রকৃতির সতেজ-সজীব রূপ-রস যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয় জয় করে এসেছে।

পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান “বারসিক” এর আঞ্চলিক কর্মকর্তা বিমল রায় জানান, কদম ছাড়া বর্ষা বেমানান। সেই কদম ফুলের সৌন্দর্যে যেন দাগ পড়েছে! লাভের অঙ্কের হিসেব মিলাতে মানুষ আর কদম গাছ লাগাতে চাইছে না। কদম গাছের পরিবর্তে দামি কাঠের গাছ রোপণে ঝুঁকছেন তারা। তবে প্রকৃতির মাঝ থেকে কদম চিরতরে হারিয়ে গেলেও বাংলা সাহিত্যে রিমঝিম আষাঢ় প্রিয় কদমকে তার চিরসঙ্গী করে রাখবে।

 

2

ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ উজ্জামান জানান, মানুষ আধুনিক যুগে প্রাকৃতিক সৌদর্য্যকে ভুলে কৃত্রিম সৌন্দর্য্য তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় বাঙালি সংস্কৃতি ভুলতে বসেছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় গাছগাছালি ও ফলমূল। অপ্রয়োজনীয় মনে করে মানুষ এখন আর তার বাড়ির আঙিনায় কদম ফুলের গাছ লাগাতে চাইছে না। কদম গাছের জায়গায় এখন তারা মেহেগনি, রেইন্ট্রিসহ নানান দামি দামি কাঠের গাছ রোপণে ঝুঁকছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার পাশাপাশি সামাজিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.