Posted in

চর যুব জলবায়ু ঘোষণা ২০২৩

মানিকগঞ্জ থেকে বিমল রায়
আমরা বাংলাদেশের নতুন ব্রক্ষপুত্র,পদ্মা-যমুনা তথা মধ্য সমতল প্লাবনভূৃমি কৃষি প্রতিবেশ অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত মানিকগঞ্জ জেলার একঝাঁক তরুণ জলবায়ুযোদ্ধা। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য নানান প্রতিকূলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক বৈষম্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন আজ আমাদের জন্য এক হুমকি তৈরি করছে। বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চরাঞ্চল। নদীবিধৌত এই দেশে প্রায় দীর্ঘ নদী ও উপকূলেই চর আছে। চরাঞ্চল দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য, মৎস্যসহ প্রাকৃতিকসম্পদ ভরপুর অঞ্চল। চরের প্রকৃতি এবং লোকায়ত সংস্কৃতি বাংলাদেশের বিশেষ পরিচয়কে গর্বের সাথে বিশ্বের বুকে তুলে ধরে। চরাঞ্চল একইসাথে দেশের বিপন্ন পাখি এবং পরিযায়ী পাখিদের বিচরণস্থল। চরের কাশবন ও ঘাসবনগুলি বহু বন্যপ্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থল। দেশের কৃষি, পরিবেশ, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় চরাঞ্চল অবহেলিত।

নানা মেয়াদের বন্যা এবং নদীর পাড় ভাঙ্গন সামগ্রিকভাবে দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি করে প্রতিবছর চরাঞ্চলে। বন্যা, ভাঙন, কৃষিজমি বিনষ্ট, তীব্র তাপদাহ, মওসুমি খরা, অনাবৃষ্টি এরকম আবহাওয়াগত বিরূপ পরিস্থিতি বাড়ছেই। চরাঞ্চলের জীবন, প্রকৃতি ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় অবশ্যই আমাদেরকে চরাঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বিষয়ে মনোযোগী ও তৎপর হতে হবে। কেবল ধান নয়; চরাঞ্চলে দানা জাতীয় নানা শস্য, পাট, মরিচ, মিষ্টিকুমড়া, বাদামসহ নানা রবিশস্য ফলে। কিন্তু প্রতিনিয়ত চরাঞ্চলে নানা দুর্যোগ ও জলবায়ুগত সংকট বাড়ছে। বিশ্বব্যাপি জলবায়ু সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের জন্য সোচ্চার হচ্ছে মানুষ। বাংলাদেশ আন্তজার্তিক জলবায়ু ফোরামগুলোতে বারবার জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল গঠনের জোর দাবি জানিয়ে আসছে।

প্যারিস চুক্তিসহ (২০১৫) নানা ঘোষণা তৈরি করলেও বারবার বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সকল অঙ্গীকার ভঙ্গ করছেন। আমরা আশা করি বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাদের অঙ্গীকার পূরণে দ্রুত তৎপর হবেন। বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল গঠন এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে এই পৃথিবীকে নতুন প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তুলবেন। জলবায়ু সম্মেলনের ২৮তম আসরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুবাইতে। আসন্ন এই সম্মেলনের আগে আমরা পদ্মানদী বিধৌত মানিকগঞ্জের হরিরামপুর চরাঞ্চলে ‘চরাঞ্চল যুব জলবায়ু সম্মেলন ২০২৩’ আয়োজন করেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে চরাঞ্চলের সুরক্ষায় চর এলাকার নানা শ্রেণি-পেশা-লিঙ্গের মানুষ বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল গঠনের জন্য উক্ত সম্মেলনে বহুজন নিজেদের দাবি ও সুপারিশ উত্থাপন করেছেন। এসব দাবি ও সুপািরশ একত্র করে আমরা ‘চর যুব জলবায়ু ঘোষণা ২০২৩’ বাস্তবায়নের জন্য আহবান জানাচ্ছি।

চরাঞ্চল যুব জলবায়ু সম্মেলন ঘোষণাসমুহ
১. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল গঠন করতে হবে। চরাঞ্চলের জন্য এই বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
২. চরের জলবায়ু অভিযোজন ও প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা করতে হবে এবং চরাঞ্চলের জলবায়ু উপযোগী কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
৩. চরের নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।
৪. চরাঞ্চলের যুব সমাজকে জলবায়ু কর্মসূচি ও পরিকল্পনায় যুক্ত করতে হবে।
৫. চরাঞ্চলের জলবায়ুজনিত ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ ও ক্ষতিপূরণে চরবাসীর সবার মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. চরাঞ্চলে খাদ্যগুদাম, শস্য প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রসহ কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে।
৭. নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে চরাঞ্চলের জন্য অগ্রাধিকার দিতে হবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.