Posted in

বর্ষায় রকমারি মরিচ চাষ করি দুর্যোগ মোকাবেলায় ভুমিকা রাখি

সত্যরঞ্জন সাহা, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ
আমাদের দেশের কৃষি আবাদ প্রকৃতিনির্ভর। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কৃষিতে অতি বৃষ্টি, খরা, বন্যা ফসলের ক্ষতি হয়। কৃষক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করে। কৃষকগণ দুর্যোগ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় ঝুঁকি নিয়ে আবাদ করে থাকেন। ফলে আবাদে কখনো লাভ বা ক্ষতি হয়। দুর্যোগ মোকাবেলায় আবাদে খাপ খাওয়ানোর জন্য গভীর পানি ধান, উঁচু ভিটায় মসলা ও শাকসবজি চাষ, বর্ষার আগে ফসল গড়ে তোলা যায় এমন ধরনের ফসল আবাদ করে থাকেন। আবার একই জমিতে পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া আইলে রাঁধুনী চাষ করেন মিশ্র বা সাথি ফসল কাউন, তিল, বাঙ্গি চাষ এবং ব্যাপকভাবে মরিচ চাষ করেন। বারসিক শতবাড়িতে ও কৃষক পর্যায়ে বাড়িতে মরিচ করার জন্য কালো মরিচ, ধাইনা মরিচ, বরই মরিচ, সাদা মরিচ চারা ও বীজ দিয়ে সহযোগিতা করেন। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে বর্ষায় ও রৌদ্রের অতিরিক্ত তাপ বা খরায় মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যায়।
এই প্রসঙ্গে হরিরামপুরের আছমা বেগম (৩২) বলেন, ‘আমরা বাড়িতে মরিচের চারা রোপণ করি। বাড়িতে আট দশটি মরিচ গাছ থাকলে পরিবারের খাবার ভালোভাবে চলে। বর্ষার পানি মাঠে ঘাটে আসলেও বাড়িতে আসে না। ফলে মরিচ গাছ ভালো থাকে। বছরের খাবার হয়ে যায়। আমার বাড়ির সাইস্যায়/উঠানে বিন্দু মরিচ, কালো মরিচ আছে। বারসিক কালো মরিচের বীজ দিয়ে সহযোগিতা করে। আমিও অনেকে মরিচের চারা ও মরিচ বীজ নিয়ে বাড়িতে রোপণ করি। তাদের বাড়িতে ভালো হয়েছে। বাড়িতে মরিচ চাষ করতে সার বিষ লাগে না, এমনিতে ভালো হয়। বর্ষায় কাচা মরিচের দাম ভাল বেশি থাকে আমার উঠানের চাষকৃত মরিচ খেয়েও বাঁচে। খাবার অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ, শাকসবজি বিক্রয় করে সংসারে চলে।’


আন্ধারমানিকের রেবা সরকার (৫৮) বলেন, ‘গ্রামের কৃষক পরিবারে বাড়ির উঠানে সব সময় শাকসবজি ও মরিচ থাকে। আমাদের এখানে প্রতিবছরই বর্ষার পানি আসে। বাড়িতে চাষ করায় আমাদের বাজার থেকে কিনতে হয় না। আমরা পাকা মরিচের বীজ মাটি ভর্তি পাত্রে ছিটিয়ে দিয়ে মরিচের চারা তৈরি। তিন পাতা হলে উঁচু স্থানে রোপন করি। যে জায়গায় বর্ষার পানি আসে সেখানে মরিচ ভালো হয়। বর্ষা বা বন্যায় খাবার ভালোভাবে চলে। তাছাড়াও শাকসবজি চাষে নিজেদের খাবার ভালোভাবে চলে যায়। আমার নিকট থেকে মরিচের চারা ও শাকসবজির বীজ নিয়ে গ্রামের মানুষ জন চাষ করে। এজন্য আমি বীজ ও চারা তৈরি করে রাখি। মানুষকে চাষাবাদ তথ্য আবাদে সহযোগিতা করি।’
অন্যদিকে বাহিরচরের কৃষক সুচরন সরকার (৩৮) বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে কাঁচা মরিচের দাম ভালো থাকে। কিন্তু আমাদের এলাকা নিচু হওয়ায়, বর্ষার পানিতে মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যায়। তবে হরিরামপুরে ঐতিহ্য হলো কয়েক যুগ আগে থেকে আমাদের এলাকায় কৃষকগণ মাঠে মরিচ ও পেঁয়াজ চাষ করেন। মরিচ চাষের কারণ হলো গাছে মরিচ ধরলে প্রায় প্রতিদিন মরিচ তুলে বিক্রয় করা যায়। মরিচ চাষে খরচ খুবই কম। নিজেই বীজ সংরক্ষণ করে আবাদ করতে পারি। এলাকায় মরিচের ফলন ভালো হয়। কিন্তু বর্ষায় মরিচ চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অতিবৃষ্টি বা বর্ষার পানিতে মরিচ গাছের চারা মারা যায়। বর্ষা মৌসুমে উঁচু জায়গায় মরিচ আদা হলুদ ও শাকসবজি আবাদ করে বর্ষা বা বন্যার সময় খাদ্য নিরাপত্তায় সহায়ক হয়।’
দুর্যোগ মোকাবেলায় বাড়ির পতিত জায়গায় ও উঁচু ভিটায় মরিচ চাষ করি। বাড়ির আনাচে কানাচে অল্প পরিমাণে চারা রোপণ করে সারা বছরের খাবারের ব্যবস্থা সহজেই করতে পারি। বাড়ির জায়গার ব্যবহার করার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.