সাম্প্রতিক পোস্ট

নার্সারি করে সফল বাচ্চু মিয়া

কলমাকান্দা নেত্রকোনা থেকে গুঞ্জন রেমা

কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া। পরিবারে আর্থিক সমস্যা থাকার কারণে লেখপড়ায় বেশিদূর এগুতে পারেননি তিনি। তাই ছোটকাল থেকেই বাবার সাথে কাজ করতেন নিজেদের কৃষি জমিতে ও নার্সারিতে। ধানচাষ করা, নার্সারির প্যাকেটে মাটি ভরা, বীজ রোপণ করা এবং এক স্থান থেকে অন্যস্থানে বীজ ও চারা নিয়ে যাওয়াই তার নিত্যদিনের কাজ ছিলো। এভাবেই নার্সারির সব কাজ বাবার সাথে করতে করতে তিনিও একসময় মোটামুটি দক্ষ হয়ে ওঠেন।

IMG_20170606_134913
তবে সংসার চালাতে গিয়ে আর্থিক সমস্যার জন্য একসময় পারি জমান শহরে। গাজীপুরের একজন বড় কৃষকের বাড়িতে কাজ করতে শুরু করেন। সেখানে তিনি কয়েকবছরে কৃষিকাজ করেন তিনি। কাজের অবসরে যে সময়টুকু পেতেন সেই সময়টি তিনি তাঁর মালিকের জমিতে নার্সারি করতে শুরু করেন। এজন্য অবশ্য মালিকের অনুমতি ও সহহযোগিতার প্রয়োজন ছিলো। নার্সারিতে তিনি ৪ হাজার কাঁঠালের চারা করেন। কাঁঠালের চারা বিক্রি করে তিনি যে টাকা আয় করেছিলেন সবই মালিককে বুঝিয়ে দেন। মালিক খুশি হয়ে তাকে সেখান থেকে ১৫ হাজার টাকা বকশিস দেন। সেই ১৫ হাজার টাকা দিয়ে তিনি গ্রামে ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তারপর আরো এক বছর নার্সারি করে মালিককে সব কিছু বুঝিয়ে দিয়ে চলে আসেন নিজ গ্রামে। গ্রামে এসে বাবার তিল তিল করে গড়ে তোলা নার্সারিতে ক্লান্তিহীন শ্রম দিতে থাকেন। তার এই অক্লান্ত শ্রমের ফলে তাদের নার্সারি দিন দিন বড় হতে থাকে ও জনপ্রিয় হতে থাকে। বর্তমানে তিনি প্রায় ১২ কাঠা (৯৬ শতাংশ) জমিতে নার্সারি করছেন।

নার্সারি করে তিনি লাভবান হয়েছেন। যার জন্যই নার্সারির পরিধি দিন দিন আরো বড় হচ্ছে। এবছর তিনি রানীগাঁও নামক গ্রামেও ২৪ শতাংশ জমিতে নার্সারি স্থাপন করেছেন। কচুগড়া নামক গ্রামেও আরো ৮০ শতাংশ জমি কিনেছেন নার্সারি করার উদ্দেশ্যে। প্রতিদিনই বাড়ি থেকে অনেক ক্রেতা চারা নিয়ে যাচ্ছেন। কাছের দুটি বাজারেও চারা বিক্রি করেন।

নার্সারি করে তিনি এ পর্যন্ত দুই একর জমি ক্রয় করেছেন। প্রতিবছর তিনি চারা বিক্রির টাকা দিয়ে ছোট ছোট গরু কিনে আদি দিয়ে দেন। বড় করে তা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এখনো তার আদি দেওয়া ২টি গাভী ও ৫টি ষাড় গরু আছে। যা তিনি আগামী কোরবানী ঈদের সময় কম করে হলেও ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

IMG_20170606_134757
বাচ্চু মিয়ার ৩ মেয়ে এক ছেলে। দুই মেয়েকে দূর্গাপুর দাখিল মাদ্রায় লেখাপড়া করার জন্য হোস্টেলে রেখেছেন। আর দুটি সন্তান ছোট তাই বাড়িতেই আছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন তার সন্তানেরা একদিন লেখাপড়া করে বড় চাকরি করবেন। যার জন্যই ছেলেমেয়েদের মানুষের মতো মানুষ করে লেখাপড়া করাতে চাচ্ছেন। কষ্ট করা বিষয়ে বলেন, “আমি সারাক্ষণ কষ্ট করি, মাটি ও গোবর মিশাই, পলিব্যাগে মাটি ভরি, বীজ রোপণ করি, আগাছা পরিষ্কার করি, মাটিতে পলিব্যাগসহ চারা পুঁতে দিই, সেচ দিই, চারা তুলে বিক্রি করি- এমন নানা কাজের মধ্য দিয়ে আমার দিন শেষ হয়।”

কাজের মধ্যে ডুবে থেকে সারাদিন কাটিয়ে দেন বাচ্চু মিয়া। একার পক্ষে এত বড় নার্সারি সামাল দেওয়াটা তার জন্য খুবই কষ্টাসাধ্য ব্যাপার হলেও তিনি তার করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের আরও চারা করার ইচ্ছা আছে তাঁর। তিনি আশাবাদী যে, একদিন তার নার্সারিতে তিনি সকল ধরণের চারা রাখতে পারবেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: