সাম্প্রতিক পোস্ট

‘কুটি কদম’ নাম পেল অচিন বৃক্ষটি (ফলোআপ)

‘কুটি কদম’ নাম পেল অচিন বৃক্ষটি (ফলোআপ)

মানিকগঞ্জ থেকে আব্দুর রাজ্জাক:

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লাউতা গ্রামের প্রায় ২শত বছর বয়সী বৃক্ষটির নাম জানত না কেউ। নাম না জানার কারণে গাছটি ‘অচিন বৃক্ষ’ নামেই পরিচিত ছিল এলাকার মানুষের কাছে। গাছটি ঘিরে স্থানীয়দের মাঝেও রয়েছে নানা কৌতূহল, রয়েছে নানা কথা-উপকথা। অবশেষে সেই বিরল প্রজাতির অচিন বৃক্ষটি অবশেষে নাম পেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম ও বাংলাদেশ প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনোমিস্ট সমিতির যৌথ গবেষণায় ২০০ বছর বয়সী বৃক্ষটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনার পর ‘কুটি কদম’ নাম দিয়েছে।

Ghior (Manikgonj)নাম না জানা এই অচিন বৃক্ষ নিয়ে সম্প্রতি প্রকৃতি, পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক বারসিক নিউজ.কম এ একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হয় বাংলাদেশ প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনোমিস্ট সমিতির কর্মকর্তাদের। গত শনিবার (৩১ মার্চ) দিনভর একটি গবেষণা দল গাছটির পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণ দলে ছিলেন, বাংলাদেশ প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনোমিস্ট সমিতির সভাপতি ড. এম মতিয়ুর রহমান, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাসান, ভাইচ প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগম, ড. মো. খায়রুল আলম, অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল পাশা, ড. মাহবুবা সুলতানা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম এর উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান, ফিল্ডম্যান ওয়াজেদ আলী। সার্বিক সহযোগিতা করেন হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরেফিন রেজওয়ান। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল বাশার সবুজ, দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি শফি আলম প্রমুখ।

বাংলাদেশ প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনোমিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, এই উদ্ভিদটি Rubiaceae পরিবারের Mitragyna Diversifolia প্রজাতির একটি বনজ উদ্ভিদ। সাধারণত সচরাচর এ বৃক্ষ বাংলাদেশে চোখে পরে না। ভাওয়াল, গজনী ফরেস্ট, গড় মধুপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট পাহাড়ী এলাকায় এ বৃক্ষ রয়েছে। তবে সংখ্যায় তা খুবই নগণ্য।

২০০ বছরের পুরনো প্রাচীনতম এ গাছটি একনজর দেখার জন্য কৌতূহল নিয়ে উৎসুক দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। জানা যায়, আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুরের চালা ইউনিয়নের লাউতা গ্রামের এখলাছ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তৎকালীন ভারতের কোচার অঞ্চল থেকে একটি গাছ এনে জমিতে রোপণ করেছিলেন। গাছটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে ডালপালা ছড়িয়ে আজ বিশালাকার ধারণ করেছে। ভিনদেশী গাছ হওয়ায় এবং দেশীয় প্রজাতির কোনো গাছের সাথে মিল না থাকায় স্থানীয়রা গাছটির নাম দেন অচিন বৃক্ষ। পরে এ নামেই পরিচিতি লাভ করে।

লাউতা গ্রামের ধিরাজ খান নামের ৮০ বছর বয়সের এক ব্যক্তি জানান, “ছোটবেলা থেকে এ গাছটি এমনই দেখছেন তিনি। এমনকি তার বাবা তোফাউদ্দিন বেপারির কাছে এ গাছের বয়স সম্পর্কে অনেক গল্প শুনেছেন।”

গবেষকরা বলেন, বৃক্ষটি ঘিরে ওই এলাকায় পর্যটনশিল্প গড়ে উঠতে পারে। গাছটি যেন বেঁচে থাকে আরো বহুদিন, তার সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষনাবেক্ষণ করা জরুরি। এবিষয়ে আমরা যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: