Posted in

পিতার চিকিৎসা খরচ যোগানে স্কুলছাত্র মুরাদের উদ্যোগ

মো. মনিরুজ্জামান ফারুক,ভাঙ্গুড়া (পাবনা) থেকে

আব্দুল জলিল। বযয়স ৩৫ বছর। তিন সন্তানের জনক। প্রায় ৬ মাস আগে সড়ক দূর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে ঘরে শয্যাশায়ী। নানা দুশ্চিন্তায় সময় কাটে তার। এ পর্যন্ত তার চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ টাকা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পা সম্পূর্ণ ভালো হতে ব্যয় হবে ১০/১২ লাখ টাকা।

কিন্তু দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে এতো টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। নিজের চিকিৎসার খরচ যোগাতে সহায় সম্বল যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছেন। মাথা গুজার মতো এক টুকরা ভিটে মাটি ছাড়া এখন আর কিছু নেই তাদের। প্রতিদিন ৩০০ টাকার ওষুধ কিনতে হয় তার জন্য। এছাড়া সংসার খরচ তো আছেই। স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ সংসারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারটি।

Faruk Photo Bhangoora Pabna -06-09-2018(2)

পরিবারের এমন দুঃখ-দুর্দশায় বসে থাকতে পারেনি মেধাবী স্কুলছাত্র মুরাদ। অসুস্থ পিতার চিকিৎসার খরচ যোগান দিতে সে ভ্যান চালানোর কাজ বেছে নিয়েছে। স্থানীয় প্রিজম স্কুলে নবম শ্রেণীর ছাত্র মুরাদ প্রতিদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই ভ্যান গাড়ি নিয়ে বের হয়ে পড়ে। প্রতি বৃহস্পতিবারে ক্লাস কম থাকায় ওই দিন সে বিদ্যালয়ে যায় না। দিন শেষে যা আয় হয় পিতার জন্য ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরে। এ বয়সে ভ্যান চালাতে কষ্ট হলেও সে এখন নিরুপায়।

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের বোয়ালমারি গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে শয্যাশায়ী আব্দুল জলিল জানান, ‘গত ১৫ মার্চ মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তায় আসার পথে জালেশ্বর গ্রামে পৌঁছালে ধান মাড়াই মেশিনের সাথে মোটর সাইকেলের ধাক্কায় তার ডান পা ভেঙে চুর্ণ বিচুর্ণ হয়ে যায়। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

Faruk Photo Bhangoora Pabna -06-09-2018(1

বর্তমানে তিনি ঢাকার ভিশন আই হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোফাখখারুল বারী’র তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি মাসে একবার তাকে ঢাকায় যেতে হয়। এতে খরচ হয় মোটা অঙ্কের টাকা। আব্দুল জলিলের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘আত্মীয় স্বজনের কাছে দেনা করতে করতে ৩ লাখ টাকা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকেও রয়েছে ৮০ হাজার ঋণ। এদিকে স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় ও সংসার খরচ চালাতে আর পারছি না।’ স্বামীর চিকিৎসার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.